kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সব্যসাচীকে বিদায়

অন্তিম ইচ্ছা অনুযায়ী দাফন করা হলো জন্মস্থান কুড়িগ্রামে

নওশাদ জামিল, ঢাকা ও আব্দুল খালেক ফারুক, কুড়িগ্রাম   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শ্রদ্ধা ভালোবাসায় সব্যসাচীকে বিদায়

সমাধি : কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজসংলগ্ন সবুজ ধানক্ষেতের পাশে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ সমাধিস্থ করা হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

শহীদ মিনারের পাদদেশে বেশ কিছু গগনশিরীষের গাছ। তার নিচে ছায়াময়, মায়াময় আবহ।

গাছগুলোর পাশেই শুয়ে আছেন তিনি, তাঁকে ঘিরে চারপাশে অসংখ্য মানুষের ভিড়। তবে নেই কোনো কোলাহল। এক অসীম শূন্যতা ঘিরে আছে সবাইকে। প্রিয় লেখক, প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে ছুটে এসেছে তারা। ভক্ত-অনুরাগী ও সুহৃদদের কারো হাতে ফুল, কারো চোখে জল। সবার হৃদয়ে একই বেদনামদির অনুভূতি, একই ভালোবাসা। সেই ভালোবাসার হাহাকার নিয়েই গতকাল বুধবার সর্বস্তরের মানুষ শেষ বিদায় জানাল সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হককে।

কবিতায় তিনি লিখেছিলেন : ‘আমি জন্মেছি বাংলায়, আমি বাংলায় কথা বলি/আমি বাংলার আলপথ দিয়ে, হাজার বছর চলি’। কবিতার সেই পঙিক্তর মতোই সত্যি সৈয়দ শামসুল হকের জীবন। তাঁর ভক্ত-অনুরাগী ও পাঠকের বিশ্বাস, বরেণ্য এ লেখকের দেহান্তর হয়েছে মাত্র। তিনি তাঁর কালজয়ী নানা সৃষ্টির মধ্য দিয়ে হাজারো বছর এই মাটিজলে, এই হাওয়ায় বিচরণ করবেন।

ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে গত মঙ্গলবার শেষ বিকেলে থেমে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ। গতকাল বৃষ্টিস্নাত সকালে সৈয়দ শামসুল হককে বিদায় জানাতে, শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে  তাঁর কফিন আনা হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

গত মঙ্গলবার রাতে গুলশান ৬ নম্বর রোডে নিজের বাড়ি ‘মঞ্জুবাড়িতে’ শেষ গোসলের পর ‘জলেশ্বরীর জাদুকরের’ কফিন রাখা হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমঘরে। সেখান থেকে গতকাল সকালে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই কার্যালয়ে। সেখানে প্রথম জানাজার পর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তারপর কফিন নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে হেলিকপ্টারে করে মরদেহ নেওয়া হয় জন্মস্থান কুড়িগ্রামে। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে হেলিকপ্টার থেকে কফিন নামানোর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ প্রিয় মানুষটির প্রতি জানায় শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। গতকাল বিকেল ৪টা ১০ মিনিটে তৃতীয় জানাজা হয় ওই কলেজ মাঠে। তাতে অংশ নেয় কুড়িগ্রামের হাজারো মানুষ। বিকেল ৫টায় ওই কলেজের প্রবেশ গেটের পাশে সৈয়দ শামসুল হককে সমাহিত করা হয়। এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

চ্যানেল আই কার্যালয়ে প্রথম জানাজা : গতকাল সকাল ১০টায় প্রথমেই সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ নেওয়া হয় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে চ্যানেল আই কার্যালয়ে। ১০টা ৫ মিনিটে সেখানে প্রথম জানাজা হয়। তাতে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর, চ্যানেলটির পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, নায়করাজ রাজ্জাক, চলচ্চিত্রকার আমজাদ হোসেন, কবি আসাদ চৌধুরী, শিল্পী খুরশীদ আলম প্রমুখ। এ সময় প্রিয় লেখককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

বাংলা একাডেমিতে শ্রদ্ধা নিবেদন : চ্যানেল আই কার্যালয় থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বাংলা একাডেমিতে। শেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে একাডেমির নজরুল মঞ্চে রাখা হয় কফিন। বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান এবং ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে সেখানে একাডেমির সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। অন্যদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবি কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, সংস্কৃতিসচিব বেগম আকতারী মমতাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, চিত্রশিল্পী হাশেম খান, বাংলাদেশ শিশু একাডেমির পরিচালক মোশাররফ হোসেন, কালি ও কলম সম্পাদক আবুল হাসনাত, কবি রবীন্দ্র গোপ, কথাসাহিত্যিক মোহিত কামাল, কথাসাহিত্যিক জাকির তালুকদার ও কবি তারিক সুজাত।

শহীদ মিনারে মানুষের ঢল : বাংলা একাডেমি থেকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে কফিন নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। রাখা হয় গগনশিরীষ গাছের নিচে স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চে। সেখানে কফিন ছুঁয়ে, শেষ দেখা দেখে কাঁদলেন স্ত্রী ও স্বজনরা। চোখের জলে ভিজলেন বন্ধু-স্বজনরা। শোকে বিহ্বল হলেন সুধীজন থেকে সর্বসাধারণ। হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা আর বুকচেরা কান্নার মিশেলে বিদায় জানানো হয় প্রিয় লেখককে।

শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের এ আয়োজন করে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। বৃষ্টিভেজা সকালে সেখানে হাজির হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও। অন্যদের মধ্যে ছিলেন সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, আমলা, রাজনীতিবিদসহ নানা পেশার মানুষ। এসেছিলেন সৈয়দ শামসুল হকের সহযোদ্ধা, শিল্প-সাহিত্য-সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রতিনিধি আর ভক্ত-পাঠকরা।

সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ লেখকের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তিনি সৈয়দ হকের স্ত্রী আনোয়ারা সৈয়দ হকের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁকে সান্ত্বনা দেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন তাঁর বিশেষ সহকারী কবি মাহবুবুল হক শাকিল ও সামরিক সচিব মেজর জেনারেল জয়নুল আবেদীন।

এরপর ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সৈয়দ হকের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক প্রমুখ।

শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ফয়জুল লতিফ চৌধুরী, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার, আতাউর রহমান, কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা, জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি ড. মুহাম্মদ সামাদ, নাট্যজন আলী যাকের, সারা যাকের, তারিক আনাম খান, নাসির উদ্দীন ইউসুফ, নিমা রহমান, ম হামিদ, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়, গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর, অভিনেত্রী বিপাশা হায়াত, চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান, কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী, যাত্রাশিল্পী  মিলন কান্তি দে প্রমুখ। পরিবারের পক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন লেখকপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক ও পুত্রবধূ আম্বিরি খান।

সর্বস্তরের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদনের শেষদিকে ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “বাবার যখন শেষ মুহৃর্তের কেমো চলছিল, তখনো তিনি লেখার কথা ভাবতেন। আমাকে কাছে ডেকে নিয়ে বিড়বিড় করে বলেছিলেন, ‘আমার মনের ভিতরে শব্দের সৃষ্টি হচ্ছে, কিন্তু আমি অনেক কিছুই মনে রাখতে পারছি না। ’ জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর মনে আন্দোলিত হয়েছিল নতুন নতুন শব্দ। ”

শ্রদ্ধা নিবেদনের শেষ পর্বে সংস্কৃতিকর্মীদের পক্ষে রামেন্দু মজুমদার বলেন, ‘আমাদের বাংলা সাহিত্য জগতের উজ্জ্বলতম নক্ষত্রটির পতন হয়েছে। একটি গৌরবের অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটেছে। তবে এটাকে আমি সমাপ্তি মনে করি না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরে সাহিত্যের সর্বক্ষেত্রে আর কেউ এভাবে লেখেননি। তিনি যেখানেই হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। রোগশয্যায়ও তিনি অনবরত লিখে গেছেন। তাঁর হৃদয়জুড়ে ছিল বাংলাদেশ। ’

শহীদ মিনার থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে সৈয়দ শামসুল হকের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় কুড়িগ্রামে।

জন্মস্থানে ফিরলেন ‘জাদুকর’ : বিকেল ৪টার দিকে একটি সফেদ হেলিকপ্টার আকাশ আলো করে আসে কুড়িগ্রাম শহরের দিকে। চারদিকে ধুলো উড়িয়ে সেটি নামে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে। সেখানেই নামানো হয় কফিন। আগেই খবর রটেছিল। হেলিকপ্টার আকাশে থাকতেই মাঠ লক্ষ্য করে চারদিক থেকে ছুটে আসে জনস্রোত। স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, ব্যবসায়ী, উন্নয়নকর্মী থেকে রিকশাচালক—কে ছিল না সেই স্রোতে! প্রিয় লেখককে শেষ বিদায় জানাতে এসেছিল তারা।

ঢাকা থেকে কফিনের সঙ্গে এসেছিলেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, কবিপত্নী আনোয়ারা সৈয়দ হক, একমাত্র ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হকসহ নিকটাত্মীয়রা। কুড়িগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী ও জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছ থেকে কফিন গ্রহণের পর সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়। সবার আগে সেখানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অপর্ণ করা হয়। এরপর কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, পুলিশ বিভাগ, আইনজীবী সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, প্রেস ক্লাব, শিল্পকলা একডেমি, আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন, মহিলা পরিষদ, পুস্তক বিক্রেতা সমিতি, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয়। শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিল রংপুর, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী জেলার শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাহিত্যমনা মানুষ।

ঘণ্টাখানেকের আনুষ্ঠানিকতা ও জানাজা শেষে সৈয়দ শামসুল হককে সমাহিত করা হয় ওই কলেজের প্রবেশ গেটের পাশে।

সৈয়দ শামসুল হক ‘জলেশ্বরী’ নামে কাল্পনিক এক ভূখণ্ডকে সামনে রেখে লিখে গেছেন একের পর এক রচনা। ধারণা করা হয়, কুড়িগ্রাম অঞ্চলকে মাথায় রেখেই কল্পনার ‘জলেশ্বরী’ সাজিয়েছিলেন তিনি। কুড়িগ্রামসহ রংপুরের আঞ্চলিক ভাষাকেই তিনি তাঁর রচনায় স্বমহিমায় তুলে ধরেছেন। সেই ‘জলেশ্বরী’র বুকে ঠাঁই নিতে চেয়ে তিনি একাধিকবার তাঁর মনের আকুতি প্রকাশ করেন। তাই তো সৈয়দ হকের ছেলে দ্বিতীয় সৈয়দ হক জানাজার আগে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বলেন, ‘বাবা চলে গেছেন এক বিশাল শূন্যতা রেখে। তাঁর প্রিয় জলেশ্বরীতে তিনি আবারও ফিরে এসেছেন। আমার বাবা খুব খুশি হয়েছেন এ মাটিতে শায়িত হতে পেরে। ’

কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ মীর্জা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সৈয়দ হকের শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে পেরে আমরা গৌরবান্বিত। তাঁকে ঘিরে এই প্রতিষ্ঠান জ্ঞানচর্চার আলোকিত কেন্দ্র হতে পারে। ’

কুড়িগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান বাবু বলেন, ‘সৈয়দ শামসুল হক কুড়িগ্রামের ভাষা, কৃষ্টি-কালচার শুধু দেশ নয়, বিশ্ব দরবারেও তুলে ধরেছেন। এ জন্য আমরা কুড়িগ্রামের মানুষ গর্ববোধ করি। ’

কুড়িগ্রামের জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. জাফর আলী বলেন, ‘মহান এই ব্যক্তিত্বকে আমরা কুড়িগ্রামের মাটিতে বরণ করেছি। সবার সহযোগিতায় সুষ্ঠুভাবে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ’

রংপুরে শ্রদ্ধাঞ্জলি ও শোক প্রকাশ : রংপুর অফিস জানায়, সৈয়দ শামসুল হকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ কে এম নূর-উন-নবী। গতকাল মরদেহ কুড়িগ্রামে আনা হলে তিনি প্রিয় লেখকের প্রতি সম্মান জানিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন। গতকাল সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের শ্রদ্ধা : গতকাল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাতিষ্ঠানিক ও সাংগঠনিকভাবে সৈয়দ হকের মরদেহে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ১৪ দল, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, ঐক্য ন্যাপ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, বাংলাদেশ কৃষক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, বাংলাদেশ যুব মহিলা লীগ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, তথ্য মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদপ্তর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ যুবমৈত্রী, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ, চারুকলা অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগ, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল, নজরুল ইনস্টিটিউট, চারুশিল্পী সংসদ, কুড়িগ্রাম সমিতি, এশিয়াটিক সোসাইটি, আওয়ামী শিল্পীগোষ্ঠী, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠী, ছায়ানট, খেলাঘর, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা উদ্যাপন কমিটি, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতি, ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি), ঢাকা ক্লাব, বেঙ্গল ফাউন্ডেশন, পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ সেন্টার, জাতীয় প্রেস ক্লাব, নারী সাংবাদিক কেন্দ্র, ডিরেক্টরস গিল্ড, কণ্ঠশীলন, বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ, বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থা, বাংলাদেশ নজরুলসংগীত শিল্পী সংস্থা, ক্রান্তি শিল্পীগোষ্ঠী, ঢাকা থিয়েটার, আরণ্যক, বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার, অফিসার্স ক্লাব, গণসংগীত সমন্বয় পরিষদ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদ, নাটকের দল বটতলা, প্রাচ্যনাট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, ঢাকা পদাতিক, নাগরিক নাট্যাঙ্গন অনসাম্বল, রেলওয়ে শ্রমিক লীগ ইত্যাদি। শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ।

নাগরিক স্মরণসভা শনিবার : সৈয়ম শামসুল হক স্মরণে নাগরিক স্মরণসভার আয়োজন করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস জানান, আগামী শনিবার বিকেল ৪টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত হবে এ স্মরণসভা।


মন্তব্য