kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাশ্মীর সীমান্তে পাক-ভারত ফের গোলাগুলি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কাশ্মীর সীমান্তে পাক-ভারত ফের গোলাগুলি

ভারত ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখার দুই পাশ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জন্য উভয় পক্ষ পরস্পরকে দোষারোপ করেছে।

ফলে পরমাণু শক্তিধর দুই দেশের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা চলছেই।

গতকাল মঙ্গলবার ভোর ৪টা থেকে কাশ্মীরের ভিমবার সেক্টরে দুই পক্ষের মধ্যে ফের গোলাগুলি হয়।

পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, ভারতীয় বাহিনী ‘বিনা উসকানি’তে গুলিবর্ষণ করায় নিয়ন্ত্রণ রেখার ভিমবার সেক্টরে দুই পক্ষের মধ্যে দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘ভিমবার সেক্টরের বাঘসার, ব্রহ ও খাঞ্জার এলাকায় বিনা উসকানিতে ভারতীয় বাহিনীর চালানো গুলিবর্ষণের উপযুক্ত জবাব দিয়েছে পাকিস্তানি সেনারা। ’

এদিকে ভারতীয় সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল সকালের দিকে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের নওসেরা সেক্টরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গুলি নিক্ষেপ করেছে পাকিস্তানি সেনারা। জবাবে ভারতীয় সেনারাও গুলি চালাতে শুরু করে।

দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি হলেও এতে কোনো পক্ষের কেউ হতাহত হয়নি বলে জানা গেছে। সোমবারও নিয়ন্ত্রণ রেখার আজাদ কাশ্মীর অংশের তিনটি সেক্টর নেজাপির, কাইলের ও ইফতিখারাবাদে দুই পক্ষের মধ্যে পৃথক তিনটি গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

১৮ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে চালানো বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়।

ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তান সমর্থিত সন্ত্রাসীরা এ হামলার সঙ্গে জড়িত। অন্যদিকে পাকিস্তান অভিযোগ অস্বীকার করে। এর পর থেকে কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই গোলাগুলি হচ্ছে। এর মধ্যে ২৯ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রণ রেখা পার হয়ে পাকিস্তানি অংশে সন্ত্রাসীদের ঘাঁটিতে ‘সার্জিক্যাল হামলা’ চালানো হয়েছে বলে দাবি করে ভারত। পাকিস্তান ভারতের দাবি অস্বীকার করে।

কিন্তু এর পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়ে। নতুন আরেকটি যুদ্ধের আশঙ্কায় ভারতের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর বাসিন্দারা এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম খবর দিয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ভারত যে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালানোর দাবি করেছে, এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। বেসরকারি এক টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সান্ডার কাদাকিন বলেন, ‘প্রতিটি দেশেরই নিজেকে নিরাপদ রাখার অধিকার রয়েছে। ’

কাশ্মীর প্রশ্নে আলোচনা নয় : নিরাপত্তা পরিষদ বিতর্কিত কাশ্মীর সীমান্ত নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যে সংকট চলছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তা নিয়ে কোনো আলোচনা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাতিসংঘের রুশ দূত এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট ভিটালি চারকিন। এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন তিনি।

কাশ্মীর প্রশ্নে ভারত-পাকিস্তানের উত্তেজনা নিয়ে জাতিসংঘ কী করবে—এমন এক প্রশ্নের জবাবে তৎক্ষণাৎ চারকিন বলেন, ‘সেসব নিয়ে কোনো কথা আমরা বলতে চাই না। কোনো কথা নয়। সেসব আলোচনার কোনো অবকাশ নেই। ’

উল্লেখ্য, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কাশ্মীর প্রশ্নে জাতিসংঘের অবস্থান জানিয়ে সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। সেই বিবৃতিতে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিদ্যমান অস্থিরতা কমাতে মধ্যস্থতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানালে এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ কথা জানান মুন। তবে নিরাপত্তা পরিষদ বিষয়টি নিয়ে একেবারে বিপরীত অবস্থান নিল। এ মাসেই নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন বসার কথা রয়েছে।

ভারতের অভ্যন্তরে ইউএভি : ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ইউএভি (আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল) দেখা গেছে বলে দাবি করেছে দেশটি সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে ইউএভির তৎপরতা তাদের চোখে পড়ে। ফলে কাশ্মীর তো বটেই, বাংলাদেশ সীমান্তেও নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। যেন কোনো জঙ্গি ভারতে ঢুকে হামলা চালাতে না পারে।

সূত্র : বিবিসি, এএফপি, রয়টার্স।


মন্তব্য