kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টাকা তদবিরেই পুলিশ!

সরোয়ার আলম   

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



টাকা তদবিরেই পুলিশ!

“আসসালামু আলাইকুম। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মস্থান গোপালগঞ্জ জেলা আমার নির্বাচনী এলাকা।

আপনার সদয় বিবেচনার জন্য জানাচ্ছি যে, আমার নির্বাচনী এলাকার নিম্নোক্ত প্রার্থীরা বাংলাদেশ পুলিশ ‘কনস্টেবল’ পদে নিয়োগ প্রাপ্তির লক্ষ্যে অংশগ্রহণ করেছেন। তারা আমার জানা মতে, আওয়ামী পরিবারের সদস্য। বর্তমান সরকারের নিবেদিত কর্মী, সৎ, কর্মঠ ও নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি। কনস্টেবল নিয়োগদানের ব্যবস্থা করার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি। ” গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের উদ্দেশে গত ২৪ সেপ্টেম্বর ডিও লেটারে (সুপারিশপত্র) এই কথাগুলো লিখেছিলেন সংসদ সদস্য ৩৪৩, মহিলা আসন-৪৩ অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল।   ডিও-মআস ৩৪৩/৪৩/১৭৫। তাতে ১৫ প্রার্থীর নাম-ঠিকানা আছে। কাজলের মতোই ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার ও পুলিশ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে একাধিক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ডিও লেটার পাঠিয়ে তাঁদের পছন্দের প্রার্থীকে পুলিশ কনস্টেবল হিসেবে নিয়োগ দিতে অনুরোধ করছেন। কেউ কেউ ২০০ জনের নামের তালিকাও পাঠিয়েছেন। এমন তদবিরের তোড়ে পুলিশ কর্মকর্তাদেরও ভেসে যাওয়ার দশা। বাধ্য হয়ে ওই তালিকা অনুযায়ী চাকরির ব্যবস্থা করতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। যারা পরীক্ষায় বেশি খারাপ করছে, তাদের নিয়োগে পুলিশ সুপাররা জোরালো আপত্তি তুলছেন। এসব প্রার্থীর ক্ষেত্রে নেতারা পুলিশের বড় কর্তাদের কাছে অন্য কৌশলে তদবির করছেন। এ ক্ষেত্রে নিয়োগের রেট বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।  

রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ পুলিশ সদস্যও নিয়োগ বাণিজ্যে নেমে পড়েছেন। অন্যান্য পেশার লোকজনও পিছিয়ে নেই। তবে তাদের কৌশল আবার ভিন্ন।

কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পুলিশে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ছয় লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে, যা অফেরতযোগ্য। টাকা দিয়েও চাকরি হয়নি এমন ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিয়োগ বাণিজ্যের তোড়ে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার অনেকেই ঢুকে পড়ছে। এ তথ্য জেনে পুলিশ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুলিশ কনস্টেবল পদে তদবিরে কোনো নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। এই ক্ষেত্রে প্রমাণ মিললে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হবে। পুলিশকে স্বাধীনভাবেই লোক নিয়োগ করতে বলা হয়েছে। জনপ্রতিনিধিরা দাবি জানাতেই পারেন। তবে তা হতে হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। তিনি আরো বলেন, এবারের নিয়োগে বিএনপি বা জামায়াত মতাদর্শী লোকজন ঢুকলে তা অবশ্যই তদন্ত করা হবে। ’

পুুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক বলেছেন, ‘স্ব্বচ্ছভাবেই নিয়োগ সম্পন্ন হচ্ছে। তদবিরে কারো চাকরি হচ্ছে না। কেউ তথ্য গোপন করে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করলে তার প্রার্থিতা বাতিল করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে পুলিশ কনস্টেবল পদে  নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এবার নেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার সদস্য। এদের মধ্যে পুরুষ আট হাজার ৫০০ আর মহিলা দেড় হাজার। কিন্তু আবেদন পড়েছে কয়েক লাখ।

মন্ত্রী-এমপিদের ডিও লেটার : নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী, এমপি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগ, অঙ্গসংগঠনের নেতা ও বিভিন্ন পেশার প্রভাবশালী লোকজন নিজেদের প্রার্থী মনোনয়নের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েন। বিশেষ করে মন্ত্রী-এমপিরা ডিও লেটারে প্রার্থী তালিকা পাঠিয়ে দেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপারের কাছে এমপি উম্মে রাজিয়া কাজল ১৫ জনের তালিকা পাঠান। তাদের সবাই মকসুদপুরের বাসিন্দা। ওই জেলার এক আওয়ামী লীগ নেতা ১৩৮ জনের নাম পাঠিয়েছেন। অথচ গোপালগঞ্জে নেওয়া হবে ৯৩ জন। ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন ২০ সেপ্টেম্বর জেলা পুলিশ সুপারকে পাঠানো ডিও লেটারে ৬২ জনের তালিকা দিয়েছেন। একই জেলার দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা আরো শতাধিক ব্যক্তির নাম পাঠিয়েছেন। অথচ ফরিদপুরে নিয়োগ হবে ১৪১ জন। কুমিল্লায় কয়েকজন মন্ত্রী, এমপি ও আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এসপির কাছে আড়াই শতাধিক নামের তালিকা পাঠিয়েছেন বলে পুলিশ সূত্র জানায়। ওই জেলায় নেওয়া হচ্ছে ৩৭১ জন। ফেনীতে এমপি ও আওয়ামী লীগ নেতারা এক শরও বেশি নাম পাঠিয়েছেন। ওই জেলায় নেওয়া হবে ৯৭ জন। জানা গেছে, ফেনী-৩ আসনের এমপির ডিও লেটার এসপি গ্রহণ করেননি। তাঁর সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার বিরোধ আছে। এই জেলায় আওয়ামী লীগের ব্যানারে বিএনপি-জামায়াতের লোকজনের চাকরি হয়েছে। প্রভাবশালী এক মন্ত্রী কুষ্টিয়ার এসপিকে ১০৭ জনের নাম পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের এক শীর্ষস্থানীয় নেতাও তালিকা পাঠান। অথচ ওই জেলায় নেওয়া হচ্ছে ১৪০ জন। সিরাজগঞ্জে এক প্রভাবশালী মন্ত্রী তালিকা পাঠিয়েছেন এসপির কাছে। নরসিংদী, ঠাকুরগাঁও, যশোর, শেরপুরে কয়েকজন এমপি ডিও লেটার পাঠিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক এসপি কালের কণ্ঠকে জানান, এমনও দেখা গেছে, যতজন কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়ার কথা তার চেয়ে বেশি নাম পাঠিয়েছেন মন্ত্রী-এমপিরা। তদবিরের ঠেলায় যোগ্য লোক নেওয়া যাচ্ছে না। তাঁরা আরো জানান, রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি বিভিন্ন পেশার লোকজনও তদবিরে নেমে পড়েছে। কোনো কোনো জেলায় পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। তাঁরা প্রার্থীপ্রতি ছয় থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রার্থী যে জেলার বাসিন্দা সেখানেই তার নিয়োগ হওয়ার কথা। অথচ ঢাকা জেলার ধামরাই, সাভার ও কেরানীগঞ্জের ভুয়া ঠিকানা দেখিয়ে অনেকে নিয়োগ পেয়েছে বলে অভিযোগ আছে। বিষয়টি আমরা মনিটর করছি। ’

নিয়োগ এলেই কিছু পুলিশ সদস্যের পোয়াবারো : প্রতিবছরের মতো এবারও কনস্টেবল নিয়োগে কিছু পুলিশ সদস্য তৎপর হয়ে উঠেছেন। তাঁরা রাজনীতিবিদ, এমপি ও বিভিন্ন পেশার লোকজনের কাছে ধরণা দিচ্ছেন। চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে ভালো টাকাও বাগিয়ে নিচ্ছেন। যাঁরা বেশি তদবির করছেন তাঁদের মধ্যে আছেন ট্রাফিক ট্রেনিং স্কুলের এএসআই আকরাম, সাতক্ষীরার কনস্টেবল মনির, এএসআই মহসীন, পিবিআইয়ের এসআই আয়াতুলসহ অন্তত দুই ডজন পুলিশ সদস্য। তাঁদের নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে বলে পুুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

রংপুরে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে তিন পুলিশ ক্লোজড : টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগে রংপুরের তিন পুলিশ সদস্যকে ক্লোজ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন এসআই (আরও) রুহুল আমীন, এসআই ওলিউর রহমান (কোতোয়ালি থানা) ও কনস্টেবল আবদুল মাজেদ (পুলিশ কন্ট্রোল রুম)। ২৯ সেপ্টেম্বর তাঁদের চলতি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে পুলিশ রেঞ্জে ক্লোজ করা হয়েছে। রংপুর পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তরা প্রার্থীদের নামের তালিকা সংগ্রহ করছিলেন।

ছাত্রলীগ নেতার স্ট্যাটাস : কক্সবাজার থেকে স্টাফ রিপোর্টার তোফায়েল আহমেদ জানান, কক্সবাজার জেলা শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি ইশতিয়াক আহমদ জয় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টায় তাঁর ফেসবুক আইডিতে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস আপলোড করেন। তাতে আছে পুলিশের নিয়োগে যাবতীয় অনিয়মের চিত্র। তিনি লিখেছেন, “সারা বাংলাদেশে কী অবস্থা জানি না, তবে কক্সবাজারের অবস্থা এক কথায় ভয়াবহ। এই ভয়াবহতা আমাকে কষ্ট দেয়, নিজেকে ব্যর্থ বলে মনে হয়। কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেওয়ার পর আমি ও রাশেদ পুলিশের সিপাহি পদে নিয়োগ দেওয়ার জন্য (২৭ জানুয়ারি, ২০১৫) ছাত্রলীগের আট নেতাকর্মীর তালিকা করি। তালিকাটি এসপি বরাবর দেওয়ার পরও দেখা গেল তাদের কারো চাকরি হলো না। চাকরি হলো বিএনপি-জামায়াতকেন্দ্রিক অনেকের। এ ঘটনায় খুবই মর্মাহত হয়ে এসপিকে ফোন দিলাম আমি ও রাশেদ। কিন্তু তিনি আমাদের ফোন ধরেননি। অনেক চেষ্টার পর এসপি সাহেব আমাদের সময় দিলেন। আমরা তাঁর রুমে গিয়ে ছাত্রলীগের কারো চাকরি কেন হলো না আর বিএনপি-জামায়াতপন্থীদের কেন হলো—এ প্রশ্ন করায় এসপি সাহেব জবাব দিলেন, ‘ছাত্রলীগের চাকরি হতে হবে এ রকম কোনো নিয়ম নাই। যারা যোগ্য তাদের চাকরি হয়েছে। এখন তারা বিএনপি করে নাকি জামায়াত করে, নাকি অন্য কিছু করে তা আমার দেখার বিষয় না। ’ কথা না বাড়িয়ে চুপচাপ বের হয়ে এলাম। এরপর ৩ ডিসেম্বর ২০১৫-তে পুলিশের নিয়োগ হয়েছে, আমি তার ধারেকাছেও ছিলাম না। ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬-তে কনস্টেবল পদে আরো একটি নিয়োগ হয়। ১৫ বা ১৬ সেপ্টেম্বর আমার কাছে মোহাম্মদ আবু রাশেদ নামের এক ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা আসে। চাকরির প্রসঙ্গ শুনেই আমি তাকে চলে যেতে বলি। পরের দিন সে তার বাবাকে নিয়ে আসে। তিনি অন্যের জমিতে লবণ চাষ করেন। তার মা মানসিক ভারসাম্যহীন। আমি কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার নাম জানিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলি। সে যোগাযোগ করে জানে ছাত্রলীগ, শিবির, ছাত্রদল মূলকথা না, মূলকথা হলো টাকা। কত টাকা? মাত্র তিন লাখ। আওয়ামী লীগ নেতা জানালেন তিন লাখ টাকা হলে চাকরি হবে। আবু রাশেদ বাড়ি ছুটল। অনেক কষ্টে জোগাড় করল ৬৩ হাজার টাকা। কিন্তু ৬৩ হাজার টাকায় কে দেবে চাকরি? এতই সহজ নাকি? আওয়ামী লীগ নেতা তাকে বললেন, কমপক্ষে দুই লাখ টাকা জোগাড় করতে পারলেও চাকরি দেওয়া যাবে এসপি সাহেবকে রিকোয়েস্ট করে। রাশেদ ফিরে আসে আমার কাছে। পরে কথা বলব জানিয়ে তাকে বিদায় দিলাম। পরীক্ষার দিন ফিটনেসে আবু রাশেদ টিকল। কিন্তু রিটেনে টিকল না। আমাকে ফোন দেয় বারবার, কিন্তু আমি ধরি না। কোন মুখে তার ফোন ধরব? এরপর আমি একটা জরুরি কাজে ঢাকা আসি। কক্সবাজার ফিরে বাসার সামনে গিয়ে দেখি আবু রাশেদ দাঁড়িয়ে। আমার পা ধরে হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করল সে। প্রায় পাঁচ মিনিট পরে কোনো রকমে পা ছাড়ালাম। আমি তাকে বাসায় নিয়ে এলাম। সে আমার হাতে একটা বান্ডেল দিয়ে বলল, ‘ভাই, আমারে যেকোনো একটা চাকরি দেন। আমার খুব দরকার। সুদে টাকা আনছি। দরকার হলে আপনার বাসায় কাজের ছেলে হিসেবে আমারে রাখেন ভাই। আমার শ্বাসকষ্টের সমস্যা আছে। ’ শুরু হলো শ্বাসকষ্ট। আমি ওর হাতে টাকা ফিরিয়ে দিয়ে বললাম, সাত দিনের মধ্যে তোমার যেকোনো একটা চাকরির ব্যবস্থা করব। কথা দিলাম। প্লিজ এখন যাও, আমার শরীর ভালো লাগছে না। এর পর থেকে আমি খুঁজে বেড়াচ্ছি একজনকে। আবু রাশেদ পরম নির্ভরতায় তার ভয়ানক দুঃসময়ে আমার পা ধরে চাকরির জন্য মিনতি করল। কিন্তু আমার তো কোনো ক্ষমতা নেই। আমি এখন আমার মুখ বাঁচাতে কার পা ধরে মিনতি করব? আছেন কেউ ভাই বা বোন, যাঁর পা ধরে আমি কাঁদব আর তাঁর হাতে ৬৩ হাজার টাকা তুলে দেব? যার বিনিময়ে আবু রাশেদকে একটা চাকরি জোগাড় করে দেবেন। এমন হতভাগ্য এক ছাত্র প্রতিনিধি আমি, তাঁদের কাউকে চিনি না। নাজমুল ভাইয়ের কথাটি মনে পড়তেই নিজের অজান্তে চোখের কোণে জল এসে পড়ে। ছাত্রলীগ এতিমদের সংগঠন। একমাত্র প্রাণপ্রিয় নেত্রী ছাড়া আমাদের খবর কেউ রাখে না। ”

অপরাধ বিশ্লেষকদের বক্তব্য : নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অনেক দিন থেকেই পুলিশের নিয়োগে অর্থের লেনদেন হয়ে আসছে। রাজনৈতিক নেতারাই এসব কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন। টিআইবি রিপোর্টে পুলিশের দুর্নীতির কথা বারবার বলা হচ্ছে। আমরাও রাস্তায় পুলিশের কর্মকাণ্ড দেখছি। অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ হওয়াতে যোগ্য পুলিশ সদস্য পাওয়া যাচ্ছে না। তারা চাকরি পেয়ে অর্থের পেছনে ছুটছে। যার ফলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছে না। ’ তিনি বলেন, পুলিশ নিয়োগে দ্রুত স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করতে হবে। তাহলেই যোগ্য পুলিশ সদস্য পাওয়া যাবে। এর জন্য সরকারকেই উদ্যোগ নিতে হবে।

একই কথা বলেছেন হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট এলিনা খান। তিনি বলেন, টাকা ছাড়া পুলিশে নিয়োগ হয় না—তা একেবারে সত্য। রাজনীতিবিদসহ দালালচক্র এসব অপরাধ করছে। পুলিশে দুর্নীতি কমাতে হলে স্বতন্ত্র কমিশন গঠন করতেই হবে। পাশাপাশি পুলিশের দুর্নীতি রোধে দুদককে এগিয়ে আসতে হবে।


মন্তব্য