kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরিজে ফেরার ম্যাচে ইতিহাসের প্রেরণা

মাসুদ পারভেজ   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



সিরিজে ফেরার ম্যাচে ইতিহাসের প্রেরণা

অন্য কারো কথা বাদ দিন। এত দিন পেরিয়ে গেলেও খোদ বাংলাদেশ দলের কেউই এখনো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হারটি বিশ্বাস করতে চান না!

অবিশ্বাসভরা চোখে তাকিয়ে থাকার মতো তেমন আরেকটি দুঃস্মৃতিও এবার যোগ হলো।

নিশ্চিত যে ইংল্যান্ডের কাছে গত পরশু রাতের হারও মাশরাফি বিন মর্তুজাদের বহু দিন আত্মজিজ্ঞাসায় ব্যাকুল করে তুলবে!

সেই ব্যাকুলতার সঙ্গে আবার আকুলতাও আছে। এমন নয় যে আজ দ্বিতীয় ওয়ানডে জিতে সিরিজে ফেরার জন্যই শুধু আকুল হয়ে আছে বাংলাদেশ শিবির। আকুলতা জেতা ম্যাচ হেরে পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জেতারও। যাতে মিশে আছে দৃঢ় বিশ্বাসও।

এ বছরই ছয় মাসের ব্যবধানে অবিশ্বাস্য দুটি হারের ধাক্কাও সে বিশ্বাস টলাতে পুরোপুরি ব্যর্থ। কারণ একই পরিস্থিতি থেকে সিরিজ জেতার সাধ্যের প্রমাণও তো এরই মধ্যে দিয়ে রেখেছে এই বাংলাদেশ। গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে হওয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল খেলে দেশে ফিরেই পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ ও ভারতের বিপক্ষে জেতার পর দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে সিরিজের প্রথম ম্যাচের হার বড় এক ধাক্কা হয়েই এসেছিল বাংলাদেশের জন্য। সেই ধাক্কা সামলেও তো প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ঠিক সিরিজ জেতা গেছে।

সেবার যখন গেছে, তাহলে এবার কেন নয়? ইংলিশদের বিপক্ষে নিশ্চিত জয়ের পথে হেঁটেও পথহারা হওয়ার হতাশার রাত থেকে এই প্রশ্নটিও তো স্বাগতিক শিবিরে কম উচ্চারিত হচ্ছে না। একের পর এক ক্যাচ ফেলে বেন স্টোকসকে সেঞ্চুরি করতে দেওয়া, কোনো কোনো বোলারের ছন্দহীন বোলিং এবং ইমরুল কায়েস আর সাকিব আল হাসানের ব্যাটে সহজ জয়ের তীর দেখার পরও ছন্দপতন—এত কিছুর পরও তাই চন্দিকা হাতুরাসিংহে অগ্নিমূর্তি ধারণ করেননি। হেড কোচ বরং শিষ্যদের ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে অনুপ্রেরণার জোগানই দিয়ে যাচ্ছেন বলে খবর।

যদিও সেটি নিয়ে খেলোয়াড়দের মুখ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ভাষ্য পাওয়ার উপায় গতকাল ছিলই না। প্রচণ্ড গরমে প্রাণশক্তি শুষে নেওয়া প্রথম ওয়ানডের পরের দিনটি হোটেলেই পার করে দেওয়া বাংলাদেশ দলে যে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল। তাই দলের অবস্থা জানার ভরসা হয়ে উঠলেন ম্যানেজার খালেদ মাহমুদই। তাঁর কথায় একাধিকবার দলের মনোভাব ফুটেও উঠল। প্রথম ওয়ানডের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন উদ্যমে ঝাঁপিয়ে পড়ার সংকল্পের শিরোনাম যে ‘২-১’ হয়ে উঠেছে, বাংলাদেশ দলের সাবেক এ অধিনায়ক সেটিই বেশি জোর দিয়ে শোনালেন, ‘এই সিরিজ থেকে এখনো অনেক কিছু পাওয়ার আছে আমাদের। ১-০ তে পিছিয়ে থাকলেও এটি ২-১ হতে পারে। এই বিশ্বাসটা আমাদের সব খেলোয়াড়ের মধ্যেই আছে। ’

নিজেদের সেই বিশ্বাসের ভিত এমন মজবুত যে মাহমুদকে এমন কথাও বলতে শোনা গেল, ‘আমরা এই সিরিজ হারার কথা চিন্তাই করছি না। আমরা সামনের দিকেই তাকাচ্ছি। তা ছাড়া আমরা ভালো খেলছিও। তাই এই সিরিজ জেতার ক্ষমতাও আমাদের আছে। ’ অবশ্য ইংলিশরাও আজই সিরিজের নিষ্পত্তি করে ফেলতে মরিয়া হয়ে থাকবে। খাদের কিনার থেকে ফিরে এসে পাওয়া জয়ে নিশ্চয়ই তাঁদের আত্মবিশ্বাসের গাঁথুনিও মজবুত হয়েছে আরো। তবে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আরেকটি লড়াইয়ের আগে ঝরঝরে হয়ে নিতেই সম্ভবত কালকের ঐচ্ছিক অনুশীলনে আসেননি ইংলিশ শিবিরের সিংহভাগ ক্রিকেটারই।

তাঁরা বিশ্রামে দিনটি পার করে দিলেও হোটেলে ব্যস্ততার অন্ত ছিল না বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের। দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে। কখনো বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসানের সঙ্গে বসতে হয়েছে তো কখনো আবার হাতুরাসিংহের ডাকে বসতে হয়েছে ভুলের চুলচেরা বিশ্লেষণে। দিনভর একাদশ গঠন নিয়ে নানামুখী আলোচনা অবশ্য উপসংহারেও পৌঁছাতে পারেনি। প্রথম ম্যাচে ইমরুল-সাকিবের পার্টনারশিপ জয়ের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পরও কেউ ‘ফিনিশ’ করে আসতে পারেননি। সেই সূত্রেই আলোচনাটা উঠেছে যে একাদশে ‘ফিনিশার’ নামে পরিচিত নাসির হোসেন থাকলে হয়তো জিততেও পারত বাংলাদেশ।

তাতে একাদশে একজন ব্যাটসম্যানও বাড়ে। আবার অফ স্পিনার নাসিরকে দিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি ২০১৫-র বিশ্বকাপে এমনকি পাওয়ার প্লেতেও বোলিং করিয়েছেন। তার ওপর ইংলিশ দলে বেশ কয়েকজন বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের উপস্থিতিও নাসিরের পক্ষ নিচ্ছে। আবার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে নাসিরের অন্তর্ভুক্তির দাবিটা রীতিমতো গণদাবিও হয়ে উঠতে চলেছে। কিন্তু প্রথম ওয়ানডেতে ৩ ওভারে ২৩ রান খরচ করার পাশাপাশি স্টোকসের সহজ ক্যাচ ফেলে সমালোচিত বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেনের জায়গায় একাদশে নাসিরকে নেওয়ার বিষয়ে গত রাত পর্যন্তও কোনো কিছু স্থির করতে পারেনি টিম ম্যানেজমেন্ট।

দুপুরে দলের ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করে র্যাডিসন হোটেল থেকে বের হওয়ার পথে বোর্ড সভাপতির কথায়ও তা নিয়ে দোটানার আভাস ছিল, ‘নাসির কার জায়গায় খেলবে? ওকে আনতে হলে তো রুবেলকে (মোশাররফ) সরাতে হবে। ’ তাঁকে সরিয়ে নাসিরকে খেলালে সাকিব হয়ে যাবেন দলের একমাত্র বাঁহাতি স্পিনার। সে ক্ষেত্রে তিনি কোনো কারণে ব্যর্থ হলে ইংলিশ ডানহাতি ব্যাটসম্যানদের সামলাতে বিপাকে পড়বে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে একাদশে মাহমুদ উল্লাহ ও তরুণ মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে তৃতীয় অফ স্পিনার নাসিরের অন্তর্ভুক্তি কতটা যুক্তিযুক্ত হবে, উঠেছে সেই প্রশ্নও। তা ছাড়া প্রথম ম্যাচে ইংলিশ বাঁহাতি ব্যাটসম্যানরা সফল হয়েছেন বলে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে যে ডানহাতিরা হবেন না, সেই দিব্যিও তো কেউ দেয়নি। একই সঙ্গে দ্বিতীয় ম্যাচে আস্থার প্রতিদান দিয়ে ফেলতে পারেন মোশাররফও। এ কারণেই ‘লাইফ লাইন’ এ বাঁহাতি স্পিনার পেয়ে যেতেও পারেন।

একাদশ সাজানো নিয়ে নানা বিকল্প থাকলেও সিরিজে নিজেদের ‘জীবন’ বাঁচিয়ে রাখতে একটি পথই অবশ্য খোলা আছে বাংলাদেশের সামনে। আজ জিততেই হবে। সেই লক্ষ্যে স্বাগতিকদের কাছে গত বছরের দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজটি হয়ে উঠেছে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও। সেই সুরের দোলায় দুলতে দুলতেই তো ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জেতার বিশ্বাসে লাগছে জোর হাওয়া!


মন্তব্য