kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রী

শিশুকে শাস্তির মানসিকতা থেকে বের হতে হবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



শিশুকে শাস্তির মানসিকতা থেকে বের হতে হবে

শিশু একাডেমি অডিটরিয়ামে গতকাল বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ উদ্যাপন অনুষ্ঠানে শিশুদের মাঝে প্রধানমন্ত্রী। ছবি : পিএমও

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের শিশুরা যেন যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে সে জন্য তাঁর সরকার নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বইয়ের বোঝা বইতে যেন না হয় সে জন্য আমরা ই-বুক করে দেব।

বাচ্চারা ট্যাব নিয়ে স্কুলে যাবে। ’ প্রধানমন্ত্রী শিশুদের স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে দেওয়ার জন্য তাদের শাস্তি প্রদানের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

গতকাল বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান। ‘থাকবে শিশু সবার মাঝে ভালো, দেশ-সমাজ, পরিবারে জ্বলবে আশার আলো’ প্রতিপাদ্য নিয়ে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ ২০১৬ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সব শিশুরই সমাজে সমান অধিকার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, কোনো শিশুই যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় এবং শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে সমাজের বিত্তবানদেরও এগিয়ে আসতে হবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের আজকে খাদ্যের কোনো অভাব নেই, কাজেই কোথাও কোনো শিশুই যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। ...আমরা প্রত্যেকটা মানুষেরই খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে চাই। ’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু চাইতেন এ দেশের কোনো মানুষ আর দরিদ্র থাকবে না। কোনো শিশুই মায়ের কোলে ধুঁকে ধুঁকে মারা যাবে না। প্রত্যেকটা মানুষ তার জীবনের অধিকার পাবে। কাজেই তাঁর সেই আদর্শ বুকে নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’

বিত্তবানদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের বাড়ির আশপাশে যারা দরিদ্র শিশু আছে, তারা কেমন আছে, সে লেখাপড়া করতে পারছে  কি না, তার গায়ে কাপড় আছে কি না, তারা পেটভরে খেতে পারছে কি না—দয়া করে এসব শিশুর দিকে একটু নজর দেবেন। সেটাই আমার আহ্বান। ’ তিনি বলেন, ‘কারণ এটুকু করতে পারলে আপনি দেখবেন আপনার শিশুটির সঙ্গে কিন্তু এই শিশুটিও বড় হতে পারে। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে আরো সুন্দর করে গড়ে তুলব। বর্তমানকে আমরা উৎসর্গ করব আমাদের শিশুদের সুন্দর আগামীর জন্য। নিরাপদ ও সুন্দর জীবন যেন তারা পায়। ’ শিশুদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সোনামণিরা তোমাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ আমরা গড়ে তুলব, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘দরিদ্র হয়ে কেউ জন্মায় না। একটা দরিদ্র পরিবারে জন্ম বলেই সে দরিদ্র। কিন্তু ওই শিশুটি ধনীর ঘরে জন্মালে সেও তো ধনীই হতো, কাজেই এই ব্যবধানটা যেন শিশুদের মাঝে কোনোমতেই না দেখা দেয়। এই বিষয়টা ছোটবেলা থেকেই শিশুদের শেখানো একান্তভাবেই দরকার। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি শিশু পবিত্র শিশু। সে যেখানেই থাকুক সমাজে তার সমান অধিকার রয়েছে। কাজেই এই অধিকারটা যেন সে নিশ্চিতভাবে পায় তা সকলে দেখবেন, সেটাই আমি আশা করি। আমরা প্রত্যেকটা মানুষেরই খাদ্যের নিশ্চয়তা দিতে চাই। কাজেই আমাদের দেশে একটি শিশুও যেন না খেয়ে কষ্ট না পায়। ’

মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ইউনিসেফের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভএডুয়ার্ড বেইগবেডার, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম।

কোমলমতি শিশুদের পক্ষে শিশু বিকাশ কেন্দ্র গাজীপুর ও আজিমপুরের দুই শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তার মীম ও মুজিবুর রহমানও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিশুরা জাতি গঠনের মূল ভিত্তি, তারাই আগামীর ভবিষ্যৎ। সভ্যতা ও সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেবে আজকের শিশুরা। বিশ্ব পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে। তাই শিশুদের যোগ্য করে গড়ে তোলা; পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সমান অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বৈষম্যহীন শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। ’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র সংবিধানের ২৮(৪) অনুচ্ছেদে শিশুদের জন্য রাষ্ট্রকে বিশেষ বিধান প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে। সংবিধান, জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদ এবং জাতির পিতা প্রণীত শিশু আইন অনুযায়ী শিশুদের কল্যাণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। ’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করতে কম্পিউটার ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। কোনো ছেলেমেয়ে যেন স্কুল থেকে ঝরে না পড়ে সেদিকে আমরা বিশেষ নজর দিচ্ছি। আমাদের সরকার বই কেনার ঝামেলা নিয়ে নিয়েছে, দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করেছে। হাওর ও পাহাড়ি এলাকায় শিশুদের দূর থেকে স্কুলে আসতে কষ্ট হয়। তাই আবাসিক স্কুল করে দিচ্ছি। ’ শেখ হাসিনা তাঁর ভাষণে শিশুদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও আইসিটি ল্যাব প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা খাতে তাঁর সরকারের নানা উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি শিশুর ঝরে পড়া রোধে বিদ্যালয়ে শিশুবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি ও মিড-ডে মিল চালুর কথা উল্লেখ করে এই কাজে সরকারের পাশাপাশি স্ব-স্ব এলাকার বিত্তবান ও জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ শিশু একাডেমির প্রশিক্ষণার্থী শিশুদের পরিবেশনায় ‘সব বাধা পেরিয়ে এগিয়ে যাও বাংলাদেশ’ শীর্ষক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শিশু একাডেমিতে শিশুদের জন্য একটি ডিজিটাল লাইব্রেরিরও উদ্বোধন করেন। সূত্র : বাসস।


মন্তব্য