kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বার্থ রক্ষার তিন প্রতিষ্ঠান কাজে আসছে না

আজিজুল পারভেজ   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্বার্থ রক্ষার তিন প্রতিষ্ঠান কাজে আসছে না

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়নে সরকারের কোনো উদ্যোগই সফল হচ্ছে না। দেড়-দুই লাখ মুক্তিযোদ্ধার স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় দেখভালের জন্য একটি মন্ত্রণালয়সহ তিনটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রণয়ন, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করা এবং ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তে হিমশিম খাচ্ছে সরকার।

আওয়ামী লীগ সরকারের বর্তমান মেয়াদে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাইয়ের অন্তত দুটি উদ্যোগ নেওয়া হলেও একটিও সফল হয়নি। মাঠ পর্যায়ে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ চাপা পড়েছে মামলার কারণে। আর সম্মানী ভাতাভোগী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে মন্ত্রণালয়ের জনবল সংকটের অজুহাতে।

মামলার বেড়াজালে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ : বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে তৈরি মুক্তিযোদ্ধার তালিকা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি ছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন তালিকাভুক্তদের যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু এ উদ্যোগ চূড়ান্ত পরিণতি পায়নি। ২০১৪ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তা গতি পায়। ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা এবং মুক্তিবার্তার লাল বই তালিকা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরিত বামুস সনদের বাইরের মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করা, দাবিদার, মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও গেজেটধারীদের যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ এবং ৪ ও ১১ এপ্রিল সারা দেশে উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে এই যাচাই-বাছাইয়ের দিন ঘোষণা করা হয়। ভারতীয় তালিকা এবং লাল বই তালিকাভুক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রকাশ্যে গণশুনানির মতো আয়োজন করে এই যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। মুক্তিবার্তার লাল বই তালিকাভুক্ত কোনো মুক্তিযোদ্ধার ব্যাপারে আপত্তি উত্থাপিত হলে তাও যাচাই-বাছাই করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এই উদ্যোগ সম্পর্কে আশাবাদ ব্যক্ত করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছিলেন, ২০১৪ সালের পর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলে আর কিছু থাকবে না। কিন্তু এই উদ্যোগটি বন্ধ হয়ে যায়। ন্যাপ-কমিউনিস্ট গেলিরাদের প্রকাশিত গেজেট বাতিলকে কেন্দ্র করে করা রিট মামলার কারণে গোটা উদ্যোগ মুখ থুবড়ে পড়ে। মামলাটি গত ৮ সেপ্টেম্বর আদালতে নিষ্পত্তি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, শিগগির উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শুরু হবে।

সম্মানী ভাতাভোগী ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তের উদ্যোগও ব্যর্থ : মুক্তিযোদ্ধার সঠিকতা নির্ণয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের পর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। ভারতীয় তালিকা, মুক্তিবার্তার লাল বই তালিকা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিস্বাক্ষরির বামুস সনদ ছাড়া অন্য সব সাময়িক সনদপ্রাপ্ত, গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁদের পোষ্যদের সম্মানীভাতা গ্রহণের ক্ষেত্রে শর্তারোপ করা হয়। শর্তে বলা হয়, ‘চূড়ান্ত তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে না পারলে গৃহীত সকল অর্থ ফেরত দিতে বাধ্য থাকব। ’ এই মর্মে ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকার প্রদান করতেও বলা হয়। কিন্তু এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় অঙ্গীকার নিয়ে ভাতা প্রদান নয়, সম্মানী ভাতাপ্রাপ্ত সব মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। সনদ, গেজেট, জন্ম তারিখ, মুক্তিবার্তা লাল বই তালিকা ও ভারতীয় তালিকার নম্বর—এই পাঁচটি বিষয়ে নির্দিষ্ট ছকে তথ্য প্রেরণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ পাঠানো হয়। ২০১৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে তথ্য পাঠাতে বলা হয়। সে অনুসারে সারা দেশের ভাতাভোগী মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ে জমাও হয়। কিন্তু তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখার উপসচিব মুহাম্মদ নূর আলম জানান, এত কাগজপত্র জমা হয়েছে যে জনবল সংকটের কারণে মন্ত্রণালয়ে সেসব যাচাই-বাছাই করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তাই সারা দেশের মাঠ পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্তকরণের বদলে কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের দিকে গড়ায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি, স্থানীয় এমপির একজন মুক্তিযোদ্ধা প্রতিনিধি, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের প্রতিনিধি, উপজেলা কমান্ডার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য সচিব করে উপজেলা কমিটি ও অনুরূপভাবে জেলা/মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। যাচাই-বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সাময়িক সনদপত্র ও গেজেট আছে কি না, থাকলে এই দুটির নাম অভিন্ন কি না, মুক্তিযুদ্ধকালীন ন্যূনতম বয়সসীমা ঠিক আছে কি না তা দেখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই যাচাই-বাছাই শুরু হওয়ার পর উপজেলা ও জেলা কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে সারা দেশের প্রায় চার হাজারের ভাতা বন্ধ হয়েছে। কাগজপত্র ভুয়া ও যথাযথ না হওয়ার কারণেই এদের ভাতা বন্ধ হয়েছে বলে জানা যায়। সে সময় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেছিলেন, তাঁর হিসাব মতে, দেশে ৪০-৪৫ হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা রয়েছে।

ডাটাবেইস তৈরির উদ্যোগও ব্যর্থ : ডিজিটাল যুগে অনলাইন ডাটাবেইস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত মেয়াদে নেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগটি ব্যর্থ হয়েছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির সুযোগ বন্ধ হয়ে যাবে এই ভাবনা থেকেই এই উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট প্রভাবশালীরা পরিকল্পিতভাবেই সফল হতে দেয়নি। যদিও মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হচ্ছে—যাচাই-বাছাই ছাড়াই মুক্তিযোদ্ধাদের অন্তর্ভুক্ত করা ও আর্থিক অনিয়মের কারণেই এটি বাতিল করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধা চাকরিজীবীদের সনদের সত্যতা যাচাই, মুক্তিযোদ্ধার পোষ্যদের চাকরি কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেটের সত্যতা যাচায়ের জন্য পাঠানো হয় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে। একজন মুক্তিযোদ্ধার তিন সন্তান চাকরি নিলে ওই মুক্তিযোদ্ধার সনদ ও গেজেট তিনবারই যাচাই করা হয়। এতে বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন চাকরি প্রার্থীরা। দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে যাচাইতে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মুক্তিযোদ্ধাদের অনলাইন ডাটাবেইস থাকলে চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন পড়ত না। প্রয়োজন মতো অনলাইনে নিজেরাই দেখে নিয়ে সত্যতা যাচাই করতে পারত। কিন্তু এই উদ্যোগটি সফল হয়নি।

জানা যায়, ডাটাবেইসে অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে কোনো নীতিমালাই তৈরি করা হয়নি। কোনো যাচাই-বাছাইয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারাও অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত অনলাইন ডেটাবেইসে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দুই লাখ ৩০ হাজার জনের তথ্য সংযুক্ত করা হয় বলে জানা গেছে। ২০১৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অন্তর্ভুক্তির সময়সীমা বাড়ানো হয়েছিল। প্রকল্পের মেয়াদও ছিল ওই সময় পর্যন্ত। এরপর আর মেয়াদ বাড়ানো হয়নি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নান জানিয়েছেন, ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা এবং প্রধানমন্ত্রী অনুস্বাক্ষরিত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সনদপ্রাপ্তদের নামের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করার চিন্তাভাবনা চলছে।

তিন প্রতিষ্ঠান কী করছে : দেশের দেড় লাখ মুক্তিযোদ্ধার স্বার্থ রক্ষার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ছাড়াও আছে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট। এর বাইরে আছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। বেড়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সুযোগ-সুবিধা। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাসংশ্লিষ্ট কোনো কাজই স্বচ্ছ এবং হয়রানিমুক্ত হয়ে ওঠেনি। এখনো সব মুক্তিযোদ্ধার নামে গেজেট হয়নি। স্থায়ী সনদ দেওয়া হয়নি। কোনো স্বচ্ছ তালিকাও নেই। দিনের পর দিন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধারাও রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবদুল আহাদ চৌধুরী বলেন, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের শনাক্তে কেউই কাজ করেনি, সনদ বিক্রি বন্ধ হয়নি। এ কারণে ভুয়াদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

ডাটাবেইসের বিকল্প নেই : বিশেষজ্ঞদের মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানো বন্ধ করতে হলে মুক্তিযোদ্ধাদের ডাটাবেইস তৈরির কোনো বিকল্প নেই। কারণ এক সময় মুক্তিযোদ্ধার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার জন্য ভুয়ারাও মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় ঢুকে পড়েছেন। এখন সন্তানদের চাকরি, তারপর নাতি-নাতনিদের চাকরির প্রয়োজনে—মুক্তিযোদ্ধার সনদ সংগ্রহ, গেজেট প্রকাশ, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর চেষ্টা চলতেই থাকবে। এ প্রসঙ্গে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তাফা জব্বারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, যেকোনো অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ করতে হলে ডিজিটালাইজেশনের কোনো বিকল্প নেই। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি ডাটাবেইস তৈরি করে তাতে সন্তান, নাতি-নাতনি সবার তথ্য যুক্ত করে সেই তথ্য সবার জন্য অনলাইনে উন্মুক্ত করে দিলেই অনিয়ম বন্ধ হয়ে যাবে। মুক্তিযোদ্ধা কিংবা পোষ্যদের যেকোনো সুযোগ-সুবিধা প্রদানের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান সহজেই অনলাইন তথ্য যাচাই করে নিতে পারবে। নতুন নাতি-নাতনির জন্ম হলে জন্ম নিবন্ধনের মতো মুক্তিযোদ্ধার ডাটাবেইসেও তা যুক্ত করে নেওয়ার সুযোগ থাকবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় যে ডাটাবেইস তৈরি করেছে সেটা থেকে ভুয়াদের বাদ দিয়ে তা কাজে লাগানো সম্ভব বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

ভুয়াদের কালো তালিকা ও বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব : এই প্রতিবেদন তৈরির প্রয়োজনে বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষকের সঙ্গে এ প্রতিবেদকের কথা হয়। তাঁদের মতে, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা শনাক্ত এবং চিহ্নিত ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যাপারে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণেই এ ধরনের অনিয়ম জালিয়াতির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব করেছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, যাঁরা ভুয়া কাগজপত্র সংগ্রহ করে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে দাবি করে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁদের কোনো তালিকা হয়নি। ফলে এরা বারবার চেষ্টা করে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা আদায় করে নিতে সক্ষম হয়েছে। ১৯৯৬-২০০০ সময়কালে যাঁরা লাল মুক্তিবার্তায় নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁদের সবাই ২০০২ সালের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরও যাঁরা মুক্তিযোদ্ধার কাগজপত্র সংগ্রহ করে তালিকাভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁরা ব্যর্থ হলেও থেমে যাবেন না। সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অপচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এ কারণে যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হবেন, যাঁদের গেজেট কিংবা সনদ বাতিল হচ্ছে তাঁদের কালো তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব এসেছে। একই সঙ্গে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য, তাঁদের মধ্যে যাঁরা মুক্তিযোদ্ধার ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন, তাঁদের গ্রহণ করা সুযোগ-সুবিধা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব করেছেন অনেকেই।

অধ্যাপক মুনতাসীর মামুনের মতে, ভুয়া বা প্রতারকদের শাস্তি দেওয়া না হলে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রক্রিয়া কখনোই বন্ধ হবে না। এদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

এ প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা ও হাইকোর্টের আইনজীবী তবারক হোসাইন বলেন, একাত্তরে বয়স পাঁচ বছর ছিল এমন ব্যক্তিও আদালতের দোহাই দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি চাকরিতে ঢুকে গেছেন। এ কারণে সঠিক ও নৈতিকতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি প্রকৃত তালিকা প্রস্তত করতে হবে। তার পাশাপাশি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে। এই ট্রাইব্যুনাল দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতেই এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত দেবেন। কারণ ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য নিতে গেলে ভুয়া সাক্ষী সংগ্রহ করা কঠিন হবে না।

 


মন্তব্য