kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ফেভারিটের সিংহাসনে বসেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ

নোমান মোহাম্মদ   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



ফেভারিটের সিংহাসনে বসেই মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতেই একাদশে ফিরছেন ইমরুল কায়েস। ছবি : কালের কণ্ঠ

শরতের সাধারণ এক দিন ছিল কাল। যেখানে সাতসকালে আকাশজুড়ে উড়ে বেড়ায় সাদা মেঘ।

দিগন্তে কাশফুলের শুভ্রতায় মেশে যা। আবার মধ্যাহ্নে ওই মেঘের বাড়িতেই বৃষ্টির নিমন্ত্রণ। মেঘমালা তাই বুঝি রং বদলে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করে ঝরায় বৃষ্টি।

কিন্তু কাল শরতের এই সাদামাটা দিনই বাংলাদেশ ক্রিকেটের বসন্তকাল হয়ে যায় একলহমায়। ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলারের এক কথায়। তিনি যে ওয়ানডে সিরিজে ফেভারিটের মণিহার পরিয়ে দেন বাংলাদেশকে! আন্ডারডগের কণ্টকহার পরে নেন নিজেরা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর কোনো প্রতিষ্ঠিত পরাশক্তি এভাবে সিরিজের আবহে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েছে!

এ কারণেই পঞ্জিকা যা-ই বলুক কিংবা আজ থেকে শুরু হওয়া সিরিজের ফল শেষ পর্যন্ত যা-ই হোক না কেন, গতকাল দিনটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের বসন্তক্ষণ। এ দেশের ক্রিকেটের কৌলীন্যে উত্তরণে এক বাঁকবদলের মুহৃর্ত হিসেবে যা চিত্রিত হবে ইতিহাসে।

তবে মুখের কথায় তো আর ক্রিকেট হয় না। তাহলে ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে না বাংলাদেশ; জেতে না পাকিস্তান-ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা তিন সিরিজ। কারণ ওসব দ্বৈরথের আবহে বাংলাদেশকে কেউ পরিয়ে দেয়নি ফেভারিটের মুকট। যে কারণে বাটলারের ঘণ্টা দুয়েক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজা একরকম প্রত্যাখ্যান করেন ফেভারিটের তকমা, ‘নাহ্্, এই সিরিজে কেউ ফেভারিট নয়। আমরা যে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপে হারাই, তা বছর দেড়েক আগে। পরের সময়ে ওরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলেছে। জিতেছে বেশির ভাগ সিরিজ। ’ ইংল্যান্ড তো বেশির ভাগ, বাংলাদেশ সবই। সর্বশেষ ছয়টি ওয়ানডে সিরিজে বিজয়ীর হাসি লাল-সবুজের। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ দেখা সর্বশেষ দুই বিশ্বকাপে; তাতেও জয় বাংলাদেশের। মাশরাফি তাই ক্রিকেটীয় ভদ্রতা দেখালে কী হবে, বাটলার হয়তো বুঝতে পারছেন বাস্তবতা। যে কারণে স্বাগতিকদের ফেভারিট মেনে নিজেদের আন্ডারডগ হিসেবে ঘোষণা।

শুধু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকেই জমজমাট সিরিজের প্রতিশ্রুতি সর্বত্র। কিন্তু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড দ্বৈরথে শুধু ক্রিকেট মূল আলোচ্য থাকছে কই! নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে ইংরেজদের সফর যে অনিশ্চিত হয়ে ছিল অনেক দিন! আর তা কালকের ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে আজকের ওয়ানডের সামনে প্রশ্নবোধক চিহ্ন এঁকে দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি। অবশেষে ইসিবির সবুজ সংকেতে বাংলাদেশে আসে ইংল্যান্ড; যদিও এউইন মরগান ও অ্যালেক্স হেলস আসেননি। কিন্তু তাঁদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা যে অমূলক, গত এক সপ্তাহে তা বারবার প্রমাণ করেছে আয়োজকরা। কাল সকালেও শেরেবাংলা স্টেডিয়াম চত্বরে কমান্ডো অভিযানের মহড়ায় আরো বেশি যেন আশ্বস্ত ইংল্যান্ড। নির্বিঘ্নে ক্রিকেট আয়োজনে আরো বেশি আত্মবিশ্বাসী তাতে বাংলাদেশও।

আর মাঠের ক্রিকেটে মাশরাফির দলের আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হয়ে থাকার কথা ২০১৫ বিশ্বকাপ, যেখানে জিতে ইংল্যান্ডকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়ার পাশাপাশি নিজেরাও উঠে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ২০১১ বিশ্বকাপেও তো ওই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয় বাংলাদেশের। তবে এসব এক পাশে সরিয়ে মাশরাফির মনোযোগ সামনের সিরিজে ভালো খেলায়, ‘গত দুই বিশ্বকাপের দুটি জয় আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো স্মৃতি। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে ওদের হারানো বড় অর্জনও। তবে সবাই আসলে সাম্প্রতিক ব্যাপারটি নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে। আগের কথা ভেবে আমাদের লাভ নেই। নতুন একটি সিরিজ শুরু হচ্ছে। আমাদের সেখানেই মনোযোগ দেওয়া ভালো। ’ মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে যে এখন প্রথম ওয়ানডে, জানা সেই কথা আবার জানিয়ে দেন অধিনায়ক, ‘দ্বিপক্ষীয় সিরিজে প্রথম ম্যাচ খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ইতিবাচক আছি। প্রস্তুতি নিচ্ছি ভালো খেলার। ’ প্রতিপক্ষের কয়েকজন খেলোয়াড় না আসায়ও ইংল্যান্ডকে দুর্বল মানতে রাজি নন তিনি, ‘খেলার কথা আগে থেকে কিছু বলা যায় না। ওদের বিকল্প ক্রিকেটাররাও অনেক ভালো। যারা এসেছে, ওরা অভিজ্ঞ। যথেষ্ট যোগ্য ও ভালো বলেই এসেছে। একই সঙ্গে ওদের ম্যাচ উইনিং ক্রিকেটার অনেক আছে, যারা একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিতে পারে। আমাদের তাই ফেভারিট বলা কঠিন। তবে ভালো সিরিজে ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং আমরা সেটির জন্য প্রস্তুত। ’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের অনিশ্চয়তার মধ্যে তড়িঘড়ি করে আয়োজন করা হয় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ। বাংলাদেশের জন্য তা ভীষণ প্রয়োজনীয় হিসেবে প্রমাণিত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ছয় মাস এবং ওয়ানডেতে সাড়ে ১০ মাসে অনভ্যস্ততা ঝেড়ে ফেলা গেছে তাতে; হলোই বা তা একটি ম্যাচ হারের বিনিময়ে! ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে ব্যাটে-বলে সড়গড় বাংলাদেশকে দেখার প্রত্যাশায় তাই বাড়াবাড়ি নেই। অধিনায়ক মাশরাফি দায়িত্ব ছড়িয়ে দিচ্ছেন পুরো দলেই, ‘সিনিয়রদের ভূমিকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যত ম্যাচ জিতেছি, সিনিয়ররা ভালো খেলেছে, জুনিয়ররাও নিজেদের মেলে ধরেছে।   আমাদের রোমাঞ্চকর কজন তরুণ ক্রিকেটার আছে, যারা নিজেদের দিনে যেকোনো কিছুই করতে পারে। সিনিয়র যারা আছি, তারা ভালো করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি জুনিয়ররাও ভূমিকা রাখতে পারে। সেই সামর্থ্য ওদের আছে। ’ সেই সামর্থ্যের বিবেচনায় ওপরের দিকেই অবস্থান সৌম্য সরকারের। ফর্মে না থাকলেও এত দিন তাই টিম ম্যানেজমেন্টের সমর্থনের হাত ছিল এই ওপেনারের ওপর। তবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আজকের প্রথম ওয়ানডের একাদশে তিনি থাকছেন না। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করায় ইমরুল কায়েস আজ ওপেনিংয়ে তামিম ইকবালের সঙ্গী। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে একাদশের এই একটাই পরিবর্তন।

তবে এর চেয়ে ঢের বড় পরিবর্তন ইংল্যান্ড অধিনায়কের দেওয়া ওই ফেভারিটের সিংহাসন। শরতের দিনেও যা বসন্ত-বাতাস বইয়ে দেয় বাংলাদেশ ক্রিকেটে। ব্যাট-বলের লড়াইয়ে এখন তাই পলাশ-শিমুলের রং নিয়ে আসার চ্যালেঞ্জ মাশরাফির দলের।


মন্তব্য