kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিপুল সংবর্ধনায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী

বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত মানুষের ঢল

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



বিপুল সংবর্ধনায় সিক্ত প্রধানমন্ত্রী

১৭ দিনের বিদেশ সফর শেষে গতকাল দেশে ফেরার পর গণভবনে শিশুরাও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফুল দিয়ে বরণ করে। ছবি : পিআইডি

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ দিনের সফর শেষে দেশের মাটিতে পা রেখেই বিপুল সংবর্ধনা পেলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত ছিল লোকে লোকারণ্য।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা নানা স্লোগানে শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ডে’ ভূষিত হওয়া এবং কানাডায় পলাতক বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক অগ্রগতির কারণে প্রধানমন্ত্রীকে এ গণসংবর্ধনা দেওয়া হয়। গণভবনে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জীবনে এতগুলো বছর কখনো ছুটি কাটাইনি। এবার তিন দিন ছুটি কাটালাম। সন্তানরা চায় তাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটাই। তবে দেশের মাটিতেই আমার ভালো লাগে, দেশে ফিরলেই আমি স্বস্তি পাই। ’

গণভবনে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানানো হয়। সেখানে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাসহ কয়েকজন শিল্পী প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে একটি রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন। প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত  নেতাকর্মী ও বিশিষ্টজনদের কুশল জানতে চান। প্রধানমন্ত্রী ওই সময় জানান, তাঁর এবারের কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র সফর ফলপ্রসূ হয়েছে। তিনি পূর্ব নির্ধারিত সময়ে দেশে না ফেরার বিষয়েও কথা বলেন। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে লন্ডন থেকে একাধিকবার তাঁকে দেশে ফিরতে বাধা দেওয়ার স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘যখনই দেশে ফিরি, বিমানবন্দরে এলে সেই সময়ের কথা মনে হয়। আমি পাগলের মতো দেশে ফিরতে চেয়েছি, কিন্তু আমাকে আসতে দেওয়া হয়নি। বিমানবন্দর থেকে একাধিকবার আমাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ’

নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপচারিতার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান তাঁর অতি স্নেহের নাতি-নাতনিরা। প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র ভাগ্নে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির সন্তানসহ আরো কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সন্তানরা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

গতকাল বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় অবতরণের কথা থাকলেও সেটি ৬টা ৪৩ মিনিটে এসে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্য ও কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ একাধিক নেতা। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও হুইল চেয়ারে বসে বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাতে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। এরপর প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে একটি গাড়িবহর খুবই ধীরগতিতে গণভবনের উদ্দেশে রওনা হয়।

শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানাতে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিকেল ৪টার পর থেকেই বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত রাস্তার দু্ই পাশে জমায়েত হতে থাকে। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলো থেকেও নেতাকর্মীরা আসে। তারা ঢাক, ঢোল ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র, ব্যানার, ফেস্টুনসহ বিভিন্ন পয়েন্টে আনন্দ মিছিল শুরু করে। প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে নানা স্লোগান দেওয়া হয়। ‘বাংলাদেশ ধন্য, শেখ হাসিনার জন্য’—এই স্লোগানে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো মুখরিত হয়ে ওঠে। প্রধানমন্ত্রীর বিমান পূর্বনির্ধারিত সময়ের দেড় ঘণ্টা পর পৌঁছালেও নেতাকর্মীরা রাজপথেই ছিল। গাড়িবহর রাস্তা অতিক্রমকালে সমবেত নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে, হাত নেড়ে তাঁকে অভিনন্দন জানায়। শেখ হাসিনাও হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের অভিবাদনের জবাব দেন।

গণভবনে প্রধানমন্ত্রীকে সংবর্ধনা জানাতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, অসীম কুমার উকিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চুসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিক। প্রধানমন্ত্রী সাড়ে ৭টার দিকে গণভবনে পৌঁছালে তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এ সময় তিনিও সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সংবর্ধনা সফল করতে বিমানবন্দর থেকে গণভবন পর্যন্ত আটটি পয়েন্টে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা অবস্থান নেন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাহারা খাতুন বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত পর্যন্ত জমায়েতে নেতৃত্ব দেন। সংসদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ ও সংসদ সদস্য কামাল আহমেদ মজুমদার খিলক্ষেত থেকে কুড়িল ফ্লাইওভার পর্যন্ত, কুড়িল ফ্লাইওভার থেকে র‌্যাডিসন হোটেল পর্যন্ত সংসদ সদস্য আসলামুল হক আসলাম ও ইলিয়াছ উদ্দিন মোল্লা, মহাখালী ফ্লাইওভার থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত এলাকায় সংবর্ধনায় নেতৃত্ব দেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিল।

তবে শুভেচ্ছা জানাতে আসা নেতাকর্মীরা দলীয় নির্দেশনা পুরোপুরি না মানায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণকে। যানবাহন চলাচলের সুবিধার জন্য নেতাকর্মীদের রাস্তায় না নামার দলীয় নির্দেশনা থাকলেও তা মানা হয়নি। বিকেল ৫টার আগেই বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীর গেট, কাকলী এলাকায় নেতাকর্মীরা ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। এতে বনানী, মহাখালী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে ফার্মগেট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। বিমানবন্দর এলাকায় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেওয়ায় টঙ্গী থেকে ঢাকাগামী রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আর ঢাকা থেকে টঙ্গীর দিকেও যান চলাচল সীমিত হয়ে পড়ে। এতে পুরো রাজধানীতেই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৪ সেপ্টেম্বর কানাডায় গ্লোবাল ফান্ডের একটি কনফারেন্সে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন। সেখান থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে যোগদানের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে যান। ২৬ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার কথা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত একমাত্র পুত্রের পরিবারের সঙ্গে জন্মদিন উদ্যাপনের জন্য আসার দিন তিনি পিছিয়ে দেন। প্রধানমন্ত্রী ওয়াশিংটন থেকে দুবাই হয়ে গতকাল ঢাকায় ফিরলেন।


মন্তব্য