kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাশ্মীর সীমান্তে ফের গোলাগুলি ভারতে রেড অ্যালার্ট জারি

ইসলামাবাদ ও দিল্লিকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিলেন বান কি মুন

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



কাশ্মীর সীমান্তে ফের গোলাগুলি ভারতে রেড অ্যালার্ট জারি

কাশ্মীর সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে ভারত ও পাকিস্তানকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। শুক্রবার বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করে তাঁর হস্তক্ষেপ কামনা করেন জাতিসংঘে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি। বৈঠক শেষে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এই মধ্যস্থতার আহ্বান জানান। তবে ভারত এ প্রস্তাবে না করে দিয়েছে।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তানে ঢুকে ভারতীয় বাহিনীর সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের (সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা) পর উভয় দেশের সীমান্তে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে দুই দেশের সেনাদের মধ্যে ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ভারত আশঙ্কা করছে, সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বদলা নিতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা প্রতিশোধমূলক হামলা করতে পারে। এ জন্য সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে ভারত। দুই দেশের উত্তজেনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি পূর্বনির্ধারিত ভারত সফর স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

জাতিসংঘের মধ্যস্থতার প্রস্তাব : জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র শুক্রবার এক বিবৃতিতে বলেন, কাশ্মীর সীমান্তে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মহাসচিব ভারত ও পাকিস্তানকে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেন, জাতিসংঘ প্রধান গভীর উদ্বেগের সঙ্গে কাশ্মীর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং উত্তেজনা কমাতে সব প্রস্তাব ও উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানাবেন।

জাতিসংঘে পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি গত শুক্রবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি ভারতের ‘আগ্রাসন’-এর বিষয়ে মুনকে ব্যক্তিগতভাবে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান। এর কিছুক্ষণ পর দুই দেশের মধ্যে জাতিসংঘ প্রধানের মধ্যস্থতার প্রস্তাবের কথা জানান তাঁর মুখপাত্র। বিবৃতিতে বান কি মুন দুই পক্ষকেই সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানান।

মুখপাত্র বলেন, পাকিস্তান ও ভারত সরকারকে কাশ্মীর সমস্যাসহ অন্যান্য বিরোধের বিষয়গুলো আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন বান কি মুন। মহাসচিব বলেছেন, দুই পক্ষ চাইলে তাঁর কার্যালয় মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বৈঠকের পর পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূত মালিহা লোধি বলেন, ‘ওই অঞ্চলের (কাশ্মীর সীমান্ত) জন্য এ মুহূর্তটি বিপজ্জনক। এখন তাঁর (মহাসচিবের) জোরাল হস্তক্ষেপের সময় হয়েছে। যদি আমরা এ সংকট এড়িয়ে যাই, তাহলে আমাদের আরো বড় সংকট প্রত্যক্ষ করতে হবে। ’

জাতিসংঘ মহাসচিবের এই প্রস্তাবের পর জাতিসংঘে ভারতীয় মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিস্থিতিকে বাড়িয়ে দেখানোর কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।

ফের গোলাগুলি : জাতিসংঘ মহাসচিবের মধ্যস্থতার প্রস্তাবের মধ্যেই গতকাল ভোরেও কাশ্মীর সীমান্তে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের দুই দিনের মাথায় উভয় পক্ষের মধ্যে এ ঘটনা ঘটল। কাশ্মীর সীমান্তের আখনুর সেক্টরে প্রায় দুই ঘণ্টা গোলাগুলিতে কেউ হতাহত হয়নি বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে। এ সময় সীমান্তবর্তী গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। এর আগেই অবশ্য কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরিয়ে নিয়েছে উভয় দেশ। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বেসামরিক কর্মকর্তা পোয়ান কোতয়াল জানান, উভয় পক্ষ ছোট অস্ত্র ও মর্টার শেলের ব্যবহার করেছে।

হামলার পর পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তাদের সেনারা ভারতের উসকানিমূলক হামলার যথাযথ জবাব দিয়েছে। এ বিষয়ে ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

দুই সপ্তাহ আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরি এলাকায় একটি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ১৮ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এর পর থেকেই উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারত ওই ঘটনার জন্য পাকিস্তান সমর্থিত জঙ্গিদের দায়ী করেছে, যদিও পাকিস্তান তাদের কোনো দায় থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে। এই উত্তেজনার মধ্যে দুই দেশেই সীমান্ত থেকে বেসামরিক লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার এবং সামরিক মহড়ার খবর পাওয়া গেছে।

ভারতে ‘রেড অ্যালার্ট’ : পাকিস্তানে ঢুকে ভারতের সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের বদলা নিতে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিদের প্রতিশোধমূলক হামলার আশঙ্কা করছে ভারত। এ অবস্থায় রাজধানী দিল্লি এবং গুজরাট, মহারাষ্ট্র, পাঞ্জাব, রাজস্থান ও কাশ্মীরে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলোর সম্ভাব্য স্লিপার সেলের বিরুদ্ধে এসব রাজ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। নির্দেশনায় কৌশলগত স্থান, শিল্প অবকাঠামো, জনবহুল স্থান, বিমানবন্দর, ঐতিহাসিক স্থাপনা, সরকারি ভবনে নিরাপত্তা ও নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জঙ্গিদের প্রতিশোধমূলক সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জঙ্গিদের এ হামলার দিকনির্দেশনা দিতে পারে।

ভারতীয় সিনেমা পাকিস্তানে ‘নিষিদ্ধ’ : পাকিস্তানের সিনেমা প্রদর্শক ও পরিবেশক ইউনিয়ন দেশটিকে ভারতীয় সিনেমা দেখানো বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে ভারতীয় মোশন পিকচার্স প্রোডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন ভারতীয় শিল্পী ও টেকনিশিয়ানদের নিষিদ্ধ ঘোষণার পর এ সিদ্ধান্ত নিল পাকিস্তান ফিল্ম এক্সিভিটরস ও ডিস্ট্রিবিউটরস গ্রুপ। শুক্রবার রাতে এ ঘোষণা দেয় তারা। তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে।

পাকিস্তানি প্রধান বিচারপতির ভারত সফর বাতিল : আগামী ২১-২৩ অক্টোবর ভারতে অনুষ্ঠেয় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও এতে যোগ দিচ্ছেন না পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি আনোয়ার জাহির জামিল। দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ সফর সম্ভব নয় বলে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষকে এক চিঠিতে জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধান বিচারপতি। গতকাল পাকিস্তানি গণমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করেছে। সূত্র : এএফপি, রয়টার্স, ইন্ডিয়া ডটকম।


মন্তব্য