kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ এনআইডির স্মার্ট কার্ড উদ্বোধন

প্রথমেই পাচ্ছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা

কাজী হাফিজ   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



প্রথমেই পাচ্ছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর বহুকাঙ্ক্ষিত জাতীয় পরিচয়ের (এনআইডি) মেশিন রিডেবল স্মার্ট কার্ড প্রথমেই পাচ্ছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। আজ রবিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কার্ডটি তাঁকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কাছে হস্তান্তর করবেন। বিকেলে সিইসির নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনাররা তা রাষ্ট্রপতির কাছে পৌঁছে দেবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেই জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যদের হাতে স্মার্ট কার্ড তুলে দেওয়া হবে। কার্ড বিতরণ কার্যক্রম সফল করার জন্য জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে শুভেচ্ছা দূত করা হয়েছে।

সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ শুরু হবে আগামীকাল সোমবার থেকে। এদিন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রমনা থানার অন্তর্গত ১৯ নম্বর ওয়ার্ড, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উত্তরা থানার অন্তর্গত ১ নম্বর ওয়ার্ড এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বিলুপ্ত দাশিয়ারছড়া ছিটমহলে স্মার্ট কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা রয়েছে ৪০০ দিনের মধ্যে চার ধাপে এই কার্ড বিতরণ শেষ করার।

জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যদের সবার আগে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম গতকাল শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা দেশের গর্ব। তাঁরা দল-মত-শ্রেণি-পেশা-নির্বিশেষে সবার প্রিয়পাত্র। এ কারণেই তাঁদের হাতে প্রথমে এই স্মার্ট কার্ড পৌঁছে দিতে চায় নির্বাচন কমিশন। ’

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৩ অক্টোবর থেকে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রমনা থানার অন্তর্গত ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। আর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ থেকে ২২ অক্টোবর স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব কার্ড বিতরণ হবে না, ভোটারকে নিজ নিজ উপজেলা/থানা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে আঙুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি এবং সাধারণ পেপারের লেমিনেটেড কার্ড ফেরত দিয়ে সেই কার্ড সংগ্রহ করতে হবে। যাঁরা লেমিনেটেড জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেননি তাঁরা তাঁদের ভোটার স্লিপের মাধ্যমে এনআইডি নম্বর জেনে বিতরণকেন্দ্রে গেলেই স্মার্ট কার্ড পাবেন।

স্মার্ট কার্ডে বিদ্যমান কার্ডের যে নম্বর তা ১০ ডিজিটে পাল্টে যাবে। বিদ্যমান সাধারণ কাগজে লেমিনেটিং করা জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ১৩ ও ১৭ ডিজিটের। স্মার্ট কার্ডের ১০ ডিজিটের নম্বরের প্রথমে শূন্য থাকবে না। একই ডিজিট চার বা ততোধিকবার থাকতে পারবে না। তিনটি একই ডিজিট পরপর একবারের বেশি ব্যবহার করা হবে না। ক্রমানুসারে কোনো এনআইডি তৈরি হবে না। বিদ্যমান কার্ডে স্বামী বা স্ত্রীর নাম উল্লেখ থাকলেও স্মার্ট কার্ডের ওপরের অংশে স্বামী-স্ত্রীর নাম থাকছে না। তবে কার্ডের মাইক্রোচিপসে এই তথ্য দেওয়া থাকবে। কারণ স্বামী বা স্ত্রী পরিবর্তনযোগ্য। এ জন্য উন্নতমানের স্মার্ট কার্ডে একজন ভোটারের নাম, পিতা ও মাতার নাম দৃশ্যমান রাখা হবে।

নির্বাচন কমিশন ফরাসি কম্পানি অবারথু টেকনোলজির মাধ্যমে স্মার্ট কার্ড প্রস্তুতের কাজ করছে। এ বিষয়ে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৭৯৬ কোটি ২৬ লাখ টাকার চুক্তিতে এ কাজের মেয়াদ ছিল ২০১৬ সালের জুন পর্যন্ত। তবে পরে এ মেয়াদ ১৮ মাস বাড়িয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্স অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ) প্রকল্পের আওতায় তৈরি উন্নতমানের এই জাতীয় পরিচয়পত্রে তিন স্তরে মোট ২৫টি নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য সন্নিবেশিত থাকবে। এ ছাড়া স্মার্ট কার্ডের মধ্যে যে মাইক্রোচিপ দেওয়া থাকবে তাতে একজন নাগরিকের সব তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে ২৫টি কাজে ব্যবহার করা যাবে স্মার্ট কার্ড। সরকারি সব অনলাইন সুবিধা, টিআইএন প্রাপ্তি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট, সম্পত্তি কেনাবেচা, ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ, সরকারি ভাতা উত্তোলন, সহায়তা প্রাপ্তি, বিআইএন, শেয়ার-বিও অ্যাকাউন্ট, ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহন রেজিস্ট্রেশন, বীমা স্কিম, বিয়ে রেজিস্ট্রেশন, ই-পাসপোর্ট, ই-গভর্ন্যান্স, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগ, মোবাইল ফোন সংযোগ, হেলথ কার্ড, ই-ক্যাশ, ব্যাংক লেনদেন ও শিক্ষার্থীদের ভর্তির কাজে ব্যবহার করা হবে স্মার্ট কার্ড।

জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, স্মার্ট কার্ড বিতরণে ৭৫টি দল কাজ করবে। বিতরণকেন্দ্র হবে পাঁচ হাজার ২৫০টি (সিটি করপোরেশনগুলোর ৩৮৬টি ওয়ার্ড, ৩২০ পৌর ও চার হাজার ৫২৭টি ইউপি কার্যালয়)। দৈনিক একজন অপারেটর ১৫০টি করে কার্ড বিতরণ করবেন। ৭৫টি টিমের ২০ জন করে অপারেটর দৈনিক সোয়া দুই লাখ কার্ড বিতরণ করতে পারবেন। এ জন্য ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ১০ কোটি নাগরিকের মধ্যে ৯ কোটি নাগরিককে কার্ড দিতে সময়  লাগবে ৪০০ দিন। এরপর ভোটার তালিকার বাকি এক কোটি নাগরিককে স্মার্ট কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা নেবে নির্বাচন কমিশন।

প্রথম পর্যায়ে ঢাকার  দুই সিটি করপোরেশন ও কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা শেষে দ্বিতীয় পর্যায়ে  খুলনা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, বরিশাল, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, রংপুর ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় এই কার্ড বিতরণ করা হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে ৬৪টি সদর উপজেলা এবং  চতুর্থ পর্যায়ে বাকি সব উপজেলায় কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্ধারিত সময়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং মাইকিং, ব্যানার, ফেস্টুনের মাধ্যমে বিতরণের দিন, তারিখ ও স্থান জানিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন।


মন্তব্য