kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বখাটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের স্বীকারোক্তি

কলেজ ছাত্রী খাদিজা লাইফ সাপোর্টে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও সিলেট অফিস   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কলেজ ছাত্রী খাদিজা লাইফ সাপোর্টে

রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের পর লাইফ সাপোর্টে থাকা খাদিজার ছবিটি এমপি সাবিনা আক্তার তুহিনের ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া।

সিলেটে ছাত্রলীগ নেতার নৃশংস হামলায় গুরুতর আহত খাদিজার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি। ‘তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে’ জানিয়ে ডাক্তাররা বলছেন, পর্যবেক্ষণের ৭২ ঘণ্টা পার না হলে কিছুই বলা যাবে না।

এদিকে কলেজ ছাত্রী খাদিজাকে কোপানোর কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। আদালতে বদরুল বলেছেন, প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় তিনি চাপাতি দিয়ে খাদিজাকে কুপিয়েছেন। এমন হামলার প্রতিবাদে গতকালও সিলেট ছিল উত্তাল। মানববন্ধন, সমাবেশ আর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা হামলার নিন্দা এবং ওই ছাত্রলীগ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।

লাইফ সাপোর্টে খাদিজা

খাদিজার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে স্কয়ার হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মীর্জা নাজিম উদ্দীন বলেন, ‘তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে অপারেশনের পর থেকে ৭২ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রেখেছি আমরা। ওই সময়সীমা পার হওয়ার পর পরিস্থিতি কী হয় তা বলা যাবে। ’

খাদিজাকে দেখতে গতকাল স্কয়ার হাসপাতালে যান বন ও পরিবেশ মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হকসহ বিশিষ্টজনরা। তাঁরা এ সময় খাদিজার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, ‘সিলেটের সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলাকারী বদরুল আলম যে সংগঠনেরই হোক, রেহাই পাবে না। তাকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এখন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। সরকার এই বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতিতে আছে। আগেও নারী ও শিশু নির্যাতনকারী কেউ রেহাই পায়নি। বদরুলও পাবে না। ’

তিনি বলেন, এই মামলাটিকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন করতে সরকার উদ্যোগ নেবে। প্রতিমন্ত্রী আরো

বলেন, হামলার ঘটনা ভিডিও করার চেয়ে ভিকটিমকে বাঁচানো গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এসব ঘটনার ক্ষেত্রে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যতসংখ্যক লোক দূর থেকে খাদিজার এই ঘটনা প্রত্যক্ষ করেছে তারা সবাই মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুললে হয়তো হামলাকারী এতটা নৃশংস হওয়ার সুযোগ পেত না।

প্রতিমন্ত্রী স্কয়ার হাসপাতালে আইসিইউয়ে থাকা খাদিজাকে দেখেন এবং ডাক্তারদের কাছে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। খাদিজার সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে তিনি ডাক্তারদের নির্দেশ প্রদান করেন।

এ ছাড়া গতকাল খাদিজাকে দেখতে ওই হাসপাতালে যান মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই ঘটনার দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। তদন্ত শেষ করে দু-এক সপ্তাহের মধ্যে অভিযোগপত্র ?আদালতে দাখিল করতে হবে।

চাপাতি দিয়ে কোপাই : প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে চাপাতি দিয়ে কোপান শাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলম। ঘটনার দিন দুপুরে নগরের আম্বরখানা বাজার থেকে মাংস কাটার একটি চাপাতি কিনে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে অপেক্ষা করতে থাকে বদরুল। পরীক্ষা শেষে খাদিজা বেরিয়ে এলে তাঁর ওপর হামলা চালান বদরুল। গতকাল আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বদরুল এসব কথা জানান।

গতকাল বুধবার দুপুরে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার পর বদরুলকে মহানগর পুলিশ শাহপরান থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে দুপুরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়। সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে বদরুল জানান, খাদিজার বাড়িতে তিনি গৃহশিক্ষক হিসেবে ছিলেন। খাদিজার ছোট ভাইদের তিনি পড়াতেন। খাদিজাদের বাড়িতে ৯-১০ মাস লজিং ছিলেন উল্লেখ করে বদরুল দাবি করেন, সে সময় খাদিজার সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক হয়। কিন্তু একসময় খাদিজার পরিবার বিষয়টি জেনে ফেলে। এ কারণে খাদিজা আট থেকে ১০ মাস ধরে তাঁর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেনি।

আদালতে বদরুল জানান, গত সোমবার সকালে তিনি এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে যান। দুপুর ১২টার আগেই ক্যাম্পাসে ঢোকেন খাদিজা। এ সময় দেখা হলে তিনি (বদরুল) অনুরোধ করেন, তাঁদের সম্পর্কটা যেন ভেঙে না দেন। কিন্তু খাদিজা সরাসরি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন। বদরুল জানান, ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে তিনি আম্বরখানা বাজারে যান এবং মাংস কাটার একটি চাপাতি কিনে এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে আবার ফিরে আসেন। পরীক্ষা শেষে খাদিজা বেরিয়ে এলে আবার তাঁর সঙ্গে দেখা হয়। আবারও খাদিজা তাঁকে নেতিবাচক উত্তর দেন। তখন বদরুল উত্তেজিত হয়ে চাপাতি দিয়ে খাদিজাকে কোপাতে থাকেন। বদরুল আদালতে জানান, তিনি খাদিজাকে এলোপাতাড়ি কোপান। পরে লোকজন এসে তাঁকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।

ক্ষোভ-বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ : কলেজ ছাত্রী খাদিজার ওপর হামলার প্রতিবাদে গতকালও ক্ষোভ-বিক্ষোভে উত্তাল ছিল সিলেট। নগরের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ, সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সকালে নগরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও সড়ক অবরোধ করেছে সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থীরা। তিন দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এসব কর্মসূচি পালন করে তারা।

সকাল ১০টায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিছিল করে শিক্ষার্থীরা চৌহাট্টা, রিকাবীবাজার, জিন্দাবাজার ঘুরে ক্যাম্পাসের সামনে এসে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ‘ফাঁসি, ফাঁসি, ফাঁসি চাই’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো চৌহাট্টা এলাকা। সড়ক অবরোধের ফলে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বিভিন্ন শ্রেণির সাধারণ মানুষকেও তাদের বিক্ষোভে একাত্ম হতে দেখা যায়। ঘণ্টাখানেক বিক্ষোভের পর একপর্যায়ে শিক্ষকদের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তা ছেড়ে দিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে চলে যায় তারা। এ সময় শিক্ষার্থীরা খাদিজা হত্যাচেষ্টার আসামি শাবিপ্রবির ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে। শিক্ষার্থীরা জানায়, বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করে সিলেটের জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি দেবে।

সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ও এই আন্দোলনের আহ্বায়ক ফজিলাতুন্নেসা বলেন, ‘আমরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। আমাদের মা-বাবা আমাদের স্কুল-কলেজে পাঠান। কিন্তু আসলেই কি সেখানে আমরা নিরাপদ? কোপানোর সংস্কৃতি আজ কলেজে ঢুকে গেছে। আর কত খাদিজা মরলে আমরা নিরাপত্তা পাব?’

এদিকে খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলাকারী বদরুলের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার সদর উপজেলার টুকেরবাজার তেমুখীতে ‘সদর উপজেলার সচেতন নাগরিকবৃন্দ’র ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে একই কাতারে দাঁড়িয়ে বদরুলের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপি, আঞ্জুমানে আল ইসলাম, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিসের নেতারাসহ সর্বস্তরের মানুষ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ছাত্র নামধারী বখাটে নরপশু বদরুলকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদরউদ্দিন আহমদ কামরান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ আশফাক আহমদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি আবুল কাশেম, টুকেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ শহিদ আহমদ, বিএনপি নেতা শাহ জামাল নুরুল হুদাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

এ ছাড়া গতকাল দুপুরে এমসি কলেজে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং অধ্যক্ষকে স্মারকলিপি দিয়েছে কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এবং সূর্যোদয় ফাউন্ডেশন এমসি কলেজ।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আশ্বাস : স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে সুস্থ করে তুলতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, হামলাকারী বদরুল যে দলেরই হোক না কেন তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। গতকাল সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন মা : একমাত্র মেয়ের এই করুণ অবস্থায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন খাদিজা আক্তার নার্গিসের মা মনোয়ারা বেগম। তাঁর কান্না থামানো যাচ্ছে না। স্বজনরা জানান, দিনরাত মেয়ের জন্য আহাজারি করছেন মা। পুরো পরিবারে চলছে শোকের মাতম। গতকাল খাদিজার বাড়িতে গেলে এমন চিত্র দেখা যায়।

প্রতিবেশীরা জানায়, তিন দিন ধরে খাদিজার মায়ের কান্না কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। খাদিজার বাবা মাসুক মিয়া বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তিন ভাইয়ের একমাত্র বোন খাদিজা। বড় ভাই শাহীন আহমদ চীনে এমবিবিএস পড়ছেন। ছোট দুই ভাইয়ের মধ্যে সালেহ আহমদ সিলেট সেন্ট্রাল কলেজে পড়ছে এবং ছোট ভাই জুবায়ের স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। খাদিজার মা মনোয়ারা বেগমের একটিই চাওয়া, তাঁর মেয়ের ওপর হামলাকারীর যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়।

শাবি ছাত্রলীগের প্রতিবাদ : কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিস হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগকে জড়ানোয় প্রতিবাদ জানিয়েছে শাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগ। গতকাল বুধবার দুপুর ২টায় শাবি প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিবাদ জানায় তারা।

লিখিত বক্তব্যে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ বলেন, ‘সন্ত্রাসী বদরুল আলমের এই নৃশংসতা একান্তই তার ব্যক্তিগত। এ অপরাধের দায়ভার কোনোভাবেই শাবি ছাত্রলীগের ওপর আসতে পারে না। তা ছাড়া বদরুল আলম চাকরিরত থাকায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তার সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই। ’ তিনি বলেন, ‘উক্ত সন্ত্রাসী (বদরুল) প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে তথ্য গোপন করে ছাত্রলীগের পদ নিয়েছিল। ’ তিনি আরো বলেন, খাদিজা আক্তার নার্গিসকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় শাবি ছাত্রলীগ ব্যথিত, দুঃখিত এবং লজ্জিত। তিনি একই সঙ্গে বদরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বদরুলের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খান বলেন, ‘যেহেতু ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেউ না তাই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ছাত্রলীগের নেই। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বদরুল যেহেতু গ্রেপ্তার হয়েছে, তাই প্রচলিত আইনেই তার বিচার হবে। আমরা শাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই। ’

উল্লেখ্য, গত সোমবার বিকেলে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসের ওপর হামলা চালায় শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র ও শাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম। এ সময় সে চাপাতি দিয়ে খাদিজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি কোপায়। এতে খাদিজার মাথা ও পা গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাতেই তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে। সেখানে আরেক দফা তাঁর মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়।

সংসদে ক্ষোভ নিন্দা : সিলেটে শিক্ষার্থী খাদিজা বেগমের ওপর প্রকাশ্য বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সংসদে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংসদ সদস্যরা। এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এ ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। সামাজিক অবক্ষয়ের কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে মানুষ যেভাবে সোচ্চার হয়ে উঠেছে, একইভাবে এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধেও জনগণকে সচেতন হতে হবে।

গতকাল বুধবার সংসদে প্রশ্নোত্তরকালে সংরক্ষিত নারী আসনের সরকারদলীয় সদস্য আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও একই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দমনে সরকারকে নির্মম হওয়ার দাবি জানান।

অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘খাদিজার ওপর হামলার পরপরই আমি সিলেটের ডিসি ও পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। আজও (বুধবার) আমি খাদিজার চাচা আব্দুল কুদ্দুসের সঙ্গে কথা বলেছি। আসামিকে ইতিমধ্যে ধরা হয়েছে। সিলেটের পুলিশ কমিশনার আমাকে জানিয়েছেন, আসামির বিরুদ্ধে সব ডকুমেন্ট সংগ্রহ করা হয়েছে, তার যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সে জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খাদিজার চিকিৎসার ব্যাপারে যা যা প্রয়োজন সব বিষয়ে কথা বলেছি, নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ’ 


মন্তব্য