kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ইয়োশিনোরি ওসুমি

সাব্বির রহমান খান, সুইডেন থেকে   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন ইয়োশিনোরি ওসুমি

বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে কোষের সজীব থাকার কৌশল উদ্ঘাটনের জন্য চিকিৎসাবিজ্ঞানে এবার নোবেল পুরস্কার পেলেন জাপানের বিজ্ঞানী ইয়োশিনোরি ওসুমি। কোষের এ প্রক্রিয়াটির নাম অটোফাজি।

বাংলায় ‘স্ব-ভোজন’ বা ‘আত্মভোজন’ বলা যেতে পারে।

ওসুমি দীর্ঘদিনের গবেষণায় অটোফাজি প্রক্রিয়ার সূক্ষ্ম বিষয়গুলো উন্মোচন করেন। কোন প্রক্রিয়ায় দেহকোষ নিজস্ব উপাদানের ক্ষয় রোধ করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠে সেটি তিনি স্পষ্ট করেন। অটোফাজি শব্দটির উৎস দুটি গ্রিক শব্দ—অতো (স্বয়ং) ও ফাগেইন (খাওয়া)।

ওসুমির এ আবিষ্কার দেহকোষের উপাদানগুলোর অবক্ষয় ও সেসবের পুনর্বার ব্যবহারযোগ্য হয়ে ওঠার বিষয়গুলোকে স্পষ্ট করেছে। এ প্রক্রিয়া অধ্যয়নের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় বিষয়, কোষের  পুষ্টির ঘাটতি ও বিভিন্ন রোগের কারণ জানা যাবে।

গতকাল সোমবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১১টায় (বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে ৩টা) সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউট থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ক নোবেল কমিটির সেক্রেটারি থোমাস পেরলমান ২০১৬ সালের চিকিৎসাবিজ্ঞানের নোবেল পুরস্কারের জন্য ইয়োশিনোরি ওসুমির নাম ঘোষণা করেন।

ওসুমি চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা করেছেন। ১৯৮৮ সালে তিনি নিজস্ব গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা করেন। তখন তিনি বেকারিতে ব্যবহার্য ইস্ট বা খামির কোষের রসপূর্ণ গহ্বরে থাকা প্রোটিনের অবক্ষয়-প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণায় আগ্রহী হয়ে ওঠেন। ইস্ট বা খামির কোষ গাঠনিকভাবে মানবদেহের কোষের মতো। তাই গবেষণার জন্য ইস্ট-কোষ বেছে নেন তিনি। অবশ্য কারিগরি ও প্রযুক্তিগত কারণে তাঁকে এ কোষের অটোফাজি প্রসেস আবিষ্কারে অনেক বেগ পেতে হয়েছে।

ওসুমির এ-সংক্রান্ত গবেষণা বিজ্ঞানীমহলে সমাদৃত। অটোফাজি-বিষয়ক ধারণা নতুন নয়, ১৯৫০ সাল থেকে এ নিয়ে চিন্তাভাবনা হয়েছে। তবে তাঁর আবিষ্কারের আগে বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। কোষে অটোফাজি-প্রক্রিয়ার অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়ার কৌশল জানা ছিল না।

কোষের অটোফাজিবিষয়ক ওসুমির গবেষণার ফল ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয়। স্ব-ভোজনপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোষ এর মধ্যে জমা বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে নিজেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তোলে। সংশ্লিষ্ট জিনগুলোকেও শনাক্ত করেছেন তিনি। এ আবিষ্কার কোষীয় জটিলতাজনিত বিভিন্ন রোগের—ক্যান্সার থেকে শুরু করে পারকিনসন পর্যন্ত—কারণ নির্ণয় ও সেসবের নিরাময়ের ওষুধ তৈরির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়োশিনোরি ওসুমি ১৯৪৫ সালে জাপানের ফুকুওয়াকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৭৪ সালে পিএইচডি করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন বছর গবেষণার পর ১৯৮৮ সালে তিনি টোকিওতে আগের কর্মস্থলে যোগ দেন এবং একটি গবেষণা টিম গঠন করেন। ২০০৯ সাল থেকে তিনি টোকিও ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে অধ্যাপনা করছেন।

আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে এক অনুষ্ঠানে ওসুমির হাতে একটি মানপত্র, একটি স্বর্ণপদক ও ৮০ লাখ সুইডিশ ক্রোনারের চেক (প্রাইজ মানি) তুলে দেওয়া হবে।  


মন্তব্য