kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিস্ফোরক ইমরুলের দিনে ফতুল্লায় মুশফিকও

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিস্ফোরক ইমরুলের দিনে ফতুল্লায় মুশফিকও

ইংল্যান্ডের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে গতকাল সেঞ্চুরির পর ইমরুল কায়েস। ছবি : মীর ফরিদ

সকালে ফতুল্লা আর বিকেলে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। কালকের দিনটিকে মুশফিকুর রহিম এ দুই ভাগেই ভাগ করে নিলেন।

অনুশীলনে বরাবরই সিরিয়াস মুশফিক আফগানিস্তান সিরিজে রানও করেননি আবার উইকেটের পেছনে ক্যাচ-স্টাম্পিং মিস করে দলকে ভোগান্তিতেও ফেলেছেন। দুটিরই অনুশীলন তাই জরুরি তাঁর কাছে। বিকেলে তাঁকে মিরপুরে উইকেটকিপিং অনুশীলন করতে দেখাটা যতটা প্রত্যাশিত ছিল, সকালে ফতুল্লায় দেখা ঠিক ততটাই অবাক করার মতো দৃশ্য। ইংল্যান্ডের কাছে ৪ উইকেটে হারা বিসিবি একাদশের হয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলতে টেস্ট অধিনায়ক সেখানে।

দলে তাঁর নামই ছিল না। আগের রাতে তাঁর আগ্রহেই মুশফিককে অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন, ‘এই ধরনের ম্যাচ খেলতে যখন-তখন যে কাউকে ডেকে আনা যায়। কাল (পরশু) রাতে ও নিজে থেকেই খেলতে চেয়েছিল। এ জন্যই ওকে নেওয়া হয়েছে। ’ যে উদ্দেশ্যে খেলতে চাওয়া, সেটি অবশ্য সফল হয়েছে। খুব বড় কিছু হয়তো করেননি, তবে আফগানিস্তান সিরিজের তিন ম্যাচ মিলিয়ে ৫৬ রান করা মুশফিকের কাছে কালকের ৫১ রানের ইনিংসটি বড়ই, যেটি তাঁকে রানে ফেরার স্বস্তি দিতে যথেষ্টও।

তাঁর রানে ফেরার দিনে ‘সেরা চরিত্র’ ইমরুল কায়েস ইংলিশ বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলাও কম করলেন না। ২০০৩ সালের অক্টোবরে বিকেএসপিতে এক প্রস্তুতি ম্যাচে ইংল্যান্ডের বোলারদের দুমদাম মেরেছিলেন নাফিস ইকবালও। তবে কালকের ইমরুলের সঙ্গে তা তুলনীয় নয় কিছুতেই। শুরু থেকেই চড়া মেজাজে তাঁর ব্যাট। ইংল্যান্ডের পেসার ক্রিস ওকসের করা ম্যাচের প্রথম বলটি কাভার ড্রাইভে সীমানাছাড়া করেই যেন ছন্দটা ধরে ফেলেন। একই বোলারকে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে সৌম্য সরকার (৭) দুঃসময় প্রলম্বিত করে গেলেও ইমরুল ছেড়ে কথা বলেননি কোনো বোলারকেই।

৯১ বলে তাঁর ১২১ রানের ইনিংসে তাই ১১ বাউন্ডারির সঙ্গে ছয়-ছয়টি ছক্কার মারও আছে। এমনই বিস্ফোরক সে ইনিংস যে ৪৬ বলেই ফিফটিতে পৌঁছে যাওয়া বাঁহাতি ওপেনারের সেখান থেকে সেঞ্চুরিতে পৌঁছতে লেগেছে আর মাত্র ৩৫ বল। বাঁহাতি পেসার ডেভিড উইলিকেই মেরেছেন তিনটি ছক্কা, এর মধ্যে এক ওভারেই মেরেছেন দুটি। ওই ওভারেই তৃতীয়বার তুলে মারার চেষ্টায় বোল্ড না হলে নিঃসন্দেহে আরো বড় ইনিংসেই প্রথম ওয়ানডের একাদশে ঢোকার দাবিটা জানাতে পারতেন ইমরুল।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে লেগস্পিনে খাবি খাওয়া বাংলাদেশকে কাল অন্য বার্তাও দিলেন ইমরুল। ১০ ওভারে ৭৬ রান খরচ করা লেগস্পিনার আদিল রশীদও কাল কম দুরমুশ হলেন না তাঁর হাতে। দুটি ছক্কার একটি তাঁকে সুইপ করে ডিপ স্কয়ারলেগ দিয়ে মেরেছেন ইমরুল। অবশ্য ইমরুল-মুশফিকের পর অধিনায়ক নাসির হোসেনের ৪৬ রানে ৩০৯ রান করা বিসিবি একাদশের বিপক্ষে নিজেদের ব্যাটিং গভীরতার জানান দিয়েছে ইংলিশরাও। ষষ্ঠ উইকেটে অধিনায়ক জস বাটলার (৮০*) ও মঈন আলীর (৭০) ১৩৯ রানের পার্টনারশিপে জয় বের করা ইংল্যান্ডকে অবশ্য অন্ধকারেও রেখে দিয়েছে বাংলাদেশ।

ওয়ানডে স্কোয়াডের পেসারদের মধ্যে আল-আমিন হোসেনই শুধু খেলেছেন, খরুচেও ছিলেন। রবি পেসার হান্ট থেকে উঠে আসা এবাদত হোসেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ভোগাতে পেরেছেন অবশ্য। কোর্টনি ওয়ালশের পছন্দে নেট বোলার আলী আহমেদ মানিকও এই ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন। এই আনকোরা তরুণদের নিয়ে গড়া পেস অ্যাটাক নিয়ে নামা বিসিবি একাদশ আরেকটি কৌশলও স্পষ্ট করে দিয়েছে। ওয়ানডে সিরিজের আগেই বাঁহাতি স্পিনে ইংলিশদের যথেষ্ট প্রস্তুতির সুযোগ দিতে চায়নি তারা। যে কারণে সাঞ্জামুল ইসলামকে আনা হলো ৩৪তম ওভারে, বলও করেছেন মাত্র ৫ ওভার। জিতে প্রস্তুতিটা ভালোভাবে সারলেও ইংল্যান্ডের কাছে বাঁহাতি স্পিনটা রহস্যই রয়ে গেল তাই!

 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বিসিবি একাদশ ৫০ ওভারে ৩০৯/৯ (ইমরুল ১২১, মুশফিক ৫১, নাসির ৪৬, নাজমুল ৩৬, শুভাগত ১১, সৌম্য ৭; ওকস ৩/৫২, স্টোকস ২/৩৬, উইলি ২/৬৩, আদিল ১/৭৬)।

ইংল্যান্ড ৪৬.১ ওভারে ৩১৩/৬ (বাটলার ৮০*, মঈন ৭০, ভিন্স ৪৮, ডাকেট ২৯, জেসন ২৮, স্টোকস ২৮; এবাদত ২/২৬, সাঞ্জামুল ১/২৩, শুভাগত ১/৪২, আল-আমিন ১/৬৪, কামরুল ১/৭২)।

ফল : ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী।


মন্তব্য