kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বদরুলের বিচার চেয়ে উত্তাল সিলেট

খাদিজা এখনো সংকটাপন্ন আন্দোলনকারীদের হুমকি

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট অফিস   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বদরুলের বিচার চেয়ে উত্তাল সিলেট

গতকাল রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলেন খাদিজার বাবা (বাঁয়ে); হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীদের শহরে বিক্ষোভ। ছবি : কালের কণ্ঠ

কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলাকারী বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের শাস্তির দাবিতে এখন উত্তাল সিলেট। গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মতো নগরে এবং নগরের বাইরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠন এসব কর্মসূচি পালন করে। এদিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজার শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। পর্যবেক্ষণের ৭২ ঘণ্টা শেষ হবে আজ শুক্রবার বিকেলে। এরপর ডাক্তাররা তাঁর অবস্থা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বলতে পারবেন।

উত্তাল সিলেট : গতকাল সকাল ১০টায় নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কলেজ গেটে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করে মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। ফলে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়। এ সময় বদরুলের শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে শিক্ষার্থীরা। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের পর সকাল ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে তারা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় অভিমুখে রওনা হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চার দফা দাবিসংবলিত স্মারকলিপি দেয় তারা।

স্মারকলিপি প্রদান শেষে ছাত্রীরা বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে নগরের চৌহাট্টা এলাকার সিলেট  কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে যায়। সেখানে তারা চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করে। এ সময় সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আধাঘণ্টা পর শিক্ষকদের অনুরোধে ছাত্রীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যায়।

একই দাবিতে সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে মহিলা কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সংগঠন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন। মানববন্ধনে বক্তারা হামলাকারীর দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। বক্তারা বলেন, খাদিজার ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত বর্বরোচিত ও অমানবিক। জঘন্যতম হামলাকারী বদরুল আলমের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। কারণ বদরুলদের শাস্তি না হলে ভবিষ্যতে নারীসমাজকে আরো কঠিন বিপদের সম্মুখীন হতে হবে, যা কোনো সভ্য সমাজের জন্য কাম্য হতে পারে না।

কলেজ ছাত্রীর ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে হামলাস্থল এসসি কলেজের শিক্ষার্থীরা। টানা তৃতীয় দিনে গতকাল কলেজ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে তারা।

খাদিজা বেগম নার্গিসকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এবং হামলাকারী বদরুলের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করেছে খাদিজার গ্রাম সদর উপজেলার মোগলগাঁও ইউনিয়নের আউশা এলাকাবাসী। সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার কান্দিরগাঁও ইউনিয়নে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের দুই পাশে এ কর্মসূচি পালিত হয়। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বদরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

কলেজ শিক্ষার্থী খাদিজার ওপর হামলাকে বর্বরোচিত ও পাশবিক আখ্যা দিয়ে নিন্দা জানিয়েছে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেট। নাট্য পরিষদের পক্ষ থেকে দ্রুত অপরাধীর শাস্তির দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া একই দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), জৈন্তা ছিন্নমূল সংস্থা (জেছিস), বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), ‘আমরাই পারি’ পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জেলা জোট, সিলেট ও এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংগঠন।

আন্দোলনকারীদের মুখপাত্রকে হত্যার হুমকি : খাদিজার বিদ্যাপীঠ সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও বদরুলের বিচারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মুখপাত্র ফজিলাতুন্নেসাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

গতকাল ফজিলাতুন্নেসার মায়ের মোবাইল ফোনে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে এই হুমকি দেওয়া হয়। আন্দোলন থেকে সরে না দাঁড়ালে তাঁকেও খাদিজার মতো একই কায়দায় কোপানো হবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়। সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান হুমকির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি শাহপরান থানায় জানানো হয়েছে।

সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে : সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মো. আমিনুর রহমান বলেছেন, সিলেটের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে দেওয়া স্মারকলিপি গ্রহণকালে সৈয়দ মো. আমিনুর রহমান এ কথা জানান। তিনি বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির পর সিলেট ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই এর আওতায় আনা হবে।

১০ দিনের জন্য আন্দোলন স্থগিত : কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর নৃশংস হামলার প্রতিবাদে গড়ে ওঠা আন্দোলন ১০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার কারণে আগামী ১৬ অক্টোবর রবিবার পর্যন্ত এ আন্দোলন স্থগিত থাকবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সাংবাদমাধ্যমকে এমন তথ্য জানান আন্দোলনের মুখপাত্র ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফজিলাতুন্নেসা। তিনি বলেন, পূজার কারণেই আন্দোলন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এ সময়ের মধ্যে খাদিজাকে কোপানোর মামলা দ্রুত বিচার আদালতে স্থানান্তর করা না হলে পরবর্তী সময়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের ফাঁসির দাবিতে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের একাংশ। বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় শহরের পুরাতন বাসস্টেশন এলাকায় জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নূরুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন গ্রুপ এ মানববন্ধন করে।

মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম রাজু, ছাত্রদল নেতা কালার চান, সোহেল মিয়া, রায়হান উদ্দিন, আজিজুর রহমান প্রমুখ।

মৌলভীবাজার থেকে নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার জেলা শাখা গতকাল দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজার প্রেস ক্লাবের সামনে কোর্ট রোডে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে। ছাত্র ফ্রন্টের জেলা শাখার সংগঠক বিপাশা দাসগুপ্তের সভাপতিত্বে এবং রেহনোমা রুবাইয়াতের পরিচালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দেন বাসদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মঈনুর রহমান মগনু, চারণ সংগঠক ইকবাল হোসাইন, ছাত্র ফ্রন্ট মৌলভীবাজার কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক  বিশ্বজিৎ নন্দী, কলেজ শাখার সদস্য রিফাত প্রমুখ। বক্তারা অবিলম্বে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল হোসেনকে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

একই রকম আছেন খাদিজা : রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রী খাদিজার শারীরিক অবস্থা নিয়ে নতুন কোনো খবর জানাতে পারেননি চিকিৎসকরা। মঙ্গলবার অপারেশনের পর থেকে লাইফ সাপোর্টে রেখে ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে খাদিজাকে। সে সময় শেষ হবে আজ শুক্রবার বিকেল নাগাদ। এরপর তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টিম। পরবর্তী সময়ে শনিবার প্রকাশ করা হবে তাঁর অবস্থা ও পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে। স্কয়ার হাসপাতাল সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছে কালের কণ্ঠকে।

স্কয়ার হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মির্জা নাজিমউদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘খাদিজার অবস্থা একই রকম আছে। বলার মতো কোনো পরিবর্তন এখনো নেই। শনিবার সকালে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সব জানাতে পারব। ’

এদিকে গতকাল সকালে সৌদি আরব থেকে খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া এবং দুপুরের দিকে চীন থেকে ভাই শাহীন ঢাকা পৌঁছেই ছুটে যান স্কয়ার হাসপাতালে। এ সময় তাঁরা দুজনেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। সেই সঙ্গে ঘাতক ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ডা. নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘খাদিজা মারা গেছে বা সে হাত-পা নাড়াচ্ছে-চোখ খুলছে বলে যেসব প্রচার হচ্ছে সবটাই আসলে গুজব। এসব কথায় কান না দিয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করাই ভালো। ’

এদিকে বুধবার খাদিজাকে দেখতে গিয়ে আওয়ামী লীগ দলীয় তিন নেত্রীর সেলফির ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে শুরু হয় ব্যাপক সমালোচনা। বিষয়টি একই সঙ্গে চলে আসে গণমাধ্যমেও। এর সঙ্গে হাসপাতালে রোগীর দর্শনার্থীদের আচরণ আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এর আগে রানা প্লাজা ধসের পর এবং ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে বিএনপি-জামায়াতের অবরোধের সময় পরিবহনে আগুন দিয়ে মানুষকে পুড়িয়ে দেওয়ার পর তাদের চিকিৎসার সময়ও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনার ঝড় ওঠে। বিশেষ করে রোগীর স্বজনদের পাশাপাশি মন্ত্রী-এমপি, মিডিয়াকর্মীরা বেপরোয়াভাবে আইসিইউতে, জরুরি বিভাগে—এমনকি অপারেশন থিয়েটারের ভেতরে ঢুকে পড়েন দলবেঁধে।

হাসপাতালের আইসিইউতে স্পর্শকাতর ব্যবস্থাপনার মধ্যে কিভাবে দর্শনার্থীরা দলবেঁধে ঢুকছে এবং ছবি তুলছে—জানতে চাইলে ডা. নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স আর অতি জরুরি কোনো প্রয়োজনে রোগীর একান্ত স্বজনরাই কেবল ঢুকতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষ কোনো ভিভিআইপি বা ভিআইপিকে আমরা খুবই সতর্কতার সঙ্গে অ্যালাউ করে থাকি। যাঁরা আসেন তাঁরা আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, আমরা তাঁদের সঙ্গে নিয়ে যাই। কিন্তু বুধবার বিকেলে হঠাৎ করে কোনো এক ফাঁকে দুই নারী এমপিসহ তিনজন কর্তব্যরত চিকিৎসক ও কর্মীদের কাছে নিজেদের পরিচয় দিয়ে দ্রুত ভেতরে ঢুকে পড়েন। সংসদ সদস্য পরিচয় পেয়ে নিরাপত্তাকর্মীরা ব্রিবত হয়ে তাঁদের না বলতে পারেননি। তবে এমন দায়িত্বশীল পর্যায়ের কেউ ছবি তোলার মতো কাণ্ড করবেন—সেটা কারো পক্ষেই আগাম বুঝতে পারা সম্ভব ছিল না। তবে এখন আমরা আরো বেশি সতর্ক হয়ে উঠেছি। পরিস্থিতিটি সবার জন্যই বিব্রতকর। ’

এদিকে স্কয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে গিয়ে সেলফি তোলার বিষয়ে সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন পরবর্তী সময়ে একাধিক স্ট্যাটাসে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে সেই সঙ্গে তিনি কিছুটা ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি তাঁর ফেসবুক আইডির স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, ‘আমরা কালকে খাদিজা নামের যে মেয়েটা মারা গেছে বলে যে তথ্য বের হয়েছে—এটা আমরা দেখাতে চেয়েছি মেয়েটা বেঁচে আছে; এর জন্য ছবিটা তোলা। ছাত্রলীগের নামধারী যে এখন ছাত্রলীগ করে না আমরা তার পক্ষে না, আমরা নির্যাতিতের পক্ষে। ’

পরে আরেক স্ট্যাটাসে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমাদের ছবি নিয়ে যে মাতামাতি হচ্ছে এতে মনে হচ্ছে খাদিজা ইস্যু রেখে আমরা মুখ্য হয়ে গেলাম। মনে হচ্ছে, কত ক্ষতি করে ফেলেছি। পারিবারিক সহিংসতা বেড়েছে। এ ধরনের নারী নির্যাতন প্রায়ই হচ্ছে। এর জন্য সবার উচিত সন্তানদের প্রতি নজর দেওয়া। ছেলেমেয়েরা কী করছে, তা খেয়াল করা। এখন সব কিছু সরকারের কাঁধে দিয়েই সবার দায়িত্ব যেন শেষ হয়ে যায়। ’


মন্তব্য