kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘূর্ণিঝড় ম্যাথিউ

ফ্লোরিডায় ৫০০০ বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত

হাইতিতে নিহত ৮৭৭ যুক্তরাষ্ট্রে ৪

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফ্লোরিডায় ৫০০০ বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত

হাইতির পর যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা হারিকেন ম্যাথিউর প্রভাবে পানিতে সয়লাব সাউথ ক্যারোলাইনার চার্লসটনের একটি আবাসিক এলাকা। গতকাল তোলা ছবি। ছবি : এএফপি

শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ম্যাথিউর আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চারজন নিহত হয়েছে। বিদ্যুত্হীন হয়ে পড়েছে পাঁচ লাখের বেশি ঘরবাড়ি।

এর মধ্যে বেশ কয়েকটি শহরে পাঁচ হাজারেরও বেশি প্রবাসী বাংলাদেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েক হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্থানের বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে এ ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে হাইতিতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৭। এ সংখ্যা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাস্তুচ্যুত হয়েছে দেশটির প্রায় এক লাখ মানুষ।

দক্ষিণ ফ্লোরিডায় বসবাসরত একাধিক বাংলাদেশি ব্যবসায়ী কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ম্যাথিউর তাণ্ডবে বাংলাদেশি অধ্যুষিত মনরো, মার্টিন, ওকিচোবি, সারাসোটা, মানাটি, চার্লোট, পামবিচ, মায়ামি-ডেড, ব্রয়ার্ড, লি ও হাইল্যান্ড কাউন্টির পাঁচ হাজারেরও বেশি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাসস্থানের বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বাস করে। বাসস্থানের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেকেই ছুটছে বিভিন্ন দোকান ও হোটেলে তাদের সেলফোন চার্জ করতে। সেলফোন বন্ধ থাকায় প্রবাসীদের সঙ্গে আত্মীয়স্বজন যোগাযোগ করতে না পেরে চিন্তিত হয়ে পড়েছে অনেকেই।

ম্যাথিউর কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা, জর্জিয়া, সাউথ ক্যারোলাইনা ও নর্থ  ক্যারোলাইনায় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। প্রবল ঝড়ের কারণে এসব এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে। ফ্লোরিডায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে সপরিবারে নিরাপদ জায়গায় চলে এসেছে প্রবাসীরা। দক্ষিণ ফ্লোরিডার পুলিশ ও ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরা টহল জোরদার করেছেন। বাইরে কোনো লোক বা গাড়ি চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না। ভুতুড়ে নগরীতে পরিণত হয়েছে বিদ্যুৎবিহীন এলাকাগুলো।

ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে কিউবা ও হাইতি অতিক্রম করতে শুরু করে ম্যাথিউ। গত শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে সেটি ফ্লোরিডার ঊপকূলীয় এলাকার কাছে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় হারিকেন সেন্টারের তথ্য মতে, সে সময় ডেটোনা সৈকত থেকে ৩৫ মাইল পূর্বে অবস্থানরত ঝড়টি ঘণ্টায় ১৩ মাইল বেগে উত্তর-পশ্চিমে এগোচ্ছিল।

জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেছেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট ঢেউয়ের কারণে জীবনহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। ’ চার বছর আগে ঘূর্ণিঝড় স্যান্ডি আঘাত হানার পর ম্যাথিউ যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।

ম্যাথিউ হাইতিতে কী ধ্বংসযজ্ঞ রেখে গেছে, তা বের করতে উদ্ধারকর্মীরা কাজ করছেন। দেশটির উপকূলীয় এলাকার ঘরবাড়ি তছনছ হওয়ার পাশাপাশি রাস্তাঘাটগুলোও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাগর থেকে উঠে আসা পানিতে আবাসিক এলাকাগুলো ডুবে গেছে। বেশ কিছু মানুষ কলেরায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফল ও ফসল নষ্ট হওয়ায় আশঙ্কা তৈরি হয়েছে খাদ্য ঘাটতির। দুর্গত এলাকায় ত্রাণও পৌঁছানো যাচ্ছে না। জাতিসংঘ বলছে, বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র এই দেশে এই মুহূর্তে সাড়ে তিন লাখ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন। দেশটির বহু প্রতীক্ষিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।

২০১০ সালে সহস্রাধিক মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া ভূমিকম্পের ক্ষত এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেনি হাইতি। ওই ভূমিকম্পের পরেও দেশটিতে মহামারি আকারে কলেরা ছড়িয়ে পড়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বাহামাতেও বিদ্যুত্ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, উপড়ে গেছে বহু গাছ। সেখানে কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।


মন্তব্য