kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সব খুনের নেপথ্যে জিয়ার সংগঠন

এস এম আজাদ   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সব খুনের নেপথ্যে জিয়ার সংগঠন

ব্লগার, লেখক, প্রকাশক ও সমকামী অধিকার কর্মী হত্যা ও হত্যা প্রচেষ্টার অন্তত আটটি ঘটনা ঘটিয়েছে একই জঙ্গি সংগঠনের কর্মীরা। গত তিন বছরে ওই জঙ্গিরা এসব ঘটনা ঘটায়।

রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপারমার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা, লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বরের প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) পরিবর্তিত ধারা আনসার আল ইসলাম মতাদর্শী উগ্রপন্থী দলের সদস্যরাই এসব আলোচিত খুনের নেপথ্যে। দীপন ও টুটুলের ওপর হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এবং অভিজিৎ হত্যার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণে জড়িত অনেকের নাম জানা গেছে। এদের মধ্যে ধরা পড়েছে সাতজন। ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছে একজন। সন্দেহজনক হিসেবে আটক আছে আরো ১৪ জন। আর হোতাসহ অন্তত ২৮ জঙ্গির নাম জানা গেছে যারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে। কয়েক জঙ্গি একাধিক হত্যা মিশনে অংশ নিয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান হিসেবে কোন মিশনে কে থাকবে তা ঠিক করে দেয়। ইশতিয়াক, সাগর, আশরাফ, বড় ভাইসহ বিভিন্ন ছদ্মনাম নিয়ে মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক আত্মগোপনে আছে। ঢাকার টঙ্গী, দক্ষিণখান, আশকোনা, আব্দুল্লাহপুর, মহাখালী, মোহাম্মদপুর ও কমলাপুর এলাকায় গোপন আস্তানায় তরুণ জঙ্গিদের জড়ো করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হতো বলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে। এসব আস্তানাকে বলা হয় মারকাজ। প্রতিটি মারকাজ থেকে আলাদা দল গঠন করে হত্যা মিশনে পাঠাত তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব জঙ্গির হোতা জিয়া ছাড়াও সেলিম ওরফে ইকবাল ওরফে মামুন ওরফে হাদি-২ এবং সাজ্জাদ ওরফে সজিব ওরফে সিয়াম ওরফে শামস এখনো পলাতক আছে। হত্যায় সরাসরি অংশ নেওয়া আকাশ, আলম, রাফি, তৈয়ব, রায়হান ওরফে রফিক ওরফে শিহাব, জনি, সাব্বির, তাহসিন, বাবর ও ইয়াহিয়ার হদিস মেলেনি এখনো। হত্যাকারী দলের সংগঠক ও প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছে মাসফি, আসাদ, সিয়াম, তাহরিক, মারুফ, জামান, আরিফ, সাইফুল, আলী ওরফে নোমান, আইমান, তানভির, মাহবুব, মেহরাজ মিরাজ, মাহমুদ ও সোহেল আশরাফ।

তদন্তকারীরা বলছেন, এসব জঙ্গিই প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা, আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যচেষ্টা, লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা, কলাবাগানে সমকামী অধিকারকর্মী জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যা, সূত্রাপুরে

 অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নাজিমউদ্দিন সামাদ, তেজগাঁওয়ে ওয়াশিকুর রহমান বাবু, সাভারে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিয়াদ মোর্শেদ বাবু ও গোড়ানে নীলাদ্রি নিলয় হত্যায় জড়িত। জসিমউদ্দিন রাহমানীসহ এবিটির (আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) কয়েকজন নেতা গ্রেপ্তার হলে জিয়া অনুসারীদের নিয়ে আনসার আল ইসলাম গঠন করা হয়। এরাই ব্লগার, লেখক, প্রকাশকদের হত্যার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে।

ডিবির উপকমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যাচেষ্টায় জড়িত শিহাব ওরফে সুমনকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়, তাদেরই আরেকটি দল প্রকাশক দীপনকে হত্যা করে। টঙ্গী ও কমলাপুরে দুটি মারকাজ বা আস্তানায় আশ্রয় ও প্রশিক্ষণ নেওয়া জঙ্গিরাই ওই দুই মিশনে অংশ নেয়। একপর্যায়ে টুটুলকে হত্যাচেষ্টাকারী দলের সবুর ওরফে রাজুকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ দলটির প্রধান ছিল শরিফুল ওরফে মুকুল, যে অভিযানের সময় মারা গেছে। এই শরিফুল লেখক অভিজিৎ রায় হত্যার সময় অপারেশনাল কমান্ডার ছিল। ডিসি খালেদ আরো জানান, দীপন হত্যায় জড়িত মাইনুল ওরফে সিফাতকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব জঙ্গি আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। তারা অভিজিৎ, জুলহাস ও তন্ময়, নাজিমুদ্দিন সামাদ, নিয়াজ মোর্শেদ বাবু হত্যায় একই গ্রুপের কয়েকজন জড়িত বলে জানায়। প্রতিটি দলে কমপক্ষে পাঁচজন করে সদস্য ছিল। তদন্তে যাদের নাম এসেছে এর মধ্যে পুরস্কার ঘোষিত চারজনসহ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। সব ঘটনায়ই বড় ভাই, নেতা বা প্রশিক্ষক হিসেবে তিনটি নাম এসেছে। এরা হলো জিয়া, ইশতিয়াক ও সাগর। আর এ তিনজন একই ব্যক্তি চাকরিচ্যুত মেজর জিয়া। এর পরই সেলিম ও শরিফুল ছিল। তারা সবাই আনসার আল ইসলামের অনুসারী। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জুলহাস ও তনয় হত্যায় জড়িত পাঁচজনের নাম আমরা পেয়েছি। এদের কয়েকজন আগেও হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কুষ্টিয়া থেকে তাদের অস্ত্র সরবরাহকারী সিহাবকে ধরার পর বেশ কিছু তথ্য আসে আমাদের হাতে। টুটুল হত্যাচেষ্টার মামলায় স্বীকারোক্তি দেওয়া সবুরকে আদালতের নির্দেশে ছয় দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছে দীপন হত্যা মামলায়। ’

গত ১৯ মে ব্লগার ও লেখক হত্যায় জড়িত ছয় জঙ্গির ছবিসহ তথ্য প্রকাশ করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। এদের ধরিয়ে দিতে ১৮ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। গুলশান হামলার পর আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার প্রধান সৈয়দ জিয়াউল হককে ধরতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ সদর দপ্তর। পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গিদের মধ্যে গত ১৬ জুন সুমন হোসেন পাটোয়ারি ওরফে সিহাবকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ২১ জুন সে ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গত ২৪ আগস্ট দীপন হত্যার আসামি সিফাত ওরফে শামীম ওরফে মঈনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৯ আগস্ট সে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। গত ১৯ জুন রাজধানীর খিলগাঁওয়ে শরিফুল ইসলাম ওরফে মুকুল ডিবির সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছে। সে দীপন, ওয়াশিকুর রহমান বাবু, নাজিমউদ্দিন সামাদ এবং জুলহাজ মান্নান ও তনয় হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী। অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজেও শরিফুলের উপস্থিতির প্রমাণ পেয়েছে ডিবি। সর্বশেষ গত ৩ সেপ্টেম্বর আবদুস সবুর ওরফে রাজু ওরফে সাদ ওরফে সামাদকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। ৯ সেপ্টেম্বর সে আদালতে টুটুল হত্যাচেষ্টা মামলায় স্বীকারোক্তি দেয়। সবুর বর্তমানে দীপন হত্যা মামলায় ছয় দিনের রিমান্ডে আছে।

পুলিশের তথ্য মতে, পুরস্কার ঘোষিত ছয়জনের তলিকায় এখনো অধরা থাকা সেলিম প্রকাশক দীপন, ব্লগার ওয়াশিকুর বাবু, নীলাদ্রি নিলয় এবং মিরপুরের স্কুল শিক্ষক হত্যার ঘটনায় নেতৃত্ব দেয়। সেলিম ছাড়াও সে ইকবাল, মামুন ও হাদি-২ নামে পরিচিত ছিল। সেলিমের উচ্চতা ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, গায়ের রং শ্যামলা এবং সে চশমা পরে। তার তথ্যদাতার জন্য পুলিশ পাঁচ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। অন্যদিকে পলাতক সাজ্জাদ লেখক অভিজিৎ রায় ও ব্লগার নীলাদ্রি নিলয় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। সাজ্জাদ সজিব, সিয়াম ও শামস নামেও পরিচিত সে। তার তথ্যদাতার জন্য দুই লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ।

একসঙ্গে হত্যার ছক কষে খুনিরা : সুনামগঞ্জের মাধবপুরের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে মাইনুল ইসলাম শামীম ওরফে সিফাত ওরফে সমির ওরফে ইমরান ঢাকার মহানগর হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি দেয়। সে জানায়, সাগর নামের এক বড় ভাই, সেলিম ও শরিফুল ওরফে সাকিবের পরিকল্পনায় প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে জানায়, সিলেটে লেখাপড়া করার সময় রাফি নামের একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়, যে তাকে জিহাদের কথা বলে। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সিলেট শহরের চৌহাট্টা মোড়ের কাছে এক বড় ভাইয়ের সঙ্গে রাফি তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়। সিফাত পরে জানতে পারে ওই ব্যক্তির নাম সাগর। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাসে ওই বড় ভাইয়ের নির্দেশে ঢাকায় এলে সেলিম তাকে আশকোনার একটি মেসে নিয়ে যায়। ওই মেসে সিয়াম, তাহরিক, মারুফ ও জামান নামে আরো চারজনের সঙ্গে সিফাতের পরিচয় হয়। সেখানে শরিফুল তাদের পিস্তল ও চাপাতি ব্যবহার করা শেখাত। এই দল ২০১৫ সালের প্রথম দিকে সাভারে নিয়াজ মোর্শেদ বাবুকে হত্যা করে। এরপর ছয়-সাত মাস বাড়িতে থেকে টঙ্গীর মাস্টারপাড়ার মেসে সাজ্জাদ ওরফে সিয়াম ও শরিফুলের সঙ্গে থাকে সিফাত। এরপর চেরাগ আলী এলাকার আরেক মারকাজে সুজন ওরফে সামাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। তখন সেলিম তাদের জানায়, শাহবাগের আজিজ সুপারমার্কেটে প্রকাশক দীপন ও লালমাটিয়ায় প্রকাশক টুটুলকে হত্যা করতে হবে। টঙ্গীর বর্ণমালা রোডে আরেকটি মারকাজ ছিল। সেখানে আকাশ, আলম, রাফি, তৈয়ব, রায়হান ওরফে রফিক ওরফে শিহাব ছিল। সেলিম তাদের মহাখালী কাঁচাবাজারে আরেকটি মারকাজ আছে বলে জানায়। ওই মারকাজে গিয়ে আকাশ, তৈয়ব, আলম ও জনিকে দেখতে পায় সিয়াম। সেখানে সেলিম তাদের সবাইকে দীপনের ছবি দেখিয়ে রেকি করতে বলে। তৈয়বের মাধ্যমে তাদের সে আস্তানায় পাঁচটি চাপাতি এবং নিজে পিস্তল ও গুলি নিয়ে আসে সেলিম। কথামতো গত বছরের ৩১ অক্টোবর আসাদ, আকাশ, আলম, তৈয়ব ও জনি প্রকাশক দীপনকে হত্যা করতে আজিজ সুপারমার্কেটে যায়। তখন সিফাত তাদের নির্দেশনা দেয়। একই দিন টঙ্গীর বর্ণমালা রোডের মারকাজ থেকে শরিফুল, সামাদ, সিহাব, রফিসহ কয়েকজন লালমাটিয়ায় প্রকাশক টুটুলকে হত্যা করতে যায়। পরে সিফাত আটক হলে সে জবানবন্দি দেয়। সিফাতের ভাষ্য মতে, যেসব ব্লগার, লেখক ও প্রকাশক খুন হয়েছে তার প্রতিটি ঘটনার পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন তদারকির মূল ব্যক্তি বড় ভাই সাগর ওরফে মেজর জিয়া। তার অন্যতম সহযোগী সেলিম ওরফে হাদী।

আলাদাভাবে বাছাই করে প্রশিক্ষণ, পরে খুনের দায়িত্ব : এদিকে কুমিল্লার মাওলানা ইদ্রিস পাটোয়ারির ছেলে আব্দুস সবুর ওরফে আব্দুস সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাদ প্রকাশক টুটুল হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে একই রকম তথ্য দেয়। সে জানায়, ২০১৩ সালে রাজধানীর গেণ্ডারিয়ায় ফরিদাবাদ এলাকায় থাকার সময় ইশতিয়াক নামের একজনের সঙ্গে পরিচয় হয় তার। ওই ব্যক্তি সবুরকে মোবাইল ফোনে জসিমউদ্দিন রাহমানীর বয়ান দেয়। এরপর একদিন ইসলামের জন্য জিহাদ করতে বলে। ওই ইশতিয়াকের কথামতো মিরপুর ১১ নম্বরে যায় সবুর। সেখানে একটি বাসায় সেলিম, সাব্বির, আরিফ, সাইফুলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এর পর থেকে তাদের সঙ্গে সবুরের যোগাযোগ হতো। গত বছর যাত্রাবাড়ীর রসুলপুর এলাকার একটি বাসায় সাব্বির, মাসফি ও আসাদের সঙ্গে তিন মাস থাকে সবুর। সেখানে সেলিম তাদের চাপাতি ও নাইন এমএম পিস্তল চালানোর প্রশিক্ষণ দেয়। এরপর সেলিমের নির্দেশনা মতে দক্ষিণখান ও আব্দুল্লাহপুরে যায় সবুর। আব্দুল্লাহপুরের মাস্টারপাড়ার একটি বাসায় শরিফুল ও সিফাতের সঙ্গে থাকে সে। এরপর টঙ্গীর চেরাগআলী এবং শেষে বর্ণমালা রোডের বাসায় থাকে। সেখানে আকাশ, আলম, সিহাব, তৈয়ব, রায়হান ও রাফির সঙ্গে ছিল সবুর। এ সময় তাদের দুই ভাগ করে দীপনকে হত্যার জন্য সিফাত, আকাশ, তৈয়ব ও আলমকে মহাখালীর একটি বাসায় অবস্থান করতে দেওয়া হয়। সবুরের সঙ্গে সিহাব, সাব্বির, তাহসিন, বাবর ও ইয়াহিয়াকে টুটুল হত্যার দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেলিম ও ইশতিয়াক তাদের টুটুলের ছবি দেখায়। প্রথমে দলটির প্রধান করা হয় সবুরকে। তবে রেকি করতে ভুল করায় তাকে বাদ দিয়ে শরিফুলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সবুর জানায়, টুটুলকে হত্যার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে তারা টঙ্গীর বাসায় ফিরে যায়। তবে সিফাতের নেতৃত্বে আলম, আকাশ, তৈয়ব, রায়হান ও রাফি হত্যা করে দীপনকে। জবানবন্দিতে সবুর জানায়, গত বছরের ডিসেম্বরে সে মোহাম্মদপুরের নবোদয় হাউজিংয়ের একটি বাসায় বোমা বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেয়। আলী ওরফে নোমান, আইমান ও তানভির ছিল তার প্রশিক্ষক।

টুটুল হত্যা মামলায় চাঁদপুরের শহরাস্তির সূচীপাড়ার মনির হোসেন পাটোয়ারির ছেলে সুমন হোসেন পাটোয়ারি ওরফে সুমন ওরফে শিহাব ওরফে সাইফুল জবানবন্দিতে একই বর্ণনা দেয়। সে জানায়, চট্টগ্রামে থাকাকালীন মাহবুব নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে মেহরাজ মিরাজ নামে একজনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর কেন্দ্রীয় মসজিদে পরিচয় হয় মাহমুদ নামে আরেকজনের সঙ্গে। তাদের সূত্রে সোহেল আশরাফ নামে একজনের সঙ্গে কথা হয়। তার নির্দেশেই সে টঙ্গী আসে। টঙ্গীতে এলে রায়হান নামের একজন তাকে বর্ণমালা গলির বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আকাশ, তৈয়ব, আলম ও রাফি ছিল। রাজু ও রায়হান তাদের প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পালন করে। রফি, তৈয়ব, আলম ও রায়হান চলে গেলে সেখানে তাহসিন, বাবর, ইয়াহিয়া ও সাব্বির আসে। হাদি (সেলিম) নামে এক বড় ভাই প্রশিক্ষণ দিয়ে পরিকল্পনা জানায়। ইশতিয়াক নামের এক বড় ভাই আছে যে সবার নেতা। তাহসিন ছিল টুটুল হত্যা মিশন দলের নেতা। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে সুমন জানায়, সাব্বির প্রথমে ঢুকে দারোয়ানকে পিস্তল ঠেকায়। তাহসিন ও বাবর ভেতরের রুমে গিয়ে লোকদের কোপাতে থাকে। সুমন চাপাতি নিয়ে দরজার সামনে দাঁড়ায়। সাব্বির গিয়ে একজনকে গুলি করে। টুটুলকে চিনতে পেরে সুমন চাপাতি দিয়ে তিনটি কোপ দেয়।

ডিবির উপকমিশনার (ডিসি-দক্ষিণ) মাশরুকুর রহমান খালেদ বলেন, ‘রিমান্ডে আসামিরা অনেক তথ্য দিয়েছে। আবার আসামিরা আদালতেও জবানবন্দি দিয়েছে। আমরা নিজেরা তদন্ত করে অনেক তথ্য পেয়েছি। আমাদের তথ্য তল্লাশিতে হোতা হিসেবে যাদের নাম এসেছে তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে চাকরিচ্যুত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক। তার সহযোগীদের মধ্যে সেলিম ও সাজ্জাদ নামে আরো দুজন রয়েছে। এদের প্রত্যেকেই পুরস্কার ঘোষিত শীর্ষ জঙ্গি। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। খুনি জঙ্গিদের ধরা পড়তেই হবে। ’


মন্তব্য