kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ টাকার চালে চালিয়াতি

চেয়ারম্যান মেম্বার ও বিত্তবান ‘দুস্থদের’ বিরুদ্ধে মামলা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চেয়ারম্যান মেম্বার ও বিত্তবান ‘দুস্থদের’ বিরুদ্ধে মামলা

জয়পুরহাটে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির অধীনে দুস্থদের মধ্যে ১০ টাকার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) এক চেয়ারম্যান ও এক মেম্বারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ১০ টাকার চাল খোলাবাজারে বিক্রির ঘটনায় চার ব্যক্তিকে আটক এবং ১২ মণ চাল জব্দ করা হয়েছে। নীলফামারীতে অন্যায্যভাবে খাদ্যবান্ধব কার্ড বিতরণ ও গ্রহণের কারণে ইউপি চেয়ারম্যানসহ চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর বরাত দিয়ে জয়পুরহাট প্রতিনিধি জানান, গত  বৃহস্পতিবার রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক তৌহিদুর রহমান আঁওলায় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জেলা বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় দায়িত্বে অবহেলা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়।

জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কার্ড বিতরণের জন্য সদ্য দায়িত্ব নেওয়া চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক ৩৯২ জনের একটি তালিকা দেন। দেড় মাস আগে তাঁকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার আগে এক হাজার ব্যক্তির আরেকটি তালিকা প্রশাসনে জমা দিয়েছিলেন ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকরামুল হক চৌধুরী তৌহিদ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান ও সাবেক চেয়ারম্যানের দুটি তালিকায়ই সচ্ছল ব্যক্তিরা অন্তর্ভুক্ত হন। দরিদ্রদের পরিবর্তে বিত্তবান ও দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে এ তালিকা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার মামলা হলে চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হলেও সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

গতকাল শুক্রবার ওই ইউনিয়নের ছাতিনালী, চানপাড়া, নাওডুবা, ফতেপুরসহ কয়েকটি গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, চাল বিতরণের জন্য তালিকায় যাঁদের নাম দেওয়া হয়েছে তাঁদের অনেকেই বিত্তবান এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল। যাঁদের অনেকের পাকা বাড়ি এবং জমিজমাও রয়েছে। ওই ইউনিয়নের পৃথকভাবে এক হাজার ও ৩৯২ জনের দুটি তালিকা ধরে দেখা গেছে, তালিকার ৬৪৪ ও ৬৪৪ নম্বরে নাম রয়েছে ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বারের দুই ভাই ইউনুস আলী ও হামেদ আলীর। শন্তাদিগর গ্রামের তাঁরা দুজনই বিত্তবান। আবার ৩৯২ জনের তালিকার মধ্যে দোলপাড়া গ্রামের বিত্তবান নজরুল ইসলামের নাম রয়েছে ২৮৮ নম্বরে। তালিকায় রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদকও, যাঁরা আর্থিকভাবে খুবই সচ্ছল। তালিকার ২৭৪ নম্বরে সভাপতি আর ১২৪ ও ১২৭ নম্বরে নাম রয়েছে ইউনিয়ন সেক্রেটারির দুই স্ত্রী বিলকিস বেগম ও রহিমা বেগম। এ ছাড়া সাঈদীকে চাঁদে দেখার গুজব তুলে পাঁচবিবি থানায় হামলাসহ একাধিক নাশকতার মামলার আসামিদের তালিকাভুক্ত করা হয়েছে হতদরিদ্রদের চাল বিতরণের জন্য খাদ্যবান্ধব কার্ডের এই তালিকায়। এই নাম দিয়েছিলেন ইউপি মেম্বার আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল খালেক, যাঁকে বৃহস্পতিবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নে ১০ টাকার চাল সংগ্রহ করে বিতরণকেন্দ্রের পাশেই বিক্রি করার সময় পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। তাঁরা হলেন আটাপুর গ্রামের খাদ্যবান্ধব কার্ডধারী চাল বিক্রেতা আমিনুল ইসলাম ও আমেনা বেগম এবং চালের ক্রেতা একই গ্রামের চাল ব্যবসায়ী জুয়েল হোসেন ও সোহেল।

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, ১০ টাকার চাল বিতরণের খাদ্যবান্ধব কার্ডের তালিকায় অনিয়মের কারণে নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় চার ব্যক্তির নামে মামলা দায়ের হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় ‘১০ টাকার চালে চালিয়াতি’ শিরোনামে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বল্পমূল্যে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে সম্পদশালীদের নাম থাকাসহ নানা অনিয়মের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে এই চারজনের নাম উঠে আসে, যাঁদের বিরুদ্ধে শেষ পর্যন্ত মামলা দায়ের করা হলো।

গত বৃহস্পতিবার গভীর রতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্ম্মণ বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ডোমার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয়। আসামিরা হলেন খাদ্যবান্ধব কার্ডধারী হরিণচড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম, একই গ্রামের বনমালী রায়, হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহসান হাবীব।

ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি দায়ের করেন খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায়। এক প্রশ্নের জবাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা জানান, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নে একই ধরনের যেসব অভিযোগ পাওয়া গেছে, তা-ও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 


মন্তব্য