kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মান বাঁচানোর ম্যাচে রোদেলা পারফরম্যান্সের আশায়

মাসুদ পারভেজ   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



মান বাঁচানোর ম্যাচে রোদেলা পারফরম্যান্সের আশায়

কুমার সাঙ্গাকারা উদাহরণ হিসেবেই এলেন। এলেন ছোট দলের বিপক্ষে বড় ইনিংস খেলার সুযোগ হাতছাড়া না করার উদাহরণ হিসেবেই।

মাশরাফি বিন মর্তুজা নিজেই স্মৃতি থেকে বলছিলেন, ‘আমি অনেকবার দেখেছি, সাঙ্গাকারার মতো ব্যাটসম্যানরা আমাদের বিপক্ষে ১০০ রানের ইনিংসকে ২০০ বানিয়েছেন। ’

তা-ও একবার নয়, একাধিকবার। টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে দু-দুটি সেঞ্চুরিকে ডাবল বানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার সাবেক এ অধিনায়ক। আর ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামে আরেকটিকে রূপ দিয়েছিলেন ট্রিপল

সেঞ্চুরিতে; ৩১৯ রানের যে ইনিংসটি তাঁর ক্যারিয়ারে সর্বোচ্চ ইনিংসও হয়ে আছে। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং তাতে টেস্টের মতো অত বড় কিছু করার সুযোগও নেই। কিন্তু এই ফরম্যাটে একটি সেঞ্চুরিকে দেড় শ ছাড়ানো ইনিংসে রূপ দেওয়া তো খুবই সম্ভব। বাংলাদেশের কেউ অবশ্য সেই সম্ভাবনার ধারেকাছেও  যেতে পারেননি।

সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তবু তামিম ইকবালের ব্যাটে ৮০ রানের ইনিংসের দেখা মিলেছিল। ফিফটি করেছিলেন মাহমুদ উল্লাহও। কিন্তু দ্বিতীয় ম্যাচে একটি ফিফটিরও দেখা নেই। অধিনায়ক অবশ্য নিশ্চিত করতে চাইলেন যে আফগানদের সামনে পাওয়ার তুষ্টিতেই এই ব্যর্থতা নয়, ‘এ ধরনের মানসিকতা আমাদের অবশ্যই নেই। মনোযোগ হারিয়ে ফেলার কারণেই ব্যাটসম্যানরা বড় ইনিংস খেলতে পারেনি বলে আমার মনে হয়। ’ এখানে এটিও স্পষ্ট যে ব্যাটসম্যানরা এই দুই ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দিতে পারেননি।

আজ দিতে পারবেন, ব্যাটসম্যানদের কাছে সেই দাবিও থাকছে। সিরিজ নির্ধারণী শেষ ওয়ানডের আগে বড় ইনিংস খেলা নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনার খবরও দিলেন মাশরাফি, ‘আমরা এটি নিয়ে আলোচনাও করেছি। এই ম্যাচে কেউ যদি দেড় শ করতে পারে, তাহলে ওর ক্যারিয়ারে সেটি যোগ হবে। ’ গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে তামিম-মুশফিকুর রহিম-সৌম্য সরকারদের ব্যাটে তিন ম্যাচের সিরিজেই যেখানে দেখা মিলেছে চার সেঞ্চুরির, সেখানে আফগানদের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে অন্তত সেঞ্চুরির আশা করা যেতেই পারে। সেই আশা যদি বড় সেঞ্চুরি দিয়েই পূরণ হয়, তাহলে তো কথাই নেই। বাংলাদেশ শিবির অন্তত বিশ্বাস করে তাতে বিলম্বিত শততম ওয়ানডে জয়ে সিরিজ জেতার কাজটিও হয়ে যাবে। তাতে ইংল্যান্ড সিরিজের আগে আত্মবিশ্বাসে লাগবে না চোট-আঘাতও।

তবে আগের দুই ম্যাচে আফগানরাও এমন নাভিশ্বাস তুলে ছেড়েছে যে এর বিপরীত সম্ভাবনার ছবিও এঁকে রাখতে হচ্ছে। প্রথম ওয়ানডে কোনোমতে জিতলেও মাশরাফিরা হেরে গেছেন পরেরটায়। এতে কমেছে র‌্যাংকিং পয়েন্টও। সিরিজ হারলে র‌্যাংকিংয়ে পিছিয়ে পড়ার আলোচনায় যেতে না চাওয়া মাশরাফি অবশ্য এখানেই জোর দিতে চাইলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গেই জিততে চাই। তা সেটা প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে আফগানিস্তান কিংবা অস্ট্রেলিয়া, যারাই থাকুক না কেন। এটা ঠিক রাখতে পারলে র‌্যাংকিংয়েও আমরা এগিয়ে যাব। ’

সিরিজ জেতার সুযোগ থাকায় আফগানরাও কিন্তু দ্বিতীয় ওয়ানডে জেতার পর উচ্ছ্বাসে ভেসে যায়নি। সেদিন ব্যাটে-বলে দারুণ পারফর্ম করে ম্যাচসেরা হওয়া মোহাম্মদ নবীও বলে গিয়েছিলেন যে সিরিজ জিতেই উদ্যাপনটি করতে চান তাঁরা। সেই স্বপ্নপূরণে নিজেদের স্পিনারদের দিকেও তাকিয়ে আছে আফগান শিবির। হাসমতউল্লাহ শহিদি কালকের সংবাদ সম্মেলনে বলে গেলেন সে কথাই, ‘নবীর মতো দুর্দান্ত স্পিনার আছে আমাদের। আছে রশিদ খানের মতো তরুণ প্রতিভাও, যে কিনা ইতিমধ্যেই নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। আমি নিশ্চিত যে শেষ ম্যাচেও ওরা আমাদের জন্য ভালো কিছুই করবে। ’

সেই ভালো যদি সিরিজ জেতার মতো কিছু হয়ে যায়, তাহলে কিছুতেই সেটিকে ‘অঘটন’ বলবেন না মাশরাফি, ‘সে রকম কিছু হলে আমি বলব ওরা যোগ্যতর দল হিসেবেই জিতেছে। কারণ জিততে হলে ভালো খেলেই জিততে হয়। এর আগে বড় দলের বিপক্ষে পাওয়া আমাদের অনেক জয়কেও অঘটন বলা হয়েছে। আমাদের তখন খারাপও লেগেছে। আমাদের খারাপ লেগে থাকলে ওদেরও (আফগানদের) লাগবে। ’ যদিও সিরিজ হারের দুঃসহ অনুভূতির মধ্যে মাশরাফিরাও পড়তে চাইবেন না। সে জন্য আজ একাদশে একটি পরিবর্তন তো নিশ্চিত হয়েই আছে। গত ম্যাচ খেলা পেসার রুবেল হোসেন তো ১৪ জনের দল থেকেই ছিটকে পড়েছেন। তাঁর জায়গায় আসা বাঁহাতি স্পিনার মোশাররফ হোসেনের খেলা না খেলাটা এখনো রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরির মতোই।

কাল দুপুরের সংবাদ সম্মেলন সেরে বেরিয়ে ঝলমলে রোদ দেখেই মাশরাফিকে বলতে শোনা গেল, এ রকম রোদ থাকলেই ভালো। সকালে বৃষ্টি হলেই সমস্যা। পছন্দের ফ্ল্যাট উইকেটে প্রথম ওয়ানডে খেলা বাংলাদেশ শিবির পরের ম্যাচে টস হেরেই পড়েছে সমস্যায়। সকালটা মেঘলা হওয়ায় আগে ব্যাট করে বিপদেই পড়তে হয়েছিল। তাই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচের দিন রোদের আশা। আছে কারো ব্যাট বড় ইনিংসে হেসে ওঠার আশাও।


মন্তব্য