kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সংসদে সর্বসম্মত প্রস্তাব গৃহীত

দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদেরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদেরও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার প্রধান কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আনিসুল হক দৃঢ়কণ্ঠে বলেছেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যাকারী যুদ্ধাপরাধী-মানবতাবিরোধীদের কোনো সম্পত্তি এই স্বাধীন দেশে থাকতে পারে না, থাকার কোনো অধিকার নেই। অতি দ্রুতই বঙ্গবন্ধুর খুনি এবং দণ্ডিত যুদ্ধাপরাধীদের নামে-বেনামে থাকা সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তাব করে আনীত বেসরকারি সদস্যদের সিদ্ধান্ত প্রস্তাব নোটিশের জবাব দিতে গিয়ে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন। নোটিশদাতা বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর এ প্রস্তাবটি সমর্থন করে বক্তব্য দেন নূরজাহান বেগম, মনিরুল ইসলাম, আবদুল মতিন, বেগম সানজিদা খানম ও ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূঁইয়া। প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার পর সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়িয়ে তাঁদের সমর্থন জানান।

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে কোনো আইনের প্রয়োজন পড়বে না। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে আইনের কিছুটা সংশোধনী আনতে হবে। আর যারা মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করে গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ করেছে, তাদেরও কোনো সম্পত্তি থাকতে পারে না। তাদের নামে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হবে। এ লক্ষ্যে আইন মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে একটি বিল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই সংসদে বিল এনে পাসের মাধ্যমে দণ্ডপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তিও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে আইনগত বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সব সময়ই নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে গেছেন। আর তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করেন বলেই  প্রচলিত আইনে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। তাই বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের যে মুহূর্তে ফাঁসির দণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকে তাদের সব সম্পত্তি তাদের উত্তরাধিকারের কাছে চলে গেছে। তাই তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে হলে নতুন আইনের প্রয়োজন হবে। আমি দৃঢ়ভাবে দেশবাসীকে জানাতে চাই, আইন প্রণয়নের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে গেলে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটুকু বলতে চাই, শিগগিরই আইনটি প্রণয়ন করা হবে। আর যুদ্ধাপরাধীদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির আইন প্রণয়নের কাজও শুরু হয়ে গেছে। ’

আইনমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের যেসব আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, তাদের নামে-বেনামে থাকা সব সম্পত্তি খুঁজে বের করার জন্য গঠিত একটি টাস্কফোর্স কাজ শুরু করেছে। চলতি বছরের ৩১ মে টাস্কফোর্সের বৈঠকে এ বিষয়ে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। পলাতক খুনিদের ফেরত আনার চেষ্টা চলছে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের সব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্তির দাবি জানিয়ে বেসরকারি সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপনকারী বেগম ফজিলাতুন নেসা বাপ্পী বলেন, ‘জাতির পিতা আমাদের ভাষা, স্বাধীনতা, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত দিয়ে গেছেন। কিন্তু খুনি মোশতাক-জিয়ারা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে। ইয়াহিয়া-ভুট্টো কবর খুঁড়েও বঙ্গবন্ধুর গায়ে হাত দেওয়ার সাহস দেখাতে পারেনি, যা করেছে মোশতাক-জিয়ারা। ছোট্ট শিশু রাসেলকেও নির্মমভাবে হত্যা করে ঘাতকরা। এ রকম ভয়াল হত্যাযজ্ঞ বিশ্ব সভ্যতার কোথাও ঘটেনি। ’


মন্তব্য