kalerkantho


পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

ধর্মের নামে সন্ত্রাস বরদাশত করব না : প্রধানমন্ত্রী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ধর্মের নামে সন্ত্রাস বরদাশত করব না : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। ছবি : বাসস

জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজের সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনরায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে সব সময় আমাদের সরকার কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে, নিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী দিনেও নেবে। কারণ এ দেশে কোনো জঙ্গিবাদের স্থান হবে না।

ধর্মের নাম নিয়ে কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডও আমরা বরদাশত করব না। ’

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীতে গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর লালবাগের ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সরকারপ্রধান মন্দিরে পৌঁছার পর সেখানকার পূজারিরা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। তিনিও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করেন। বেশ কিছু সময় ভক্ত-পূজারিদের সঙ্গে নিয়ে পূজার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে উপস্থিত ভক্তদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের প্রতিটি ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের মানুষ এক হয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছে। সবার রক্ত একাকার হয়ে মিশে গেছে এ দেশের মাটিতে। মুসলিম, হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সবাই এ দেশের স্বাধীনতার জন্য রক্ত দিয়েছে।

তাই সব ধর্মের মানুষ তাদের এ দেশটাতে ঐক্যবদ্ধভাবে বসবাস করবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশটা সব ধর্মের জন্য, সবাই এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বাস করবে। যার যার ধর্ম সম্মানের সঙ্গে পালন করবে, একজন অন্যজনের ধর্মের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। সুন্দরভাবে মানুষ বাঁচবে, উন্নত জীবন পাবে, সেটাই আমি আশা করি। ’

শেখ হাসিনা আরো বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। আসুন, সবাই মিলে আমরা এ দেশকে গড়ে তুলি। এ দেশ যত উন্নত হবে, সমৃদ্ধশালী হবে বিশ্বসভায় ততই আমরা মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হব। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম, সৌহার্দ্যের ধর্ম, ভ্রাতৃত্বের ধর্ম। এখানে কিন্তু জঙ্গিবাদের কোনো জায়গা নেই। কিন্তু যারা এই সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, তারা ধর্মবিরোধী কাজই করে। ধর্মের অবমাননা করে। তিনি বলেন, “আমাদের ইসলাম ধর্মে স্পষ্ট বলা রয়েছে ‘লাকুম দিনুকুম ওয়ালিয়াদিন’, অর্থাত্ যার যার ধর্ম তার তার কাছে। সবাই নিজস্ব মত ও পথ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মকর্ম পালন করবে। ” তিনি আরো বলেন, ‘সব ধর্মেই কিন্তু শান্তির কথা বলা হয়েছে, মানবতার কথা, মানবকল্যাণ, মানব উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। কাজেই এটা আমাদেরও মেনে চলতে হবে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সংঘাত চাই না; সমৃদ্ধি চাই, উন্নতি চাই। যে উন্নতির ছোঁয়া একদম গ্রামের তৃণমূলের মানুষ পর্যন্ত পাবে। ’

হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে বিপুল উত্সাহের সঙ্গে দুর্গাপূজা উদ্যাপিত হচ্ছে। আমি চাই, আপনারা প্রার্থনা করবেন আমাদের এ দেশটার যেন উন্নতি হয়। দেশের মানুষ যেন শান্তিতে বসবাস করে। আমরা বাংলাদেশকে যেন দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। ’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকন, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এন চট্টোপাধ্যায়, কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার পাল, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাপস কুমার পাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য হাজি মো. সেলিম এমপি, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেনগুপ্ত বক্তব্য দেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, ঢাকেশ্বরী মন্দিরের সেবায়েত প্রদীপ কুমার চক্রবর্তীসহ মন্দিরে আসা ভক্তরা উপস্থিত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী পরে রাজধানীর টিকাটুলীর রামকৃষ্ণ মিশনে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি বলেন, সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা পালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এ সময় তাঁর সরকারের আমলে বিভিন্ন উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ প্রতিটি উৎসব যেন শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারে।

আওয়ামী লীগের অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির কথা তুলে ধরে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘সমগ্র বাংলাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে যার যার ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করবে, এটাই আমাদের নীতি। বাংলাদেশের সবার মধ্যে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ ও বাংলাদেশের মাটিতে প্রতিটি ধর্মের মানুষ সম্মানের সঙ্গে যার যার উৎসব পালন করবে। সেই পরিবেশটা গড়ে তুলতে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। প্রতিটি ধর্মের উৎসব সবাই যেন মিলে পালন করতে পারে, সেটাই নিশ্চিত করতে হবে। ’ সূত্র : বাসস।


মন্তব্য