kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


এক দিনে ১২ জঙ্গি নিহত

নিজস্ব প্রতিবেদক গাজীপুর, সাভার ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



এক দিনে ১২ জঙ্গি নিহত

গাজীপুরের পাতারটেকে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানের একপর্যায়ে সতর্ক অবস্থায় পুলিশ। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাজীপুর, টাঙ্গাইল ও সাভারে চার আস্তানায় র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযানে নব্য জেএমবির ১২ জঙ্গি নিহত হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত এসব অভিযান চালানো হয়।

এর মধ্যে গাজীপুর সদরের নোওয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকায় পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছে সাতজন। তার আগে সদরের হাড়িনালের লেবুবাগান এলাকার একটি বাড়িতে র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছে দুই জঙ্গি। আর টাঙ্গাইল সদরের কাগমারা মির্জা মাঠ এলাকায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছে দুজন। সন্ধ্যায় আশুলিয়ায় র‌্যাব অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে আবদুর রহমান ওরফে নাজমুলকে। নব্য জেএমবির অর্থ জোগানদাতা হিসেবে চিহ্নিত রহমান রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। আশুলিয়ার আস্তানা থেকে ৩০ লাখ টাকাসহ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। প্রায় ৯ ঘণ্টার অভিযানে গাজীপুরের দুই আস্তানা থেকে একে টোয়েন্টি টু রাইফেল, নাইন এমএম পিস্তল, বিস্ফোরক, গুলি, চাপাতি, গ্যাস সিলিন্ডার ও ল্যাপটপ জব্দ করা হয়েছে। গুলশান হামলার পর এ নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে গত তিন মাসে পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে ৩৩ জঙ্গি নিহত হলো।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, তিন মাস আগে ছাত্র পরিচয়ে পাতারটেকের বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা। সেখানে নিহত সাতজনের মধ্যে নব্য জেএমবির ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক কমান্ডার ফরিদুল ইসলাম ওরফে আকাশও রয়েছে। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি। সবার বয়স ২৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। লেবুবাগানে নিহত দুজন হলো রাশেদুল মিয়া ও তৌহিদুল ইসলাম। উভয়ের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীতে। রাশেদুল এইচএসসি পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির অপেক্ষায় ছিল। তৌহিদুল ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (ডুয়েট) পড়ত। লাশগুলো গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইলে নিহত দুজন হলো আতিকুর রহমান আতিক ও সাগর হোসাইন। আতিকের বাবার নাম লতিফুর রহমান, বাড়ি রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার নিমপাড়ায়। সাগরের বাবার নাম জোনোয়েদ হোসাইন, বাড়ি চারঘাটের ইউসুফপুরে।

খবর পেয়ে গতকাল বিকেল ৪টার দিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান গাজীপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পুলিশের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি মোখলেসুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেন মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তামিম চৌধুরী নিহত হওয়ার পর আকাশের নেতৃত্বেই নব্য জেএমবি সদস্যরা সংঘবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করেছিল। অভিযান শেষে পাতারটেকের আস্তানায় তিনটি অস্ত্র, কয়েকটি চাপাতি ও একটি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া গেছে। সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। ভবনের ভেতরে ১৩-১৪টি গ্রেনেড বিস্ফোরণের আলামত দেখা গেছে। অভিযান চলাকালে জঙ্গিদের হামলায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। তবে তিনি এখন সুস্থ আছেন।

এ সময় ডিএমপির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছানোয়ার হোসেন বলেন, আকাশ শোলাকিয়া হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিল।

গতকাল ভোরে গাজীপুর মহানগরের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাড়িনালের লেবুবাগান এলাকার একটি বাড়িতে প্রথমে অভিযান চালায় র‌্যাব। সকাল ১০টার দিকে লেবুবাগান থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে পাতারটেক মডেল টাউনের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট ও সোয়াট টিমের যৌথ দল। অভিযান চলাকালে গাজীপুরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ ছিল।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন-অর-রশিদ সাংবাদিকদের জানান, নব্য জেএমবির (জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ) ঢাকা বিভাগের আঞ্চলিক কমান্ডার আকাশ সহযোগীদের নিয়ে অবস্থান করছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সকাল ১০টার দিকে পাতারটেক মডেল টাউনের ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। দোতলা বাড়িটির মালিক সোলায়মান সরকার সৌদি আরবপ্রবাসী। তাঁর ভাই কালীগঞ্জ উপজেলার জাঙ্গালিয়া ছিদ্দিকিয়া আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক ওসমান আলী বাড়িটি দেখাশোনা করতেন। সেখানে অভিযানে আকাশসহ সাত জঙ্গি নিহত হয়। অভিযান শেষ হলে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ও সিআইডির (পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ) ক্রাইম সিন ইউনিট ভেতরে প্রবেশ করে।

পাতারটেকের বাড়িটিতে অভিযানে নেতৃত্ব দেন সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাসাটির দোতলায় ‘জঙ্গি আস্তানা’ আছে—এমন সন্দেহে তাঁরা সকাল ১০টার দিকে অভিযান শুরু করেন। প্রথমে ভেতরে থাকা জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়। তবে তারা ভেতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। তার আগে ওই বাসার নিচতলার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। জঙ্গিদের কাছে কী পরিমাণ অস্ত্র রয়েছে এবং তারা সংখ্যায় কতজন, শুরুতে তা জানতে না পারায় সাবধানতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করতে হয়েছে।  

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, সোয়াত ও জেলা পুলিশের সমন্বয়ে বিপুলসংখ্যক পুলিশ গাজীপুর শহরের পাতারটেকের ওই বাড়িতে অভিযান চালায়। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়ে অভিযান চলে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত। অভিযানের শুরুতে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ আত্মরক্ষায় পাল্টা গুলি চালালে জঙ্গিরা নিহত হয়। তাদের মধ্যে আকাশও রয়েছে। বাকিদের পরিচয় তাৎপণিক পাওয়া যায়নি। পুলিশ ভেতরে প্রবেশের সময় জঙ্গিরা গ্যাস সিলিন্ডার ছোড়ে আগুন ধরিয়ে আলামত নষ্ট করতে চেয়েছিল। কিন্তু ফায়ার সার্ভিস তা রোধ করে দেয়।

গতকাল অভিযান শেষে বাড়িটি দেখতে হাজারো মানুষ ভিড় জমায়। বিকেলেও বাড়ির ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল; বারুদের গন্ধও পাওয়া যাচ্ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাউকে বাড়ির ভেতরে ঢুকতে দেননি। বাড়িটি অনেকটা নির্জন স্থানে এবং আশপাশের বাড়িগুলোর তুলনায় সেটি বানানো হয়েছে বেশ নিচু এলাকায়। স্থানীয় লোকজন জানায়, বাড়ির নিচতলার ভাড়াটিয়াদের চিনলেও দোতলায় কারা থাকত সে বিষয়ে এলাকার লোকজন কিছু জানত না। বাড়ির মালিক বা তাঁর ভাইকেও স্থানীয় লোকজন খুব একটা চেনে না। মালিকের বাড়ি কালীগঞ্জের জাঙ্গালিয়ায় বলে শুনেছে তারা।

স্থানীয় লোকজন বলছে, পাতারটেকের বাড়িটিতে জঙ্গি আস্তানা আছে, অভিযান শুরুর আগে এ বিষয়ে কিছুই জানত না এলাকাবাসী। অভিযানের খবর শুনে এবং মুহুর্মুহু গুলির শব্দ পেয়ে লোকজন ওই বাড়ির আশপাশে জড়ো হয়। সকাল ১০টায় অভিযান শুরু হয়। থেমে থেমে গুলি চলে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত। বাড়ির দোতলায় অভিযান চালায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ।  

দোতলা বাড়িটির পাশের বাসার বাসিন্দা গাজী ইকবাল হোসেন কালের কণ্ঠকে জানান, ওই বাসায় জঙ্গি থাকত, এ রকম কিছু তাঁর চোখে পড়েনি। অভিযানের সময় প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে চলা গুলির শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লেবুবাগানে অভিযানের বিষয়ে র‌্যাব-১-এর কমান্ডার লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে লেবুবাগান এলাকার এক তলা একটি বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। বাড়িটির মালিক ব্যবসায়ী আতাউর রহমান। বাড়ির তিনটি ফ্ল্যাটের মধ্যে একটিতে দুই জঙ্গি অবস্থান করছিল। বাড়ির অন্য ভাড়াটিয়ারা এ সময় ফ্ল্যাটে ছিল না। র‌্যাব প্রথমে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানায়। তাতে রাজি না হয়ে একপর্যায়ে জঙ্গিরা র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। থেমে থেমে দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। সকাল ১০টার দিকে সাড়া না পেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে দুই জঙ্গির লাশ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। জঙ্গিদের কাছে ভারী অস্ত্র থাকায় অভিযান শেষ করতে সময় লাগে।  

র‌্যাব-১-এর গাজীপুর অঞ্চলের কমান্ডার মহিউল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনাস্থল থেকে একটি একে টোয়েন্টি টু বোরের রাইফেল, তার ২০-২৫টি গুলি, একটি নাইন এমএম পিস্তল, তার ৬০-৭০টি গুলি, তিনটি চাপাতি, বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও একটি ল্যাপটপ জব্দ হয়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লেবুবাগানের ওই বাড়িটির মালিক আতাউর রহমানও স্থানীয় নন। তাঁর বাড়ি গাজীপুর সদরের বাড়িয়া ইউনিয়নের ছাতিয়ানী গ্রামে। ঢাকার মহাখালীতে তাঁর স্টেশনারি দোকান রয়েছে। দেড় মাস আগে তিন ইউনিটের এক তলা বাড়িটির নির্মাণকাজ শেষ করেন তিনি। গত সেপ্টেম্বরে সেখানে ভাড়াটিয়া ওঠে।  

আতাউর রহমানের আত্মীয় সোলায়মান মিয়া কালের কণ্ঠকে জানান, তিন ফ্ল্যাটের একটিতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ভ্যানচালক নানজু মিয়া থাকেন। একটিতে মামুন নামের এক যুবক থাকে। অন্য ফ্ল্যাটটি রাশেদুল ও তৌহিদুল নামের দুই ছাত্র ভাড়া ছিল। আতাউর রহমানই তাদের ভাড়া দিয়েছিলেন।

বাড়ির মালিকের বরাত দিয়ে সোলায়মান জানান, রাশেদুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির কথা বলে বাসা ভাড়া নিয়েছিল। তৌহিদুল জানিয়েছিল সে ডুয়েটে পড়ে। দুজনই তাদের পরিচয়পত্র জমা দিয়েছিল। সেগুলো র‌্যাবকেও দেওয়া হয়েছে। র‌্যাব তা যাচাই-বাছাই করছে।

এ বাড়ির আশপাশের বাসিন্দাদের ৯০ শতাংশই গার্মেন্ট শ্রমিক বা দরিদ্র পরিবারের। তাদের অনেকেই জানায়, ঘুম থেকে উঠে তারা সশস্ত্র র‌্যাব সদস্যদের ওই বাসার সামনে দেখেছে। তবে সেখানে জঙ্গি থাকত কি না এ বিষয়ে তাদের কোনো ধারণা নেই।  

স্থানীয় লোকজন বলছে, ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া নানজু মিয়া ও মামুনকে তারা চেনে। নানজু মিয়া বলেন, ‘শুনেছি ফজরের নামাজের পরপরই অভিযান শুরু হয়েছে। ’ তবে তিনি বা তাঁর স্ত্রী কোনো শব্দ পাননি। সকালে স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁর স্ত্রী গার্মেন্টে চাকরিতে গেছে। তিনিও কাজে বের হয়েছেন। অন্যদের কাছে শুনে সকাল ৭টার দিকে ফিরে এসে দেখেন বাসার সামনে র‌্যাব।  

পাশের বাড়ির বাসিন্দা কলেজ ছাত্র সাদ্দাম হোসেন বলে, ‘কখন অভিযান শুরু হয়েছে জানি না। সকাল ৬টার দিকে ঘুম থেকে উঠে ওই বাসা ও এর আশপাশে অনেক র‌্যাব-পুলিশ দেখেছি। তবে কোনো গুলির শব্দ পাইনি। দুপুর আড়াইটার দিকে দুটি লাশ ওই বাসা থেকে বের করতে দেখেছি। ’  

টাঙ্গাইলে অভিযানে নিহত দুই জঙ্গি : টাঙ্গাইল সদরের কাগমারা এলাকায় জঙ্গি আস্তানায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয়েছে দুই জঙ্গি। জঙ্গিদের হামলায় র‌্যাবের দুই সদস্যও আহত হয়েছেন। অভিযান শুরু হয় সকাল সাড়ে ১০টায়, চলে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত।  

র‌্যাব-১২-এর অধিনায়ক শাহাবুদ্দিন জানান, বিশ্বস্ত সূত্রে তারা জানতে পারেন, কাগমারা আবাসিক এলাকায় মির্জা মাঠের কাছে একটি বাড়িতে জঙ্গিরা আস্তানা গেড়েছে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে র‌্যাবের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। র‌্যাব সদস্যরা প্রথমে বাসার নিচতলার একটি কক্ষে থাকা জঙ্গিদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় জঙ্গিরা র‌্যাব-১২ সিপিসি-৩-এর কম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকীকে জাপটে ধরে। তিনি নিজেকে ছাড়িয়ে নিলে র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে জঙ্গিরা। র‌্যাবও পাল্টা গুলি ছোড়ে। প্রায় ১০ মিনিট গোলাগুলি চলে। এ সময় র‌্যাব সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে রাখেন। ইতিমধ্যে সিরাজগঞ্জ থেকে র‌্যাবের আরেকটি দলসহ বোমা বিশেষজ্ঞদল অভিযানে এসে যোগ দেয়। একপর্যায়ে ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে র‌্যাব সদস্যরা দুপুর সোয়া ২টার দিকে কক্ষটির ভেতরে ঢোকেন। সেখান থেকে গুলিবিদ্ধ দুই জঙ্গির লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।  

বাড়ির মালিক আজহারুল ইসলাম জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুই যুবক ছাত্র পরিচয়ে বাড়ি ভাড়া নিতে আসে। পরিচয়পত্রসহ বিস্তারিত তথ্য চাইলে তারা সাত দিনের সময় নেয়। আজকেই (শনিবার) তারা পরিচয়পত্র দিতে চেয়েছিল।

আশুলিয়ার আস্তানায় ৩০ লাখ টাকা : আশুলিয়ার একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে র‌্যাব-৪ গ্রেপ্তার করেছে জঙ্গি নেতা আব্দুর রহমান ওরফে নাজমুল ওরফে বাবুকে। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত এ জঙ্গি নিউ জেএমবির অন্যতম প্রধান অর্থ জোগানদাতা বলে র‌্যাব দাবি করেছে। অভিযানকালে এ বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩০ লাখ টাকাসহ অস্ত্র ও বিস্ফোরক।

সূত্র জানায়, আশুলিয়ার বাইপাইল গাজীরচট এলাকায় গতকাল শনিবার বিকেলে র‌্যাব-৪ অভিযান শুরু করে। শাহীন মৃধার পাঁচতলা বাড়িতে অভিযানকালে পাঁচজনকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আবদুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমা, দুই শিশুসহ ভবনটির কেয়ারটেকার তরিকুল ইসলাম রয়েছে। জঙ্গিদের এ আস্তানা থেকে ৩০ লাখ টাকা, একটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও বেশ কিছু জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়েছে বলে র‌্যাব কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। রহমান নিজেকে ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধি পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিল।

অভিযানকালে লাফিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে একজন মারাত্মক জখম হয়। পরে জানা যায়, সে জেএমবির অর্থ জোগানদাতা আবদুর রহমান। গুরুতর জখম অবস্থায় তাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।

ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. এনামুর রহমান অভিযানের সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, জঙ্গি রহমানকে দুই বছর যাবৎ খোঁজা হচ্ছে।

নিহত আবদুর রহমান জেএমবির মূল অর্থদাতা বলে জানিয়েছেন র‌্যাবের পরিচালক (মিডিয়া) মুফতি মাহমুদ খান।

প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১ জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরদিন সকালে প্যারা কমান্ডোদের অভিযানে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গি। ২৬ জুলাই কল্যাণপুরের জাহাজ বিল্ডিংয়ে পুলিশের অভিযানে নিহত হয় ৯ জন। ২৭ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযানে নব্য জেএমবির সংগঠক ও গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী তামিম আহমেদ চৌধুরীসহ তিনজন নিহত হয়। এরপর অভিযানে রাজধানীর রূপনগরে মেজর (অব.) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ এবং আজিমপুরে তানভীর কাদেরী নিহত হয়। এ ছাড়া ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বগুড়ায় ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিন জঙ্গি নিহত হয়।


মন্তব্য