kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শোলাকিয়া হামলার পরিকল্পনাকারী

আকাশ জেএমবির ঢাকা বিভাগের কমান্ডার ছিল

এস এম আজাদ   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



আকাশ জেএমবির ঢাকা বিভাগের কমান্ডার ছিল

ধারাবাহিক অভিযানে জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) নব্য ধারার জঙ্গিরা নিহত হওয়ার পর ফরিদুল ইসলাম আকাশ ওরফে জয়নাল আবেদীন আকাশ ওরফে কমান্ডার আকাশকে ঢাকা বিভাগের সামরিক কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সে-ই ছিল কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহর কাছে হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী।

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার সময়, অর্থাৎ তিন মাস আগে গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে আস্তানা গড়ে তোলে জঙ্গিরা। কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের কর্মকর্তারা বলছেন, আরেকটি বড় নাশকতা চালানোর জন্য ওই আস্তানায় সাত জঙ্গিকে জড়ো করা হয়েছিল। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গাজীপুর জেলা পুলিশ ও সোয়াত টিমের সহায়তায় গতকাল ওই আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। ‘অপারেশন শরতের তুফান’ নামের ওই অপারেশনে আকাশ নিহত হয়। সিটিটিসি ইউনিটের কর্মকর্তারা আরো বলছেন, ফরিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন এবং আকাশ—এগুলো সাংগঠনিক বা ছদ্মনাম হতে পারে। এই জঙ্গির বাড়ি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বলেও তথ্য মিলেছে।

গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে গাজীপুরের নোয়াগাঁও পাতারটেক এলাকায়। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের একটি দোতলা বাড়িতে অভিযান শেষে সাত জঙ্গির লাশ পাওয়ার খবর দেয় পুলিশ। এর আগে গাজীপুরের হাড়িনালের আরেকটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে মারা যায় দুই জঙ্গি। বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের বলেন, তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর আকাশের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবি সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়।

দুপুরে সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক সামরিক কমান্ডার আকাশসহ কয়েকজন জঙ্গি ওই বাড়িতে আছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযানে চালানো হচ্ছে। ’

সিটিটিসি ইউনিটের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, গুলশান হামলার তদন্ত করতে গিয়ে আকাশের নাম উঠে আসে। সে শোলাকিয়া হামলার একজন পরিকল্পনাকারী। সম্প্রতি ধারাবাহিক অভিযানে কয়েকজন জঙ্গি নিহত হওয়ার পর আকাশকে ঢাকার কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

সূত্র মতে, গত বছরের ২৫ নভেম্বর রাজধানীর গাবতলীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে নিহত হয় নব্য জেএমবির ঢাকার কমান্ডার ফুজ ওরফে আলবানি ওরফে হোজ্জা ওরফে আব্দুল্লাহ। এরপর ১৩ জানুয়ারি হাজারীবাগে ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় জেএমবির দুই ‘কমান্ডার’ হীরন ওরফে কামাল ও আবদুল্লাহ ওরফে নোমান। এ ছাড়া ফারদিন সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জে এবং রাজধানীতে পৃথক অভিযানে মারা গেছে আরো কয়েকজন কমান্ডার। এ অবস্থায় আকাশকে ঢাকা বিভাগীয় কমান্ডারের দায়িত্ব দিয়ে পরবর্তী নাশকতার জন্য তৈরি করা হয়। গুলশান হামলার মামলায় গ্রেপ্তারকৃত জঙ্গিরা তামিমের অন্যতম সহযোগী আকাশের নাম প্রকাশ করে। তারা জানায়, আকাশের নেতৃত্বে ঢাকার উপকণ্ঠে জঙ্গিদের জড়ো করা হয়। এরপর কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদীতে হামলা চালাতে যায় তারা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তদন্তে আকাশ ওরফে জয়নাল আবেদীন আকাশ নামের একটি নাম পেয়েছি। তবে এই ব্যক্তিই সেই আকাশ কি না তা এখনই বলা যাবে না। এ ব্যাপারে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। ’

এদিকে হাড়িনালের জঙ্গি আস্তানায় নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে র‌্যাব। সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বাড়ির মালিক আতাউর রহমানের কাছে থাকা ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম অনুযায়ী নিহতরা হচ্ছে রাশেদ মিয়া এবং তৌহিদুল ইসলাম। তাদের বাড়ি নরসিংদীতে। বাড়িওয়ালাকে রাশেদ মিয়া জানিয়েছিল, সে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আর আতাউর রহমান গাজীপুরের জয়দেবপুরের ঢাকা ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (ডুয়েট) ছাত্র ছিল।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, গুলশান, শোলাকিয়াসহ সাম্প্রতিক ঘটনার তদন্তে তৌহিদুল ইসলাম নামটি এখনো আসেনি। তবে গুলশানের ঘটনার তদন্তে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ নামের এক জঙ্গির তথ্য পাওয়া গেছে। আজিমপুরে অভিযানে নিহত তানভীর কাদেরীর ছেলে তাহরীম কাদেরী ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে এ নামটি জানায়। নিহত জঙ্গি সেই রাশেদ কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।


মন্তব্য