kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজনীতি

সম্মেলন-প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে আ. লীগ

তৈমুর ফারুক তুষার   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সম্মেলন-প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে আ. লীগ

উৎসবমুখর আবহে একটি জমকালো সম্মেলনের যাবতীয় প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। ২২ ও ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য ২০তম জাতীয় সম্মেলন সফল করতে গঠিত বিভিন্ন উপপরিষদ তাদের প্রস্তুতিমূলক কাজগুলো দক্ষতার সঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে।

এ উপলক্ষে বিভিন্ন প্রকাশনা, বিভিন্ন দেশের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের দাওয়াত দেওয়া, সম্মেলনের দুই দিনে ৩০ হাজার ডেলিগেটকে খাওয়ানো, অনুষ্ঠানস্থল, মঞ্চসহ রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সাজানো, বিপুলসংখ্যক মানুষের জমায়েতে শৃঙ্খলা রক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলন প্রস্তুতির সঙ্গে যুক্ত আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা কালের কণ্ঠকে এমনটা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে এবারের সম্মেলন হবে অতীতের তুলনায় সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ।

সম্মেলন উপলক্ষে বিভিন্ন প্রকাশনার দায়িত্ব প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের। এ উপপরিষদের একাধিক নেতা জানান, দুই ধাপে দুটি পোস্টার প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে প্রথম পোস্টারটি প্রকাশ করা হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ের পোস্টারটি ২ অক্টোবরের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে। এর নকশা চূড়ান্ত হয়ে গেছে।

জানা যায়, প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের যাবতীয় কাজ শেষ হবে আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। ১০-১২ সেপ্টেম্বরের দিকে তা আওয়ামী লীগের দপ্তরে জমা দেওয়া হবে। সম্মেলনের দিন অনুষ্ঠানস্থলে দপ্তরের বুথ থেকে অতিথিদের এসব প্রকাশনা সরবরাহ করা হবে।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উদ্বোধনী ভাষণ, অভ্যর্থনা উপপরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের স্বাগত ভাষণ ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সাংগঠনিক প্রতিবেদন নিয়ে তিনটি পৃথক বুকলেট প্রকাশ করা হবে। এ ছাড়া একটি সংকলন বের হবে। এতে মূলত আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও সম্মেলন উপলক্ষে গঠিত বিভিন্ন উপপরিষদের সদস্যদের নাম থাকবে। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনের পর থেকে আগামী সম্মেলন পর্যন্ত যেসব দলীয় নেতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা মারা গেছেন তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি শোক প্রস্তাব প্রকাশ করা হবে।

জানা যায়, সম্মেলন উপলক্ষে তিনটি ডিভিডি বের করা হবে। এর একটিতে থাকবে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, একটিতে বিএনপি-জামায়াত জোটের আন্দোলনের নামে আগুন সন্ত্রাস ও জঙ্গিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে দেওয়া নানা বক্তব্য। অন্যটিতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থান পাবে। সম্মেলনের দিন একটি চটের ব্যাগে এসব প্রকাশনা আগতদের দেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মির্জা আজম এ চটের ব্যাগ সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন। অতিথিদের প্রকাশনা ছাড়াও কলম, প্যাড, চকলেট ও এক বোতল পানি সরবরাহ করা হবে।

জানতে চাইলে প্রচার ও প্রকাশনা উপপরিষদের সদস্যসচিব হাছান মাহমুদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাজ প্রায় শেষের দিকে। বিভিন্ন প্রকাশনা ছাড়াও সম্মেলন উপলক্ষে আমরা সংবাদপত্রে বিশেষ ক্রোড়পত্র ও টিভিতে বিজ্ঞাপন প্রচারের ব্যবস্থা করব। এগুলোর প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছি। ’

মঞ্চ নির্মাণ এবং অনুষ্ঠানস্থল ও ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো সুসজ্জিত করার কাজ করছে মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপপরিষদ। এ উপপরিষদের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নৌকার আদলে ২৫ ফুট উচ্চতার মঞ্চের নকশা অনুমোদন করেছেন শেখ হাসিনা। সে অনুযায়ী মঞ্চ নির্মাণের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দা থাকবে। এ পর্দায় সম্মেলনের ব্যানারসহ নানা তথ্য প্রদর্শিত হবে। মঞ্চের সামনে সাত হাজার অতিথির আসন নির্মাণ করা হবে স্বচ্ছ কাচের গ্যালারিতে। এ ছাড়া প্রায় অর্ধলাখ মানুষের স্থান হয় এমন প্যান্ডেল তৈরি করা হবে। সম্মেলনের ১০ দিন আগে ১২ অক্টোবর থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে আলোকসজ্জা করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হবে বড় আকারের ডিজিটাল পর্দা। যেখানে আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সরকারের নানা অর্জন প্রদর্শিত হবে। এ ছাড়া সম্মেলনস্থল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বালি দিয়ে নির্মাণ করা হবে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহতদের প্রতিকৃতি।

সম্মেলনে আগত ডেলিগেট ও অতিথিদের খাবারের ব্যবস্থা করবে খাদ্য উপপরিষদ। খাবারের মান যাতে ভালো হয় সেদিকে গুরুত্ব দিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন। সে অনুযায়ী ৩০ হাজার ডেলিগেটকে দুই দিন মানসম্মত খাবার সরবরাহের প্রস্তুতি নিয়েছে খাদ্য উপপরিষদ। খাবারের প্যাকেটপিছু ৩০০ টাকা করে ব্যয় হবে। এরই মধ্যে ক্যাটারারদের সঙ্গে এ বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

সম্মেলনে বিদেশি অতিথিদের দাওয়াত ও তাঁদের আপ্যায়নের দায়িত্ব অভ্যর্থনা উপপরিষদের। এ উপপরিষদের সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি দাওয়াতপত্র ৮০-৮৫ জন নেতাকে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ২৭ দেশের সরকার ও বিরোধীদলীয় নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের সোনারগাঁও হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হবে। সম্মেলন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা ছাড়াও বঙ্গবন্ধু জাদুঘর, জাতীয় সংসদ ভবন, জাতীয় জাদুঘর, কয়েকটি গার্মেন্ট ও ওষুধ কারখানা পরিদর্শনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

দলীয় সূত্রগুলো জানায়, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মুহম্মদ ফারুক খান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম মূলত বিদেশি অতিথিদের সম্মেলনে উপস্থিত রাখার বিষয়ে যোগাযোগ রাখছেন।

সম্মেলনের দিনে শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব স্বেচ্ছাসেবক ও শৃঙ্খলা উপপরিষদের। জানা যায়, সম্মেলনের দিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ প্রবেশপথগুলোতে দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করবে। এর তালিকা তৈরির কাজ চলছে। স্বেচ্ছাসেবক উপপরিষদের সদস্যসচিব আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জানান, সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশপথগুলো ও সম্মেলনস্থলকে ১ অক্টোবর থেকেই সার্বক্ষণিক আইপি-সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে। দুই হাজার সদস্যের সমন্বয়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কর্মকাণ্ড পরিচালিত হবে। সম্মেলনস্থলসহ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে ওয়াইফাই জোন ও ব্রডব্যান্ডের আওতায় আনা হবে।


মন্তব্য