kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অবসর ভাতা বাড়াতে বিল পাস

অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা সুবিধা পাবেন না

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা সুবিধা পাবেন না

অবসরে যাওয়া রাষ্ট্রপতিদের ভাতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘রাষ্ট্রপতির অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য সুবিধা আইন-২০১৬’ নামের একটি বিল পাস করা হয়েছে। এ বিলের বিধান অনুযায়ী বর্তমান রাষ্ট্রপতি অবসরে গেলে মাসে ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

তবে সর্বোচ্চ আদালত ঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা এ সুবিধা পাবেন না।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে গতকাল মঙ্গলবার বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী। তিনি সংসদ কাজে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী। বিলটি পাসের বিরোধিতা করেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সদস্যরা। তাঁরা ‘সর্বোচ্চ আদালত ঘোষিত অবৈধ রাষ্ট্রপতিরা এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন’—এই বিধান রাখার বিষয়ে কঠোর আপত্তি জানান। অবশ্য তাঁদের আপত্তি কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়। পরে সর্বসম্মতিতে বিলটি পাস হয়।

বিলটির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে ফখরুল ইমাম বলেন, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় আসার জন্য জাতীয় পার্টি তিনবার সহযোগিতা করেছে। তাই তারা জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের সুযোগ-সুবিধা কেড়ে নিতে পারে না। কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, একটি মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট ১৯৮৬ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত এরশাদের শাসনামলের বৈধতা দিয়েছেন। ফলে তাঁকে বঞ্চিত করা ন্যায়সংগত হবে না। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির তালিকায় খুনি মোশতাকের নাম থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন রওশন আরা মান্নান।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, এই বিলে কোথাও তাঁদের রাষ্ট্রপতির (এরশাদ) কথা বলা হয়নি। এর পরও তাঁরা এ বিষয়টি নিয়ে এলেন কেন? ওই তাঁদের দুর্বলতার দিক। তাঁরা বিষয়টি সংসদে না উত্থাপন করলেই পারতেন। তাঁরাই প্রমাণ করলেন তাঁদের নেতা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছিলেন। গণতন্ত্র ও মার্শাল ল একসঙ্গে চলতে পারে না। জাতীয় পার্টি এখন তা মেনেই সংসদে এসেছে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ চিরতরে বন্ধ করতে তিনি বিলে বিরোধী দলকে সমর্থনের আহ্বান জানান।

পাস হওয়া বিলে রাষ্ট্রপতির পেনশন ভাতা ধরা হয়েছে মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ। বর্তমান রাষ্ট্রপতির ৬১ হাজার ২০০ টাকা বেতন হিসাবে অবসর ভাতা হয় ৪৫ হাজার ৯০০ টাকা। আনুতোষিকের পরিমাণ এক বছরের জন্য প্রদেয় অবসর ভাতার তত গুণ হবে, যত বছর কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আর অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তিগত সহকারী, একজন অ্যাটেনডেন্ট ও দাপ্তরিক ব্যয় পাবেন। এ ছাড়া একজন মন্ত্রীর প্রাপ্য চিকিৎসা সুবিধা, সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিনা মূল্যে যানবাহন ব্যবহার, টেলিফোন সংযোগ, কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং দেশের ভেতরে সার্কিট হাউস ও রেস্টহাউস ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।

বিলে বলা হয়েছে, কমপক্ষে ছয় মাস রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন এমন ব্যক্তি এ সুযোগ-সুবিধা পাবেন। আর অবসর ভাতা গ্রহণ করে কোনো রাষ্ট্রপতি মৃত্যুবরণ করলে তাঁর স্ত্রী বা ক্ষেত্রমতে বিপত্নীক স্বামী মাসিক অবসর ভাতার দুই-তৃতীয়াংশ হারে আমৃত্যু মাসিক ভাতা পাবেন।

বিল অনুযায়ী, নৈতিক স্খলন বা অন্য কোনো অপরাধে আদালতে দণ্ডিত হলেও কোনো রাষ্ট্রপতি অবসর ভাতা পাবেন না। এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক অসাংবিধানিক পন্থায় অবৈধ উপায়ে রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন বা হয়েছিলেন মর্মে ঘোষিত কোনো ব্যক্তি অবসর ভাতা বা অন্যান্য সুবিধা লাভের অধিকারী হবেন না।

প্রসঙ্গত, জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল থেকে ১৯৮১ সালের ৩০ মে পর্যন্ত এবং হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। এ দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাসনামলকে অবৈধ ঘোষণা করেছেন সর্বোচ্চ আদালত।


মন্তব্য