kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গুলশান হত্যাযজ্ঞ

তাহমিদকে ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি

গ্রেপ্তার হাসনাতও এই অভিযোগ থেকে মুক্ত

আদালত প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



তাহমিদকে ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি

গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনায় ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে তাহমিদ হাসিব খানকে অব্যাহতির আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই ঘটনায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমকেও ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

গতকাল বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম নূর নবীর আদালত এই আদেশ দিয়েছেন।

আদালতে গতকাল তাহমিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল। জামিনে থাকা তাহমিদ এ সময় আদালতে হাজির ছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার দাখিল করা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২ অক্টোবর তাঁকে জামিন দেওয়া হয়। ওই দিন রাতেই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। তবে মূল মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা হাসনাত করিমকে গতকাল এ মামলার শুনানিতে আদালতে হাজির করা হয়নি।

শুনানিতে তাহমিদের আইনজীবী বলেন, যেহেতু তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা তথ্য নেই এবং মূল মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি, সেহেতু সন্দেহভাজনের তালিকা থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হোক।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুলশান হামলায় তাহমিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি মর্মে তাঁকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারা থেকে অব্যাহাতি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে আসামি হাসনাত রেজা করিমকে ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে মর্মে তাঁকেও অব্যাহতি দেওয়া হোক।

তাহমিদকে গত ২ আগস্ট রাত পৌনে ৯টায় রাজধানী ঢাকা থেকে আটক করে পুলিশ। পরদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় প্রথম দফায় আট দিন রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর ১৩ আগস্ট ফের ছয় দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২০ আগস্ট তাহমিদকে আদালতে হাজির করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

প্রসঙ্গত, গুলশানের হলি আর্টিজানে গত ১ জুলাই রাত ৮টার পর হামলা চালায় একদল জঙ্গি। তাৎক্ষণিক অভিযান চালাতে গিয়ে জঙ্গিদের বোমার আঘাতে নিহত হন পুলিশের দুই কর্মকর্তা। ওই সময় তাঁরা তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জন জিম্মিকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে ১৭ জন বিদেশি নাগরিক। পরদিন সকালে অপারেশন থান্ডারবোল্ট চালানো হয়। এ সময় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। অভিযানে একজন জাপানি ও দুই শ্রীলঙ্কানসহ ১৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে তাহমিদ ও হাসনাত করিমও ছিলেন। এ ঘটনায় গত ৪ জুলাই গুলশান থানায় মামলা করে পুলিশ। হাসনাত করিমকে গত ১৩ আগস্ট এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আট দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ২২ আগস্ট তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এ মামলায় তিনি কারাগারে আছেন।


মন্তব্য