kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


গুলশান হত্যাযজ্ঞ

জামিন পেলেন তাহমিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



জামিন পেলেন তাহমিদ

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার তাহমিদ হাসিব খান জামিন পেয়েছেন। গতকাল রবিবার ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

পরে রাতে কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্ত হন তিনি।

গত ১ জুলাইয়ের ওই হামলার ঘটনার পর তাহমিদসহ এক ডজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমও রয়েছেন। পরে তাঁকে হামলা-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আর কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদসহ সন্দেহভাজন আরো কয়েকজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিভিন্ন মেয়াদে হেফাজতেও (রিমান্ড) নেন তদন্তকারীরা। তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘ তদন্তে এখনো ঘটনার সঙ্গে তাহমিদের কোনো সংশ্লিষ্টতা মেলেনি। কমান্ডো অভিযানে নিহত হলি আর্টিজানের কর্মী সাইফুল ইসলাম ও জাকির হোসেন শাওনেরও সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র জানায়, ভিডিও ফুটেজে জঙ্গিদের সঙ্গে সন্দেহজনক চলাফেরা ছাড়া ঘটনার সঙ্গে তাহমিদের জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ এখনো মেলেনি। সন্দেহভাজনদের ঘিরে এখনো তদন্ত চলছে।

আদালত সূত্র জানায়, গতকাল তাহমিদের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকা মহানগর হাকিম লস্কার সোহেল রানা। হলি আর্টিজানে হামলার ঘটনায় তাহমিদের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় সিটিটিসি ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আগামী বুধবার ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন আদালত।

ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেলর জাহাঙ্গীর কবীর জানান, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার পর রাত ১১টার দিকে কেরানীগঞ্জের কারাগার থেকে তাহমিদকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

সূত্র মতে, তদন্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তাহমিদ দাবি করেন, জিম্মিদশায় বাধ্য হয়ে তিনি জঙ্গিদের কথা মতো কাজ করেন। তিন প্রত্যক্ষদর্শী আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতেও একই বর্ণনা দেন। আদালতের জবানবন্দির আগে প্রত্যক্ষদর্শী এক তরুণী কালের কণ্ঠ’র কাছে জিম্মিদশার পুরো বর্ণনা দেন, যেখানে তাহমিদ জড়িত নয় বলে তিনি দাবি করেন।

সিটিটিসি সূত্র জানায়, গুলশান হত্যাকাণ্ডের আগের দিন ঢাকায় আসেন তাহমিদ। সেদিন হলি আর্টিজানে খেতে গিয়েছিলেন তিনি। উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা তাঁকে জিম্মিদের পেছনের অংশে দেখেন এবং তাঁকে সন্দেহভাজন মনে হয়। পরে প্রকাশিত ছবিতেও জঙ্গিদের সঙ্গে দেখা যায় তাহমিদকে।

সূত্র মতে, প্রকাশিত ছবি ও জঙ্গিদের সঙ্গে ছাদে যাওয়া ছাড়া ঘটনার সঙ্গে তাহমিদের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি। লন্ডনভিত্তিক একজন শরীরীভাষা বিশেষজ্ঞ তাহমিদের অস্ত্র ধরে থাকার ছবি দেখে মন্তব্য করেন, পরিস্থিতির শিকার হয়ে তাহমিদ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছিলেন।

সিটিটিসি ইউনিটের এক কর্মকর্তা গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গুলশানের মামলায় কল্যাণপুরের জঙ্গি আস্তানা থেকে আটক রিগ্যানকেও গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। হাসনাত করিমের ব্যাপারে এখনো তদন্ত চলছে। নব্য জেএমবির নিহত ও শনাক্ত কয়েকজন জঙ্গি ছাড়া আর কারো এ মামলায় এখনো জড়িত থাকার প্রমাণ মেলেনি। তাহমিদেরও কোনো প্রমাণ মেলেনি। ’

সম্প্রতি সিটিটিসি ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম নিহত রেস্তোরাঁকর্মী শাওন ও সাইফুলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি বলে জানান। তিনি কালের কণ্ঠকে আরো বলেন, ‘সন্দেহভাজনদের ব্যাপারে এখনো তদন্ত চলছে। ’

গত ১ জুলাই গুলশানের ৭৯ নম্বর সড়কের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশি নাগরিক ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ২২ জনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। রাতভর জিম্মিদশার পরদিন সকালে সেনাবাহিনীর অপারেশন থান্ডারবোল্টে নিহত হয় পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন। অভিযানের আগে ও পরে হলি আর্টিজান থেকে ৩৫ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ওই রেস্তোরাঁর সন্দেহভাজন কর্মী শাওনও ছিল। আহত শাওন পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। অভিযানের সময়ই নিহত হয় রেস্তোরাঁটির সন্দেহভাজন আরেক কর্মী সাইফুল। তবে উদ্ধার পেলেও ঘটনার পর থেকেই তাহমিদ ও হাসনাতের হদিস মিলছিল না বলে দাবি করেছিল তাঁদের পরিবার।

এরই মধ্যে হলি আর্টিজানে হামলাকারী জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদের কথা বলা ও চলাফেরার কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। গত ২ আগস্ট ওই দুজনকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখায় সিটিটিসি ইউনিট। প্রথম দফায় আদালতের নির্দেশে তাঁদের আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। ১৩ আগস্ট একই ধারায় তাহমিদের ফের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। একই দিন হাসনাতকে গুলশান হামলার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের নির্দেশে আট দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। হাসনাতই গুলশান হামলার মামলার প্রথম আসামি। গত ২০ ও ২২ আগস্ট রিমান্ড শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দুজনকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপর গতকাল তাহমিদের জামিন মঞ্জুর হলো।

 


মন্তব্য