kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাতিল আওতার প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ ক্রয়

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



বাতিল আওতার প্রতিষ্ঠান থেকে ওষুধ ক্রয়

বাতিলের আওতায় থাকা ওষুধ ক্রয় ও সরবরাহ করার ঘটনায় এবার ফেঁসে গেছে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর। গত ১ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সুপারিশ উপেক্ষা করে লাইসেন্স বাতিলের আওতায় থাকা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ওষুধ কেনে এ অধিদপ্তর।

বাতিলের আওতায় থাকা একটি কম্পানির হরমোন আইটেমের একটি ওষুধের ৪৬ লাখ ভায়াল ইনজেকশন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কিনেছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের পদক্ষেপ নেয়। গত সোমবার মন্ত্রণালয় এ তদন্তের নির্দেশ দেয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বলা হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা ও সংসদীয় কমিটির সিদ্ধান্ত না মেনে ওষুধ সরবরাহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হয়েছে। সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের চক্রান্তকারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার কথাও বলা হয় ওই নির্দেশনায়।

গত সোমবার পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ডা. মো. সাজেদুল হাসান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে এ বিষয়টি জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত ১ ফ্রেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভায় ৮৪ ওষুধ কম্পানির বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন উপস্থাপিত হয়। ওই প্রতিবেদনে সভার সিদ্ধান্তের আলোকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জিএমপি (গুড মেনুফ্যাকচারিং প্রাকটিস) নির্দেশিকা অনুসরণ না করে ওষুধ উৎপাদন করাসহ অন্যান্য অনিয়মের দায়ে ২০টি ওষুধ কম্পানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ১৪টি কম্পানির শুধু অ্যান্টিবায়োটিক আইটেমের ওষুধের লাইসেন্স বাতিল, ২২ কম্পানির পেনিসিলিন ও সেফালোস্পরিন গ্রুপের ওষুধের লাইসেন্স বাতিল এবং একটি কম্পানির তিনটি ইউনিটের  পেনিসিলিন ও সেফালোস্পরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক, এন্টি ক্যান্সার ও হরমোন জাতীয় ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিলের সুপারিশ করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ওই সুপারিশের ভিত্তিতে উচ্চ আদালের আদেশ এবং প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনা অনুসারে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে প্রথমে ২০টি কম্পানির মূল লাইসেন্স এবং ১৪টি কম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক আইটেমের ওষুধের লাইসেন্স বাতিল করে দেওয়া হয়। সর্বশেষ সংসদীয় কমিটির একই সুপারিশের আলোকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ৭ সেপ্টেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর আলাদা করে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তিনটি ইউনিটের পেনিসিলিন ও সেফালোস্পরিন গ্রুপের অ্যান্টিবায়োটিক, এন্টি ক্যান্সার এবং হরমোন জাতীয় ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করে দেয়। আর শেষের এই কম্পানিটি নিয়েই বড় ধরনের  ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছে ওষুধ অধিদপ্তর। ১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের পরও বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব না দিয়ে গত জুন মাসে বাতিলের আওতায় থাকা ওই কম্পানির হরমোন আইটেমের একটি ওষুধের ৪৬ লাখ ভায়াল ইনজেকশন ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর কিনেছে। আর এ ওষুধের দাম পড়েছে প্রায় ১৮ কোটি টাকা। এর পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে তৈরি হয় বিরূপ পরিস্থিতির।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ডা. মো. সাজেদুল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। কিভাবে টেকনো ড্রাগসের কাছ থেকে ওই ওষুধ কেনার প্রক্রিয়া করা হলো তা দেখা হবে। আগামী ২ অক্টোবর আমি নিজেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে যাব তদন্তের জন্য। সব বিষয় খতিয়ে দেখার পর প্রতিবেদন দেওয়া হবে। ’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা কালের কণ্ঠকে বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর টেকনো ড্রাগসের পেনিসিলিন ও সেফালোস্পরিন গ্রুপের অ্যান্টবায়োটিক, এন্টি ক্যান্সার এবং হরমোন জাতীয় ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করলেও ওই আদেশেই এর ভিত্তি বা কারণ দেখানো হয়েছে সংসদীয় কমিটির সুপারিশে। তাই কার্যত যেদিন সংসদীয় কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ওই সুপারিশকে তাদের সিদ্ধান্ত বলে গ্রহণ করেছে সেদিন থেকেই এটি কার্যকর হয়েছে। তাই ওই সুপারিশে বাতিলের আওতায় থাকা সব আইটেমের ওষুধই ওই সময় থেকেই বাতিল বলে ধরা হবে। সুপারিশে এসব ওষুধকে পরিষ্কারভাবেই নিম্নমানের প্রক্রিয়ায় তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওই প্রশ্নবিদ্ধ ওষুধ কেনা এবং তা মানুষের ব্যবহারের জন্য সরবরাহ করা ঠিক হয়নি। বরং এই ওষুধ ব্যবহার ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।


মন্তব্য