kalerkantho


তারেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

আদালত প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তারেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রদ্রোহের একটি মামলায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরাফুজ্জামান আনসারী এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় দায়ের করা এ মামলায় বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টিভির প্রতিবেদক মাহথির ফারুকের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। অভিযোগপত্রে একুশে টিভির সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম ও সাংবাদিক কনক সারোয়ারকেও আসামি করা হয়। আবদুস সালাম এ মামলায় কারাগারে রয়েছেন। কনক সারোয়ার জামিনে আছেন।

গত ৬ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক ইমদাদুল হক তারেকসহ চার আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহসহ পুলিশ ইনসাইটমেন্ট টু ডিজঅ্যাফেকশন অ্যাক্ট ১৯২২-এর ৩ ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে তারেক রহমান ও মাহথির ফারুক খানকে পলাতক দেখিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হয়। চার্জশিটে বলা হয়, গত বছরের ৪ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য বিএনপি আয়োজিত এক সভায় তারেক রহমান প্রায় ৫০ মিনিট ধরে বক্তব্য দেন। তাঁর এই দীর্ঘ বক্তব্য একুশে টেলিভিশন সরাসরি সম্প্রচার করে।

এ বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। ২০০৯ সালে বিডিআর বিদ্রোহ নিয়েও তিনি বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা সম্পর্কেও অশালীন মন্তব্য করেন তিনি। ওই সব মন্তব্যের মাধ্যমে দেশের স্বাধীন বিচার বিভাগ, দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং পুলিশ বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ ও বিদ্বেষ সৃষ্টির জন্য তিনি অপচেষ্টা চালিয়েছেন, যা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকিস্বরূপ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল।

তারেক রহমান ঢাকা শহরকে অন্য জেলা থেকে এবং ঢাকার এক এলাকাকে অন্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার জন্য তাঁর দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন। ফলে বিএনপি-জামায়াতসহ ২০ দলীয় জোটের সমর্থকরা গত বছরের ৫ জানুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের মাধ্যমে জানমালের ব্যাপক ক্ষতি করার উসকানি পায়। অন্য আসামিরা তারেকের দেওয়া ওই বক্তব্য সরাসরি তাদের পরিচালনা ও মালিকানাধীন একুশে (ইটিভি) টেলিভিশনে গত বছরের ৫ জানুয়ারি সম্প্রচার করে।

অভিযোগে বলা হয়, পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন উসকানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্যাদি সম্প্রচার করে আসামিরা রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধ করেছেন।

গত বছরের ৮ জানুয়ারি তারেক রহমান, আবদুস সালামসহ অজ্ঞাতপরিচয় চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে এসআই বোরহানউদ্দিন মামলাটি দায়ের করেন।

এর আগে গত বছরের ৫ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৩টার দিকে ইটিভির কার্যালয় থেকে আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ১৯ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন সালাম। তখন থেকেই তিনি কারাগারে আছেন।

তারেকের বিরুদ্ধে অর্থপাচার মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলা, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। এ ছাড়া বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করার ঘটনায়ও কয়েকটি মামলার আসামি তিনি।

যুবদল-ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মসূচি : তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে আজ শুক্রবার সারা দেশে মহানগর ও জেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে যুবদল। সংগঠনটির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে কালের কণ্ঠকে জানান যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম নিরব।

অন্যদিকে ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান জানান, আগামীকাল শনিবার ঢাকাসহ দেশের সব জেলা, মহানগর ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে ছাত্রদল।

এ ছাড়া স্বেচ্ছাসেবক দল শনিবার দেশের সব জেলা ও মহানগরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করবে বলে কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বাচ্চু।


মন্তব্য