kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১১ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম চট্টগ্রাম বন্দর

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



১১ ধাপ এগিয়ে ৭৬তম চট্টগ্রাম বন্দর

কনটেইনার ওঠানামার সূচক বিবেচনায় এক লাফে ১১ ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর। বিশ্বের ১০০ বন্দরের মধ্যে এখন এ বন্দরের অবস্থান ৭৬ নম্বরে।

২০১৫ সালে কনটেইনার ওঠানামার সূচক বিবেচনায় বিশ্বের সেরা ১০০টি বন্দরের তালিকাটি তৈরি করেছে শিপিং-বিষয়ক ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম ‘লয়েডস লিস্ট’। গত বছর প্রকাশিত তালিকায় চট্টগ্রাম বন্দরের অবস্থান ছিল ৮৭ নম্বরে।

তালিকাটি প্রকাশিত হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। গতকাল শুক্রবার অগ্রগতির সনদ চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম খালিদ ইকবালের হাতে তুলে দেন লয়েডস লিস্টের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান। চট্টগ্রাম বন্দরের এ  অগ্রগতি উদ্যাপনে গতকাল বন্দরের শহীদ ফজলুর রহমান মুন্সী অডিটরিয়ামে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান।

প্রতিবেদনের তথ্য উল্লেখ করে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, লয়েডস রিপোর্ট অনুযায়ী পাকিস্তানের করাচি বন্দরের অবস্থান চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ে চার ধাপ নিচে। সুতরাং ৩০ লাখ শহীদ ও তিন লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে যে বীরের জাতি, তারা কখনো পিছিয়ে থাকতে পারে না।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, ‘আজকের এ অর্জনের পেছনে সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে বন্দর ব্যবহারকারীসহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছিল। সক্ষমতা বৃদ্ধি না করলে এ অর্জনকে ধরে রাখা যাবে না। এ জন্য দ্রুত বে টার্মিনাল নির্মাণ করতে হবে। সংকীর্ণতা পরিহার করে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে সবার অবস্থান এক থাকতে হবে। এক মুহূর্তের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর বন্ধ হবে, তা আমরা কেউ চাইতে পারি না। ’

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ছয় সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে বক্তৃতা করেন চট্টগ্রাম বন্দর-পতেঙ্গা আসনের সংসদ সদস্য এম এ লতিফ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বন্দরগুলোর পাশে চট্টগ্রাম বন্দর যে স্থান করে নিল এটা সত্যিই গর্বের। এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও ভিশন ছিল। বাংলাদেশ এখন যেভাবে এগোচ্ছে, যেভাবে বিশাল অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে, তাতে কেবল চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি সামাল দেওয়া যাবে না। চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বে টার্মিনাল নির্মাণ এগিয়ে নিতে হবে।

অনুষ্ঠানে লয়েডস লিস্টের প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান বলেন, ১৭৩৪ সাল থেকে শিপিং-বিষয়ক খবরাখবর প্রকাশকারী লয়েডস লিস্ট জরিপ করে বিশ্বের ১০০ সেরা বন্দরের তালিকা প্রকাশ করেছে। কনটেইনার ওঠানামায় বন্দরের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী বছর ৭০ থেকে ৭২তম স্থানে চলে আসবে চট্টগ্রাম বন্দর।

অনুষ্ঠানে লয়েডস লিস্টের প্রধান সম্পাদকের বাণী পড়ে শোনান ক্যাপ্টেন জিল্লুর রহমান। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্ব বাণিজ্যে ধীরগতির কারণে গত বছর অনেক বন্দরই কনটেইনার পরিবহনে ঋণাত্মক অবস্থায় ছিল। এই ধীরগতি সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দর ২০ লাখ একক কনটেইনার পরিবহন করে সাফল্য দেখিয়েছে।

মঞ্চে চট্টগ্রামের অন্য সংসদ সদস্যদের মধ্যে ছিলেন এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, শামসুল হক চৌধুরী, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, নজরুল ইসলাম চৌধুরী ও ড. আবু রেজা নদভী। অনুষ্ঠানের শুরুতে একটি পাওয়ার প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর শাহীন রহমান।

স্বাগত বক্তৃতায় বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল খালিদ ইকবাল বলেন, ‘সাত বছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার ওঠানামা দ্বিগুণ হয়ে ২০ লাখ এককে উন্নীত হয়েছে। এ বছর শেষে এই ওঠানামা ২২ লাখ একক ছাড়িয়ে যাবে। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। ’

এর আগে সকালে নৌপরিবহনমন্ত্রী বন্দরের ভেতর নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) গেইট-৩ এবং এনসিটি সিএফএস শেড উদ্বোধন করেন।


মন্তব্য