kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ টাকার চালে চালিয়াতি

তদন্তের নির্দেশ ডিসিদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম

আশরাফুল হক রাজীব   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তদন্তের নির্দেশ ডিসিদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম

১০ টাকা কেজি দরের চালে চালিয়াতির ঘটনা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল বৃহস্পতিবার এ নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ডিসিদের নেতৃত্বে প্রতি জেলায় একটি করে মনিটরিং সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল খাদ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ একটি মহৎ উদ্যোগ। সরকারের এ উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে যখন প্রাচুর্যে ভরা বাড়িঘরের মালিকদের এ সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠছে। কোনো অবস্থাতেই বিত্তবানদের এ সুবিধা নিতে দেওয়া হবে না। এ কারণে জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দিয়ে প্রতিটি ঘটনা তদন্তের। দোষী প্রমাণ হলে ইউনিয়ন পরিষদের যে মেম্বার বা চেয়ারম্যানের সুপারিশে কার্ড ইস্যু করা হয়েছে তাঁকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছি। একই সঙ্গে মামলাও করতে বলেছি। এসব ঘটনা যদি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা করে থাকে, তারাও শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। ’

গতকাল অফিস ছুটির পরও সচিবালয় থেকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলামের একান্ত সচিব জেলায় জেলায় ফোন করে গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন অনিয়মের ঘটনা তদন্তের বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। এ সময় তাঁকে ডোমারের ইউএনও জানান, তিনি তদন্তের জন্য শালমারা গ্রামে যাচ্ছেন। রাতে এ প্রতিবেদন লেখার সময় শালমারা গ্রামে অনিয়মের সত্যতা মিলেছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ইউএনও।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, খাদ্যসচিব এম বদরুদ্দোজা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা গতকাল সচিবালয়ে বৈঠক করে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। এ সময় কালের কণ্ঠে প্রকাশিত সংবাদটি খাদ্যমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তখনই তদন্তের নির্দেশ দেন। খাদ্যসচিবের প্রস্তাবে ডিসির নেতৃত্বে মনিটরিং টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এ সময় খাদ্যমন্ত্রী জানতে চান ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির নীতিমালা কেন শুরু থেকেই প্রয়োগ করা হয়নি? তাহলে হয়তো অনিয়মের ঘটনা আগেই ধরা যেত। বৈঠক শেষে একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে এ তথ্য জানান।

তবে গতকাল রাত পর্যন্ত খাদ্য মন্ত্রণালয় ডিসিদের নেতৃত্বে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশনা জারি করতে পারেনি। সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, মনিটরিং টিম গঠনের খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। খাদ্যসচিব স্বাক্ষরের পর রবিবার এ নির্দেশনা প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে।    

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৭ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী যখন ক্ষেতে-খামারে কাজ থাকবে না, তখন দিনমজুর, অসহায়-দুস্থ, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও বিবাহবিচ্ছেদের শিকার অসহায় নারীদের এ চাল দেওয়া হবে। প্রতি কেজি ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি চাল দেওয়া হবে। বছরে দুই মেয়াদে মোট পাঁচ মাস এ কর্মসূচি চলবে। কিন্তু কর্মসূচি উদ্বোধন করতে না করতেই তালিকা তৈরিতে অনিয়মের খবর প্রকাশ হতে থাকে সংবাদমাধ্যমে। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করেন।

তালিকা তৈরির মূল কাজটি করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা। এতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা প্রভাব বিস্তার করেছেন। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা যে তালিকা করেছেন তা বাছাই কমিটি অনুমোদনের আগেই সম্পূর্ণ বদলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এসব অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন স্থানে বিচার-সালিস পর্যন্ত হচ্ছে।

১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের এ কর্মসূচিটি রাজনৈতিক। ২০০৯ সালে নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় আওয়ামী লীগ নেতারা নির্বাচিত হলে ১০ টাকা কেজি দরে চাল খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু ওই সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদে তা চালু করা যায়নি। এ নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রধান বাধা ছিল নিরবচ্ছিন্ন বাম্পার চাল উত্পাদনের অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত কৃষিতে ধারাবাহিক সাফল্য আসায় সরকার ২০১৫ সালে রাজনৈতিক এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকে ভিজিএফ কার্ড বন্ধ করে এ কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হলে তিনি ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণের পাশাপাশি ভিজিএফ কার্ডও চালু রাখার নির্দেশ দেন।


মন্তব্য