kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জঙ্গিরা মরলেই বেওয়ারিশ!

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জঙ্গিরা মরলেই বেওয়ারিশ!

রাজধানীর কল্যাণপুরে পুলিশের ‘অপারেশন হিট স্ট্রম টোয়েন্টি সিক্স’ অভিযানে নিহত ৯ জঙ্গির লাশ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামপুরের জুরাইন কবরস্থানে তাদের লাশ দাফন করা হয়।

এর আগে সকাল সোয়া ১১টার দিকে দাতব্য প্রতিষ্ঠান আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) মর্গ থেকে ওই ৯ জঙ্গির লাশ গ্রহণ করে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দাবিদার না থাকায় আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামকে লাশগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মাধ্যমে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয় গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তোরাঁয় নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জনের লাশ।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিস) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, কল্যাণপুরের অভিযানে নিহত ৯ জনের মধ্যে আটজনের আঙুলের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সঙ্গে মিলিয়ে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে তাদের পরিবার মরদেহ নেয়নি। নেওয়ার আবেদনও করেনি। এ কারণে বেওয়ারিশ বা অজ্ঞাত হিসেবেই এসব জঙ্গির লাশ দাফনের সিদ্ধান্ত হয়।  

ঢামেক ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান) সোহেল মাহমুদ জানান, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী কল্যাণপুরে নিহত ৯ জনের মরদেহ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করা হয়। লাশ দেওয়ার সময় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের পরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরো জানান, দুই মাস আগে পুলিশের অভিযানে নিহত এসব জঙ্গির লাশ ঢামেকের মরচুয়ারিতে ছিল। মৃতদেহগুলো থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য কোনো সংস্থার প্রয়োজন হতে পারে, সেটা মাথায় রেখে অতিরিক্ত নমুনাও রাখা হয়েছে।

আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের মুগদা শাখার দায়িত্বরত কর্মকর্তা শাহাব উদ্দিন বলেন, ‘ঢামেক ফরেনসিক  মেডিসিন বিভাগ থেকে লাশ গ্রহণের জন্য আমাদের বলা হয়। সকাল ১০টার দিকে আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে গাড়ি পাঠানো হয়। লাশগুলো তিনটি পিকআপ ভ্যানে করে পুলিশ প্রহরায় জুরাইন কবরস্থানে নেওয়া হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ২টার দিকে জুরাইন কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। ’

গত ২৬ জুলাই ভোরে কল্যাণপুরের ৫ নম্বর রোডে তাজ মঞ্জিলে (জাহাজ বিল্ডিং) পুলিশের ‘অপারেশন স্ট্রম টোয়েন্টি সিক্স’ নামের অভিযানে ৯ জঙ্গি নিহত হয়। তারা হলো দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সোহরাব আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ, টাঙ্গাইলের মধুপুরের নূরুল ইসলামের ছেলে আবু হাকিম নাইম, ঢাকার ধানমণ্ডির রবিউল হকের ছেলে তাজ-উল-হক রাশিক, সাতক্ষীরার তালা থানাধীন ওমরপুরের নাসির উদ্দিন সরদারের ছেলে মতিয়ার রহমান, ঢাকার গুলশানের সাইফুজ্জামান খানের ছেলে আকিফুজ্জামান খান, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা তৌহিদ রউফের ছেলে  সেজাদ রউফ অর্ক, নোয়াখালীর সুধারাম থানাধীন মাইজদী এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের ছেলে জোবায়ের হোসেন ও রংপুরের পীরগাছা থানাধীন পুরশুরা এলাকার শাহজাহান কবিরের ছেলে রায়হান কবির ওরফে তারেক ওরফে ফারুক। ৯ জনের মধ্যে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। ওই অভিযানে রাকিবুল হাসান রিগ্যান নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যে গত ১৮ সেপ্টেম্বর আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, গুলশানের মতোই আরেকটি বড় হামলার উদ্দেশ্যে কল্যাণপুরের ওই বাড়িতে ১১ জঙ্গি জড়ো হয়েছিল।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যালের মরচুয়ারিতে নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ায় নিহত নব্য জেএমবির মাস্টার মাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ তিনজন, রূপনগর ও আজিমপুরে নিহত আরো দুই জঙ্গির লাশ রয়েছে। এই লাশগুলোও বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ সূত্র।


মন্তব্য