kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উত্তেজনা কমাতে ভারত ও পাকিস্তানের ফোনালাপ

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



উত্তেজনা কমাতে ভারত ও পাকিস্তানের ফোনালাপ

কাশ্মীরের নিয়ন্ত্রণ রেখায় চলমান উত্তেজনা নিরসনে ভারত ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে ফোনালাপ হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা সারতাজ আজিজ গতকাল সোমবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সারতাজ আজিজ জানান, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও পাকিস্তানের জাতীয়  নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসির জানজুয়ার মধ্যে টেলিফোনে এই আলোচনা হয়। তাঁরা কাশ্মীর নিয়ন্ত্রণ রেখায় চলমান উত্তেজনা নিরসনে একমত হন। তিনি বলেন, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রণ রেখায় উত্তেজনা কমাতে এবং কাশ্মীর ইস্যুতে মনোযোগ দিতে চায়। কিন্তু ভারত উত্তেজনা বাড়িয়ে কাশ্মীর থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরাতে চায়।

ফের হামলা : এর আগে গত রবিবার রাতে কাশ্মীরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের ঘাঁটিতে ফের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে মারামুল্ল জেলা শহরে সেনাবাহিনী ও বিএসএফের দুটি ঘাঁটিতে এই হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয় ভারতীয় সেনারা। দুই পক্ষের সংঘর্ষে এক বিএসএফ সদস্য নিহত এবং আরেকজন আহত হন। এ ছাড়া দুই হামলাকারী নিহত হয় বলে ভারত জানিয়েছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা হামলা চালিয়ে ১৮ সেনাকে হত্যা করে। পরে গত ২৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের ভেতরে ঢুকে জঙ্গিঘাঁটিতে সার্জিক্যাল স্ট্রাইক (নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা) চালায় ভারত। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে রবিবার রাতে ফের জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটল বারামুল্লায়।

ভারতের সার্চ অপারেশন শুরু : ভারতশাসিত কাশ্মীরের বারামুল্লায় সেনা ও বিএসএফ ঘাঁটিতে হামলাকারীদের ধরতে সার্চ অপারেশন শুরু করেছে ভারত। এ অভিযান তদারক করছেন সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তারা। কাশ্মীর বিষয়ক বিএসএফের আইজি বিকাশ চন্দ্র জানান, গতকাল সকাল থেকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ওই শহরের গুলনার পার্ক, স্টেডিয়াম কলোনি ও জানবাজপোরা এলাকায় তল্লাশি চালায়। এই স্টেডিয়াম কলোনি এলাকায়ই সেনাবাহিনীর ঘাঁটির অবস্থান, যেখানে রবিবার রাতে হামলা করে জঙ্গিরা।

গুরুদাসপুর সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি : বারামুল্লায় জঙ্গি হামলার পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ জানিয়েছে, গুরুদাসপুর সীমান্তে তারা আট সন্দেহভাজন জঙ্গির গতিবিধি শনাক্ত করতে পেরেছে। বিএসএফের মুখপাত্র জানান, সীমান্তে সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ করার পর বিএসএফ সদস্যরা চারটি ফাঁকা গুলি ছোড়েন। সেখানে শক্তি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পাকিস্তানের সঙ্গে সংলাপ নিরর্থক—সাবেক র প্রধান : ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইংয়ের (র) সাবেক প্রধান বিক্রম সুদ বলেছেন, পাকিস্তান যদি মনোভাব পরিবর্তন না করে তাহলে দেশটির সঙ্গে সংলাপ করে কোনো কাজে লাগবে না। তিনি বলেন, ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইক একটি মনোভাব, যা নতুন এবং আগ্রাসী।

বিক্রম সুদ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ‘আমরা যদি পাকিস্তানকে আলোচনায় বসতে আমন্ত্রণ জানাই, তাহলেও পাঠানকোট, গুরুদাসপুর ও উরির ঘটনা ঘটবে। তারা (পাকিস্তান) কাশ্মীর ইস্যুর সমাধান চায় না। যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা আহত হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না এবং তাদের মনোভাবও পরিবর্তিত হবে না। ’ সাম্প্রতিক সার্জিক্যাল অপারেশনের কথা ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আন্তসীমান্ত অপারেশন চলবে। সম্প্রতি নাগাল্যান্ডেও এটি ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক উক্তি ‘রক্ত ও নদীর পানি একই উৎস থেকে বইতে পারে না’—উল্লেখ করেন তিনি প্রশ্ন করেন, ‘একই উৎস থেকে কিভাবে সংলাপ হতে পারে?


মন্তব্য