kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ

দল ঘোষণা ফিরলেন আল-আমিন

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



দল ঘোষণা ফিরলেন আল-আমিন

সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা যে স্মার্ট কার্ড গ্রহণ করেন, সেখানে ছিলেন তিনি। দুপুরের পর একপাক ঘুরে যান শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামেও।

যদিও জাতীয় দলের সঙ্গে আপাতত নেই এই মুস্তাফিজুর রহমান। আর ‘কাটার মাস্টার’-এর না থাকার হাহাকার আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ছিল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের আবহেও থাকছে প্রবলভাবে।

মুস্তাফিজ বিসিবির ভেতরে ঢুকে যাওয়ার কিছু পরেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ ইংল্যান্ডের। বিশাল নিরাপত্তা বহরের মাঝে বড় বড় দুটো বাসে চড়ে।

আগের দিন আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে এক দর্শকের মাঠে অনাহৃত প্রবেশের রেশ নেই ইংলিশদের চলনে-বলনে। একাডেমি মাঠে অনেকক্ষণ অনুশীলন করেন তাঁরা। স্টেডিয়ামের ভেতরেও কিছুক্ষণ। বাংলাদেশ অবশ্য আগের দিন ম্যাচের পর কাল অনুশীলন করেনি। আজ থেকে শুরু হবে ব্যাট-বলের ঝালাই করে নেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ক্রিকেটযুদ্ধের দামামা যে বেজে উঠেছে, তা বুঝতে অসুবিধা হয় না।

মুস্তাফিজ নেই ইনজুরির কারণে। ওদিকে আফগানদের বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে বোলিং করার সময় হুমকি খেয়ে পড়ে যান মাশরাফি বিন মর্তুজা। যদিও পরে উঠে দাঁড়িয়ে বোলিং করেন। তবে তা ছোট রানআপে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ অক্টোবর প্রথম ওয়ানডের আগে সুস্থ হয়ে যাওয়ার আশাবাদ তাঁর। যদিও আগামী দুই-এক দিন বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শই দেওয়া হয়েছে তাঁকে। আরেক অভিজ্ঞ পেসার রুবেল হোসেনকে এখন খেলতে হবে জাতীয় ক্রিকেট লিগ। কেননা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের জন্য ঘোষিত দলে নেই তিনি। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে বিতর্কিতভাবে বাদ পড়া আল-আমিন হোসেনকে ফেরানো হয়েছে তাঁর জায়গায়।

সাম্প্রতিক সময়ে জাতীয় দলের সফলতম বোলার আল-আমিন। ঢাকা লিগেও উইকেট শিকারির তালিকায় ছিলেন শীর্ষ পাঁচে। আফগানদের বিপক্ষে সিরিজে তাঁর বাদ পড়ায় বিতর্ক ছড়ানোই স্বাভাবিক। তার ওপর প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন আবার সংবাদ সম্মেলনে বলে দেন আল-আমিনের ব্যাপারে কিছু ‘নেতিবাচক’ কথা আসার খবর। পরের সিরিজেই অবশ্য সেই পেসার ফেরেন জাতীয় দলে। কারণটা কাল ফোনে বলেন মিনহাজুল, ‘রুবেল ও আল-আমিন একই ধরনের বোলার। ওদের একজনকে সুযোগ দিতে চেয়েছি আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে। এ কারণে রুবেলকে সুযোগ দেওয়া। কিন্তু প্রথম দুই ম্যাচে ওর পারফরম্যান্সে আমরা খুশি হতে পারিনি। আর আল-আমিন তো পুলের মধ্যেই আছে। মাঝে জাতীয় লিগের যে ম্যাচ খেলে, তাতে ও ভালো করেছে। সব মিলিয়ে ওকে ফেরানো। ’

ফিরতে পেরে দারুণ আনন্দিত আল-আমিন। কাল দুপুরে শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে জিম করতে এসে জাতীয় দলের ম্যানেজার খালেদ মাহমুদের কাছে খবরটি পান প্রথম। সন্ধ্যায় কথা বলার সময়ও আনন্দ ঝরে পড়ে তাঁর কণ্ঠে, ‘অবশ্যই আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুযোগ না পেয়ে মন খারাপ হয়েছিল। কিন্তু একেবারে হতাশ হয়ে পড়িনি। বুঝেছি যে টিম ম্যানেজমেন্ট হয়তো অন্যদের একটু দেখতে চাইছে। আমার তাই বিশ্বাস ছিল, ইংল্যান্ডের বিপক্ষেই সুযোগ পাব। ’ সুযোগ পাওয়ার পর নিজেকে নতুন করে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ কি নেই? আল-আমিন দেন পরিণত উত্তর, ‘আমাদের জন্য এখন প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বপূর্ণ। ভালো খেলতে না পারলে বাদ পড়ে যাব, তা জানি। আমি সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। ’ মুস্তাফিজ না থাকায় দায়িত্বটা বেশি বলেও মেনে নেন তিনি, ‘আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেই টের পাওয়া গেছে মুস্তাফিজের অভাব। কেবল সাকিব ভাই একদিক দিয়ে চাপ দিতে পেরেছেন। মুস্তাফিজ থাকলে আমরা সব সময় দুই দিক দিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে পারি। ওর মতো বোলারকে যেকোনো দল মিস করবে। কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করতে হবে ওর অভাব পূরণের। ’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের ১৪ সদস্যের স্কোয়াডে নেই বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। আট বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আফগানদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে তিন উইকেট নেওয়া মোশররফ হোসেন জায়গা ধরে রাখেন। নির্বাচকরা আরেক দফা আস্থা রাখেন ফর্মহীন সৌম্য সরকারের ওপর। তবে এই বাঁহাতি ওপেনারকে নিয়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা বোঝা যায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুলের কথায়, ‘অবশ্যই সৌম্যকে নিয়ে আমরা আলোচনা করেছি। কিন্তু এখানে আমাদের খুব শক্তিশালী বিকল্প নেই। এ ছাড়া সৌম্য ইদানীং রান করতে না পারলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের পরীক্ষিত পারফরমার। ওকে তাই আরেকটি সুযোগ আমরা দিতে চেয়েছি। ’

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেই সুযোগটা কাজে লাগানোর চ্যালেঞ্জ এখন সৌম্যর।

প্রথম দুই ওয়ানডের স্কোয়াড : মাশরাফি বিন মর্তুজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদ উল্লাহ, নাসির হোসেন, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, শফিউল ইসলাম, মোশাররফ হোসেন, আল-আমিন হোসেন ও তাসকিন আহমেদ।

 


মন্তব্য