kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিগগিরই বাড়তে পারে গ্যাসের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



শিগগিরই বাড়তে পারে গ্যাসের দাম

শিগগিরই বাড়বে গ্যাসের দাম। গ্যাসের মূল নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) দাম বাড়ানোর হিসাব-নিকাশ শেষ করেছে।

সরকার বিইআরসির নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দিলে মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আসবে। বিইআরসির চেয়ারম্যান এ আর খান বিদায় নেওয়ার পর পদটি খালি রয়েছে। বর্তমানে কমিশনে দুজন সদস্য রয়েছেন। নিয়ম অনুযায়ী কমিশনে অন্তত তিনজন সদস্য থাকলেই কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। গত ৭ আগস্ট শুরু হয়ে মূল্যবৃদ্ধির শুনানি শেষ হয়েছে গত ১৮ আগস্ট।

জানা গেছে, মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের চাপ রয়েছে। তবে আইনি জটিলতার কারণে ঘোষণা আসতে একটু দেরি হবে। কারণ কমিশনের কোরাম পূরণ না হওয়ায় (সদস্য সংখ্যা কম) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না। তবে বিইআরসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কমিশনের বৈঠক ছাড়াও এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আইনে আছে।

বিইআরসির সাবেক সদস্য (আইন) ও সংস্থাটির ট্রাইব্যুনালপ্রধান ড. সেলিম মাহমুদ বলেছেন, আইনি সুযোগ থাকলেও গ্যাসের দাম বাড়ানোর মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে মাত্র দুজন সদস্যের উপস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। এ বিষয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল আলম জানিয়েছেন, কমিশন বৈঠক ছাড়া বিইআরসি কোনো সিদ্ধান্ত

 ঘোষণা করতে পারে না। আর বিইআরসি আইন ২০০৩-এর ১২(৪) ধারা অনুসারে কমপক্ষে তিনজন সদস্যের উপস্থিতি ছাড়া কমিশন বৈঠক করা সম্ভব নয়। এর পরও কমিশন জোর করে এমন ঘোষণা দিলে তাঁরা আদালতে যাবেন।

সূত্র জানিয়েছে, গত বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদের সঙ্গে কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বৈঠক হয়। সেখানে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের মনোভাবের কথা কমিশনকে জানিয়ে যত দ্রুত সম্ভব মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিতে অনুরোধ করা হয়।

আগস্টে শেষ হওয়া গণশুনানিতে তিতাসসহ ছয় গ্যাস বিতরণ কম্পানি মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারেনি কমিশনের কাছে। আইন অনুযায়ী, কোনো গ্যাস বিতরণ কম্পানি যদি লাভে থাকে, তাহলে সে কম্পানি দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে পারবে না। তিতাসসহ দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ কম্পানিই এখন লাভে রয়েছে।

মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবে আবাসিকে এক চুলার জন্য বর্তমান ৬০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার ১০০ টাকা এবং দুই চুলার জন্য ৬৫০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়। গ্যাসের দাম ৬২ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণকারী কম্পানি, সঞ্চালন কম্পানি জিটিসিএল এবং উৎপাদনকারী সংস্থা পেট্রোবাংলা, বাপেক্স ও বাংলাদেশ গ্যাসফিল্ড কম্পানি লিমিটেড। প্রস্তাবে বর্তমানে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের দাম দুই টাকা ৮২ পয়সার পরিবর্তে ৬৩ শতাংশ বাড়িয়ে চার টাকা ৬০ পয়সা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে।

গায়েব ২২ হাজার কোটি টাকা : বিদেশি তেল-গ্যাস উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে (আইওসি) এসডি-ভ্যাটমুক্ত রাখা হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে এ ভ্যাট দিতে হয়। তবে পেট্রোবাংলা ২০১৪ সাল পর্যন্ত আইওসি ও বাপেক্সের গ্যাস গ্রাহক পর্যায়ে বিক্রি করার সময় ভ্যাট বাবদ ২২ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকা সরকারের ঘরে জমা দেয়নি। এ অর্থ লোকসান সমন্বয় খাতে দেখিয়েছে পেট্রোবাংলা। এখন এ অর্থ ফেরত চেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এবিআর)। এর মধ্যে প্রথম দফায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকা ফেরতও দিয়েছে পেট্রোবাংলা। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করতে গিয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কথা মাথায় আসে জ্বালানি বিভাগের। এরই অংশ হিসেবে পেট্রোবাংলা প্রথমে ৯০, পরে তা সংশোধন করে ৬৫ শতাংশ গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ভ্যাটের অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিতাস তাদের শেয়ারহোল্ডারদের উচ্চ হারে ডিভিডেন্ড দিয়েছে। আর এ কারণেই খেপেছে বিইআরসি। ডিভিডেন্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে বিইআরসি। এ কারণে তিতাস গ্যাসের শেয়ারের দাম পড়ে গেছে।


মন্তব্য