kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

অনিয়মে ডিলারশিপ বাতিল, তালিকায় গরমিলে ব্যবস্থা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অনিয়মে ডিলারশিপ বাতিল, তালিকায় গরমিলে ব্যবস্থা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যত দিন প্রয়োজন হবে তত দিন দেশের অতিদরিদ্রদের মধ্যে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে এই চাল বিতরণ এবং অতিদরিদ্রের তালিকা প্রণয়নে কোনো অনিয়ম বা গরমিল সহ্য করা হবে না।

চাল বিতরণে অনিয়ম পাওয়া গেলে ডিলারদের ডিলারশিপ বাতিল এবং তালিকা প্রণয়নে কোনো গরমিল বা অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গতকাল বুধবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ-সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য মীর শওকত আলী বাদশা।

তাঁর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের মানুষ হতাশা থেকে এখন আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। দেশের মানুষকে বঞ্চনা থেকে মুক্ত করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। ব্যথার পাথর বুকে নিয়ে চলছি একটাই লক্ষ্য নিয়ে, তা হচ্ছে মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ১০ টাকা কেজি করে চাল দেওয়ার কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। ’৯৬ সালের আগে নির্বাচনী বক্তৃতায় আমি ১০ টাকা কেজি চালের কথা বলেছিলাম। ’৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলাম।

মাত্র পাঁচ বছরে খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলাম। ক্ষমতা ছাড়ার সময় ২৬ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত রেখে গিয়েছিলাম। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে আবারও দেশকে খাদ্য ঘাটতির দেশে পরিণত করে। ২০০৯ সালে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করি তখনো দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল ৩৫ লাখ মেট্রিক টন। আর এখন বাংলাদেশ খাদ্য রপ্তানির সক্ষমতা অর্জন করেছে। ’

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘প্রতি ৫০০ জনের জন্য একজন করে ডিলার নিয়োগ করা হয়। ইউপি চেয়ারম্যানসহ নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা অতিদরিদ্রদের তালিকা তৈরি করে। এই তালিকায় যদি কোনো সক্ষম মানুষের নাম ওঠে, অবশ্যই তা বাদ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব এমপিকে এবং এ কাজে জড়িত সরকারি কর্মকর্তাদের অনুরোধ করব, নিজ নিজ এলাকায় এসব তালিকা পরীক্ষা করুন। কোনো অনিয়ম বা গরমিল ধরা পড়লে অবশ্যই জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

সরকারি দলের ইসরাফিল আলমের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে সংসদ নেতা ও সরকারপ্রধান বলেন, ১০ টাকা কেজি করে চাল প্রদানের কর্মসূচি দীর্ঘদিন চালু থাকবে।

জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ দমনে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ : আওয়ামী লীগদলীয় সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রোধসহ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সব ধরনের নাশকতা ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ প্রদান করেছে। তিনি আরো জানান, জঙ্গি-সন্ত্রাসীসহ সব অপরাধীর কর্মকাণ্ড রোধে তাদের অর্থের জোগানদাতা ও অর্থের উৎস সন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সব ধরনের নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সহিংসতা প্রতিরোধ করার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করাসহ নিয়মিত সভা-সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।

সরকারের অগ্রাধিকার দারিদ্র্য দূরীকরণ : জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতি হিসেবে জন্মলগ্ন থেকেই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত লক্ষ্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা। অর্থনীতির শক্তিশালী ভিত রচনার মাধ্যমে দেশকে উন্নত অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সরকার নির্বাচনী অঙ্গীকারের সনদ ‘রূপকল্প ২০২১’-এর আলোকে বিগত মেয়াদের শুরুতেই প্রণয়ন করে প্রেক্ষিত পরিকল্পনা (২০১০-২০২১)। এর ফলে দীর্ঘায়িত বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও ২০০৯ থেকে ২০১৬ পর্যন্ত গড়ে ৬ দশমিক ১৬ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন হয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখাসহ বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে সরকার উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ’

২০২১ সালের মধ্যে আইসিটি রপ্তানি পাঁচ বিলিয়ন ডলার : সরকারি দলের সংসদ সদস্য কামরুল আশরাফ খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপের প্রতিফলনই হচ্ছে আজকের এই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার লক্ষ্য পূরণে ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের যাত্রা। এ অভিযাত্রাকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যের পথে এগিয়ে নিতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ বিভিন্ন প্রকল্প, কর্মসূচি, প্রচার ও প্রতিযোগিতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে।


মন্তব্য