kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সিরিজের সঙ্গে শততম জয়েরও হাতছানি

মাসুদ পারভেজ   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সিরিজের সঙ্গে শততম জয়েরও হাতছানি

প্রথম ওয়ানডেতে শেষ তিন ওভারে অসাধারণ বল করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন পেসাররা। আজ আফগানিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সেরাটা দিতে মুখিয়ে তাঁরা। এর আগে অনুশীলনে বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশের কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন তিন পেসার—তাসকিন, রুবেল ও শফিউল। ছবি : মীর ফরিদ

প্রথম ওয়ানডেতে তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি পাওয়াটা কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল মাহমুদ উল্লাহও সেঞ্চুরি না করে ফিরবেন না।

কিন্তু দুজনেরই সেঞ্চুরি না করে ফেরা নিয়ে গতকাল দুপুরের সংবাদ সম্মেলনেও মৃদু আফসোস করছিলেন মাশরাফি বিন মর্তুজা।

বাংলাদেশ অধিনায়কের তখন এটিও জানা যে পরদিনই আফসোস ভুলে প্রবল আনন্দে ভাসিয়ে নেওয়া এক সেঞ্চুরি দেখার অপেক্ষায় পুরো দেশ। যে অপেক্ষায় কারো ব্যাটে সেঞ্চুরি দেখার আকুতিও মিশে নেই কিংবা নেই কারো কাছে নির্দিষ্ট কোনো পারফরম্যান্সের দাবিও। দাবিটা শুধু আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জেতার। আর জিতলে একটা সেঞ্চুরি হচ্ছেই। সেই সেঞ্চুরিটা কোনো ব্যক্তির নয়, দলের এবং দেশেরও।

আগের ম্যাচে হারতে হারতে জিতেই তো বাংলাদেশ শততম ওয়ানডে জয়ের দরজায় কড়া নেড়ে বসে আছে। আজ চৌকাঠ পেরিয়ে অনন্য সেই মাইলফলকে পা রাখার পালা। ১৯৮৬ সালের ৩১ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নেমে শুরু দীর্ঘ ওয়ানডে পরিক্রমায় আজ নিজেদের ইতিহাসের ৩২২তম ম্যাচ খেলতে নামছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচ খেলতে নেমে অবশ্য মাশরাফির দলের অনেকের একটু বেশিই আন্দোলিত হওয়ার কারণ আছে যথেষ্ট। দুর্দান্ত কিছু করে ইতিহাসের সঙ্গে নিজেকে জুড়ে নেওয়ার বাড়তি তাগিদও অনুভব করে থাকতে পারেন তাঁরা।

এঁদের একেকজনের বয়স যা, তাতে ১৯৯৮ সালের ১৭ মে হায়দরাবাদে কেনিয়ার বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডে জয়ের অংশীদার হওয়ার উপায় ছিল না। তবে ২০০৯ সালের ১৬ আগস্ট বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাংলাদেশের ৫০তম ওয়ানডে জয়ে যাঁদের ছোঁয়া ছিল, তাঁদের চারজন শততম জয় রাঙানোর সম্ভাবনার সামনেও দাঁড়িয়ে। অবশ্য সাকিব আল হাসানের জন্য বুলাওয়ের ম্যাচটি ছিল ভুলে যাওয়ার মতোই। জিম্বাবুয়ের ৩১২ রান তাড়ায় ব্যাট হাতে দুই বাউন্ডারি আর এক ছক্কায় ১২ বলে ১৯ রানের ইনিংসে কিছুটা অবদান রাখতে পারলেও বোলিংয়ে ৯ ওভারে ৭০ রান খরচায় ছিলেন উইকেটশূন্য। মুশফিকুর রহিমও ১৫ রানের বেশি করতে পারেননি। ৬ ওভারে ৩২ রান দেওয়া অফস্পিনার মাহমুদ উল্লাহ অবশ্য দলকে জিতিয়ে ফিরেছিলেন। সাড়ে পাঁচ বছর আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড গড়া ম্যাচটিতে মাত্র ১১ বলে চার বাউন্ডারিতে ২১ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি।   

২০১৫-র বিশ্বকাপে নেলসনে স্কটল্যান্ডের ৩১৮ তাড়া করে নতুন রেকর্ড গড়লেও বুলাওয়ে ম্যাচের আরেকটি কীর্তি কিন্তু এখনো অক্ষয়। ওই ম্যাচে ১৩৮ বলে ৭ বাউন্ডারি ও ৬ ছক্কায় খেলা তামিম ইকবালের ১৫৪ রানের ইনিংসটি তো এখনো বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ওয়ানডে ইনিংস হয়ে আছে। শততম জয়েও তাই বড় কিছু করে নিজেকে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ করে রাখতে চাইবেন এ বাঁহাতি ওপেনার। আর সাকিব-মুশফিক-মাহমুদরাও চাইবেন ৫০তম জয়ে তেমন অবদান রাখতে না পারার আক্ষেপ ভুলতে। এ চারজনের মধ্যে তিনজনই প্রথম ওয়ানডেতে পারফরম্যান্সে দ্যুতি ছড়িয়েছেন। ব্যতিক্রম কেবল মুশফিকুর রহিম।

ব্যতিক্রম তিনি অন্য সবার চেয়ে বেশি অনুশীলনে ডুবে থাকায়ও। যাঁকে প্রথম ম্যাচে গুগলিতে বোকা বানানোর আনন্দ কাল দুপুরের সংবাদ সম্মেলনেও খেলে যাচ্ছিল আফগান লেগস্পিনার রশিদ খানের কণ্ঠে, ‘সবার দুর্বলতা নিয়েই আমাদের পরিকল্পনা ছিল। জানতাম যে মুশফিকুর রহিম বেশ ভালো স্লগ সুইপ খেলেন। অধিনায়কও এসে আমাকে বলেছিলেন ওনাকে গুগলি দিলে কাজে দিতে পারে। আমি তাই করেছি এবং সফলও হয়েছি। ’ তবে বাংলাদেশ মাঝখানে প্রায় ১১ মাস ওয়ানডে খেলেনি বলে মনে হচ্ছে মুশফিকের এক ম্যাচের ব্যর্থতা যেন বহুদিনের। এ ভুলটিই কাল ধরিয়ে দিতে চাইলেন মাশরাফি, ‘গত দেড় বছরের পরিসংখ্যান ঘাঁটলে দেখবেন ওর গড় প্রায় ৫০-এর কাছাকাছি। তো ৫০ গড়ে রান করা কেউ রানে নেই বলা ঠিক নয়। আমি নিশ্চিত যে কোচ এবং ও নিজে খুব ভালো করেই জানে কী করতে হবে। ও নিজের ব্যাটিং নিয়ে অনেক খাটেও। সুতরাং খেলোয়াড় এবং সতীর্থ হিসেবে ওর প্রতি আমার অগাধ বিশ্বাস আছে। ’

শুধু অধিনায়কেরই নয়, পুরো দলেরই আছে। গত রাতে বনানীর একটি চায়নিজ রেস্তোরাঁয় টিম ডিনারে সদলবলে সে আস্থার কথা বলে মুশফিককে চাঙ্গা করার চেষ্টা নিশ্চয়ই হয়েছে। অধিনায়ক নিজেও আরো চাঙ্গা হচ্ছেন এই ভেবে যে অনেক দিন না খেলার অনভ্যাসজনিত গেরোটাও ছুটে গেছে, ‘সত্যি কথা বললে খেলার মধ্যে থাকলেও সিরিজের প্রথম ম্যাচটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। আর আমরা খেলার মধ্যেই ছিলাম না। প্রথম ম্যাচে বের হয়ে যেতে পারলে অনেক নির্ভার থাকা যায়। আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচটি জিতে তাই আমরা কঠিন অংশটি পার করে ফেলেছি। আশা করি, সামনের ম্যাচ থেকে মানসিকভাবে আরো ভালো অবস্থানে থাকব। ’

থাকতেই হবে, শততম ওয়ানডে জয়ের হাতছানিও তো এ ম্যাচেই থাকছে!

 


মন্তব্য