kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কথার লড়াইয়ে প্রথম মুখোমুখি

জয়ী হিলারি, না ট্রাম্প?

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



জয়ী হিলারি, না ট্রাম্প?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর বাকি মাত্র ছয় সপ্তাহ। এই দেড় মাস সময় হাতে রেখে গতকাল (বাংলাদেশ সময় আজ মঙ্গলবার সকাল ৭টা) প্রথম মুখোমুখি হলেন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিলারি ক্লিনটন ও রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন গণমাধ্যমের দৃষ্টিতে এ বিতর্কের গুরুত্ব অনেক। যদিও চূড়ান্ত বিচারে ৯০ মিনিটের এ বিতর্ক কোনো নির্ণায়ক নয়। এই অনুষ্ঠান ভোটারদের ওপর কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে, এই শুধু।

বিতর্ক হবে মোট তিনটি। আজকেরটি প্রথম। বিতর্ক সামনে রেখে দুই প্রার্থীই ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছেন। জরিপ বলছে, তাঁদের অবস্থানও সমানে সমান। বাচাল প্রকৃতি, অযৌক্তিক ও অগোছালো কথার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ট্রাম্প এই বিতর্কে এগিয়ে থাকতে এবার আর শুধু তাঁর জিহ্বার ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দেননি, কদর্য মনস্তাত্ত্বিক খেলাও শুরু করেন। বিতর্কের আগেই তিনি ঘোষণা দেন, হিলারির স্বামী সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একসময়ের প্রেমিকা জেনিফার ফ্লাওয়ার্সকে বিতর্ক অনুষ্ঠানের সামনের আসনে বসাবেন।

তবে হিলারি এগিয়েছেন তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই। সপ্তাহজুড়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। এবার নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই হিলারির সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল তাঁর অভিজ্ঞতা। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি প্রায় ৪০ বছর ধরে নানা সরকারি কাজের সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। এর আগেরবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় প্রাইমারিতে তাঁর বিরুদ্ধে বিতর্কের মঞ্চেও উঠেছিলেন। বলা হয়ে থাকে, সে বিতর্কে জয়ী হয়েছিলেন সাবেক এই ফার্স্ট লেডি। যদিও  চূড়ান্ত ফল তাঁর পক্ষে যায়নি।

যৌক্তিক ও ধীসম্পন্ন ব্যক্তিত্বের খ্যাতি রয়েছে এই নারীর। আর আজকের বিতর্ক ঘিরে তাঁর প্রধান প্রস্তুতিটি ছিল মুডি ট্রাম্পকে মেজাজ হারানোতে উসকে দেওয়া, যা প্রায় বছরখানেকের প্রচারে ট্রাম্পের প্রায়ই হয়েছে। নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পরিস্থিতি বেসামাল করে ফেলেছেন তিনি। আজও তেমন কিছু ঘটিয়ে থাকলে বিতর্কে জয় নিয়েই ঘরে ফিরতে পারবেন হিলারি। কারণ সে ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার মতো যোগ্যতাসম্পন্ন নন—সেটি খুব সহজেই প্রমাণ করে দিতে পারবেন হিলারি। এর পাশাপাশি হিলারির তুলে ধরার কথা তাঁর ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও কৌশল; দেশ নিয়ে ভাবনা। প্রেসিডেন্ট ওবামার বিতর্কপূর্ব পরামর্শও ছিল অনুরূপ, ‘নিজেকে মেলে ধরুন। ’

অন্যদিকে ট্রাম্পের প্রস্তুতি নিজেকে নিয়ন্ত্রণের। যদিও আবাসন ব্যবসায়ী এবং রিয়ালিটি শোর এই তারকা বিতর্ককে খুব একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তাঁর অভিজ্ঞতা, ভবিষ্যৎ নীতি-পরিকল্পনা বা জ্ঞানের যতই অভাব থাকুক না কেন আত্মবিশ্বাস অপরিসীম। বিষয়টি পুঁজি করেই আজকের পর্যায়ে তিনি। বিতর্কের প্রস্তুতির জন্য তিনি খুব অল্প সময়ই বরাদ্দ রাখেন। গত শনি ও রবিবার তিনি বিতর্কের প্রস্তুতি নেন। এর মধ্যে একটা বড় অংশ তাঁর কাটে পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের বিতর্কের ভিডিও দেখে। তবে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সুবিধাটি হলো, তাঁকে আগে থেকে বোঝা অসম্ভব। কোন দিক থেকে তিনি আক্রমণ করবেন বা করতে পারেন সে সম্পর্কে পূর্বানুমান করা যায় না। কারণ তাঁর অযৌক্তিক ও আক্রমণাত্মক আচরণ। বিতর্কে নেমে তিনি হয়তো অন্য সময়ের মতোই হিলারিকে ‘কুটিল’ কিংবা ‘মিথ্যাবাদী’ বা ‘দুর্নীতিবাজ’ বলে বসবেন বলে অনেকেই ধারণা ব্যক্ত করেছেন।

ট্রাম্প ২০১৫ সালের আগস্ট থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত রিপাবলিকান মনোনয়নের জন্য ১২টি বিতর্কে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু এসবের মধ্যে সবচেয়ে কম অংশগ্রহণকারী ছিল যে বিতর্কে, সেখানেও ছিলেন চারজন। অর্থাৎ ট্রাম্প কখনোই সরাসরি তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বীর মুখোমুখি হননি। তবে টেলিভিশনের রিয়ালিটি শোর তারকা ট্রাম্পের জন্য বিতর্ক আরেকটি অনুষ্ঠানমাত্র বলেই মনে হতে পারে। লং আইল্যান্ডের হেমস্টেড শহরের হফস্টার ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত এই বিতর্কে প্রমাণ মিলবে ট্রাম্প, না হিলারি—কে এই অনুষ্ঠানের তারকা। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করবেন এনবিসি টেলিভিশনের লেস্টার হল্ট। সূত্র : এএফপি।


মন্তব্য