kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সরকারি কম্পানির শেয়ার ইস্যু

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষিত

আবুল কাশেম   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষিত

বড় গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হওয়া কিংবা অতিরিক্ত গ্যাসের সংস্থান না পাওয়া পর্যন্ত শেয়ারবাজারে যাওয়া সমীচীন হবে না—এমন যুক্তি দেখিয়ে পুঁজিবাজার এড়িয়ে চলছে সরকারের গ্যাস ট্রান্সমিশন কম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল)। বর্তমানে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিতরণ মার্জিন হ্রাস করায় এখন শেয়ার অফলোড করা সমীচীন হবে না বলে যুক্তি দেখাচ্ছে পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কম্পানি।

লিকুইফায়েড পেট্রোলিয়াম গ্যাস লিমিটেডের (এলপিজিএল) যুক্তি হলো, কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কম্পানি গঠন করে ব্যবসা পরিচালনা করলে তাদের আর্থিক অবস্থা মজবুত হবে, তখন বুকলিস্টিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড বলছে, মুনাফা করলেও একটি প্রকল্পে ২৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে বলে আপাতত শেয়ার অফলোড করবে না তারা। বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি বলছে, গত অর্থবছরে তাদের মুনাফা হয়েছে ১১৬ কোটি টাকা, যা এবার কমতে পারে—এই বিবেচনায় শেয়ার ছেড়ে অর্থ সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না। এভাবে নানা খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে শেয়ার ছাড়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশও উপেক্ষা করে চলেছে বিভিন্ন সরকারি কম্পানি।

পুঁজিবাজারে ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন শেয়ারের জোগান বাড়াতে সরকারি এসব কম্পানির শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল গত এক-এগারোর সরকারের সময়ে। তখন বলা হয়েছিল, ২০০৮ সালের জুনের মধ্যে ৪১টি কম্পানি পুঁজিবাজারে শেয়ার ছাড়বে। ১৫ দিনের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে বলা হয়েছিল ছয়টি কম্পানিকে। ওই ছয়টি কম্পানি যথাসময়ে শেয়ার ইস্যু করেছে। পরে আওয়ামী

লীগ সরকার গঠন করলে শুরুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত অন্যান্য কম্পানিকে ২০১০ সালের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে শেয়ার ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। তাতেও কাজ না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে কয়েকটি কম্পানিকে ১৫ দিনের মধ্যে শেয়ার ছাড়তে নির্দেশ দেন এবং বাকিগুলোকে ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। বাকি ৩৫টি কম্পানির মধ্যে বিভিন্ন কারণে সরকার ছয়টির শেয়ার ইস্যু কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। আর ২৯টি নানা অজুহাত দেখিয়ে শুধু সময় পার করছে। তার পরও বিভিন্ন সময়ে অর্থমন্ত্রী কম্পানিগুলোকে সময় বেঁধে দিয়ে শেয়ার ইস্যু করার নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে বলেছেন, সময়মতো শেয়ার না ছাড়লে ওই কম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাতেও কোনো ফল মেলেনি। অর্থমন্ত্রী একাধিক অনুষ্ঠানে হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন, শেয়ার ছাড়লে কম্পানিগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা অনিয়ম-দুর্নীতি করতে পারবেন না। তাই তাঁরা শেয়ার ছাড়তে আগ্রহী নন, বরং যেভাবেই হোক তা ঠেকিয়ে রাখার অপচেষ্টা করছেন।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এ অবস্থার মধ্যেও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কম্পানি (ডেসকো) আরো ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রেখেছে। নির্দেশনা পাওয়া মাত্র তা অফলোড করা হবে। আর সংস্কারকাজ শেষে বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (সাবেক শেরাটন হোটেল) এবং হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (সোনারগাঁও হোটেল) শেয়ার ইস্যু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি এসব কম্পানির শেয়ার ইস্যু ত্বরান্বিত করতে গত ৪ সেপ্টেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমানের সভাপতিত্বে একটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সেখানেও কম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে শেয়ার ছাড়ার বিষয়টি পাস কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন নিজেদের বক্তব্যে। এর আগে ৮ মে আরেকটি আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়েছিল। ওই সভার সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন করেনি কোনো কোনো কম্পানি। এমনকি ২০০৮ সালের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য কয়েকটি কম্পানি ন্যূনতম প্রস্তুতিও নেয়নি এখনো।

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ইউনুসুর রহমান বলেন, গত ৮ মে অনুষ্ঠিত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সরকারি মালিকানাধীন কম্পানির শেয়ার অফলোডসংক্রান্ত বেশ কিছু সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বেশির ভাগ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস্তবায়ন অগ্রগতি, মতামত ও সুপারিশসংবলিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে হলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘ মেয়াদে স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আর এ জন্য ভালো মৌল ভিত্তিসম্পন্ন সরকারি সিকিউরিটিজ পুঁজিবাজারে সরবরাহ করতে হবে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) কমিশনার ড. স্বপন কুমার বালা বলেন, ‘সরকারি কম্পানিগুলো নানা অজুহাতে পুঁজিবাজারে আসতে চাইছে না। পুঁজিবাজার তথা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি মালিকানাধীন কম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে আসা উচিত। ’

সরকারি কম্পানিগুলোর শেয়ার ইস্যুর ক্ষেত্রে ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)। প্রতিষ্ঠানটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ওয়াহিদুজ্জামান খন্দকার বলেন, ‘সরকারি মালিকানাধীন কম্পানিগুলোর অনাগ্রহের কারণে এ-সংক্রান্ত কার্যক্রম মন্থর গতিতে চলছে। ’

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এলপিজিএল কম্পানির ১৫ শতাংশ শেয়ার অফলোডের বিষয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় অনুমতি দিয়ে রেখেছে আগেই। অর্থমন্ত্রীর নির্দেশমতো কম্পানিকে এ বছরের ৮ জুনের মধ্যে ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোডের অনুরোধ করা হয়েছিল। সেটি কার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু না হওয়ায় গত ৮ মের বৈঠকে কম্পানিটিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়। গত ৪ সেপ্টেম্বরের সভায় কম্পানিটি জানিয়েছে, তাদের পরিচালনগত লোকসান রয়েছে। তবে অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কম্পানি পরিচালনা করলে তখন আর্থিক অবস্থা মজবুত হবে। আর কম্পানি লাভজনক হলে বুকলিস্টিংয়ের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।

বাখরাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি গত বৈঠকে অজুহাত দাঁড় করিয়ে বলেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে করপূর্ব নিট মুনাফার পরিমাণ ১১৬.৩৬ কোটি টাকা। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ আয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে বিবেচনায় শেয়ার ইস্যু করে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহ করার প্রয়োজন হবে না। তাদের এ যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে যৌক্তিক কারণ দেখিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দিতে জ্বালানি বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিকতাসহ অর্থ মন্ত্রণালয়কে প্রতিবেদন দিতে সর্বশেষ বলা হয়েছিল জালালাবাদ গ্যাস টিঅ্যান্ডটি সিস্টেম লিমিটেডকে। তারা তা দেয়নি। অবশেষে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তা দিতে আবার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, ৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কম্পানিটির প্রতিনিধি অজুহাত দেখিয়ে বলেন, ‘বর্তমানে পুঁজিবাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বিরাজ করছে বিধায় এ পর্যায়ে কম্পানির শেয়ার অফলোড না করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। ’

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি ২০০৮ সালে ১০ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ে। আরো ১০ শতাংশ শেয়ার ছাড়ার কথা কম্পানিটির। তবে তিতাসের যুক্তি হলো, আরো ১০ শতাংশ শেয়ার অফলোড করা হলে শেয়ারের বাজারমূল্য আরো হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডাররাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কম্পানি লিমিটেডকে দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাব পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল গত মে মাসে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সেই নির্দেশ পালন করেনি কম্পানিটি। ফলে আবারও দুই মাসের মধ্যে প্রস্তাবসংবলিত প্রতিবেদন চেয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

শেয়ার ছাড়ার সিদ্ধান্তের আট বছর পর কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেড এখন বলছে তাদের সক্ষমতার অভাবের কথা। ৪ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে কম্পানিটির প্রতিনিধি বলেন, ‘শেয়ার অফলোডের জন্য অদ্যাবধি এ কম্পানির সক্ষমতা অর্জিত হয়নি। তা ছাড়া নানা জটিলতার কারণে কম্পানির সম্পত্তি ও দায়দেনার পুনর্মূল্যায়ন এবং কম্পানির মূলধন নির্ধারণ করা হয়নি। ’

শেয়ারবাজারে যেতে হলে কম্পানির সংঘস্মারক পরিবর্তন করতে হবে, আর এ কাজ অসম্ভব বলে উল্লেখ করে রেহাই চাইছে পাওয়ার গ্রিড কম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। কম্পানিটি অর্থ মন্ত্রণালয়কে বলেছে, ‘পিজিসিবির ২৫ শতাংশ শেয়ার অফলোড করা হয়েছে। আরো ১৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করা হলে জাতীয় স্বার্থে কম্পানির মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন বা আর্টিকল অব অ্যাসোসিয়েশন পরিবর্তন প্রয়োজন হবে। তবে এটি করা প্রায় অসম্ভব। কারণ কম্পানি আইন ১৯৯৪ অনুসারে কমপক্ষে তিন-চতুর্থাংশ মেজরিটি না থাকলে মেমোরেন্ডাম পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজনীয় স্পেশাল রেজুলেশন অনুমোদন সম্ভব নয়। ’

আগামী জানুয়ারিতে শেয়ার ছাড়ার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কম্পানি। বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, এ কম্পানির বন্ড ইস্যুর কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। প্রাথমিকভাবে ৬০০ কোটি টাকার বন্ড ইস্যু করার প্রস্তাব রয়েছে। আগামী জানুয়ারির মধ্যে এ বন্ড ইস্যুর কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। তবে কম্পানিটি ইস্যু ম্যানেজার হিসেবে আইসিএমএল ও ব্র্যাক-ইপিএলকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। আন্তমন্ত্রণালয় সভায় ইস্যু ম্যানেজার করে আগামী জানুয়ারির মধ্যেই বন্ড ইস্যু সম্পন্ন করে তা অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড পুঁজিবাজারে না যাওয়ার পেছনে অজুহাত হিসেবে বলেছে, তারা বর্তমানে জাপানের মিত্সুবিশি কম্পানির পাজেরো স্পোর্টস গাড়ি সংযোজনে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। এ চুক্তির কারণে আপাতত শেয়ার অফলোড করা সম্ভব হচ্ছে না। আর চট্টগ্রাম ড্রাইডক বর্তমানে নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ অবস্থায় কম্পানিটির শেয়ার অফলোড বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে ড্রাইডকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।  

বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের (সাবেক শেরাটন হোটেল) সংস্কারের কাজ চলছে, যা আগামী ডিসেম্বরে শেষ হবে। সংস্কার শেষে হোটেলটিকে ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’ হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার পর শেয়ার অফলোডের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। আর হোটেল ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের (সোনারগাঁও) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের সংস্কার ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের কাজ চলছে। এতে আনুমানিক ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর শেয়ার অফলোড করা হলে কাঙ্ক্ষিত উদ্দেশ্য অর্জন সক্ষম হবে।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০ শতাংশ শেয়ার পুঁজিবাজারে ছাড়ার কথা। তবে বিমান তাতে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। পুঁজিবাজারের স্বার্থে বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড ডিরেক্ট লিস্টিং বা আইপিও কোন পদ্ধতিতে কী পরিমাণ শেয়ার ছাড়বে, তা ৩০ জুনের মধ্যে জানাতে বলা হলেও জানায়নি।

বাংলাদেশ টেলিফোন শিল্প সংস্থা জানিয়েছে, কম্পানিটির পরিশোধিত মূলধনের স্বল্পতা থাকায় শেয়ার ইস্যু করা যাচ্ছে না। তবু ইস্যু ম্যানেজার এবং সম্পদ পুনর্মূল্যায়নের জন্য সিএ ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। এ কম্পানির অনুমোদিত মূলধন ৫০০ কোটি টাকা থেকে দুই হাজার কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৬০০ কোটি টাকায় উন্নীতকরণের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২০১১ সালের ৩০ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় অনুরোধ করেছে। কিন্তু পরিশোধিত মূলধন কিভাবে বৃদ্ধি করা যাবে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট রূপরেখা নেই। এ অবস্থায় শেয়ার ইস্যুসংক্রান্ত চেকলিস্ট মোতাবেক কাগজপত্র প্রস্তুত করে শেয়ার অফলোডের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন এসেনসিয়াল ড্রাগস কম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, পরিচালনা পর্ষদ শেয়ার অফলোডসংক্রান্ত পর্যালোচনা কমিটির সুপারিশসহ পরবর্তী পর্যালোচনার আলোকে ডিরেক্ট লিস্টিং বা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়ার কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রেখেছে।

লোকসানে থাকার কথা বলে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড শেয়ার ছাড়ার ব্যাপারটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে জানান অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি ও ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কম্পানি অব বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, তাঁদের কম্পানির শেয়ার অফলোড বা বন্ড ইস্যুর বিষয়টি এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষাধীন পর্যায়ে। কর্ণফুলী পেপার মিলস, বাংলাদেশ ইন্স্যুলেটর অ্যান্ড স্যানিটারিওয়্যার ফ্যাক্টরি ও ছাতক সিমেন্ট ফ্যাক্টরিও একই কথা বলেছে।

এ ছাড়া বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্তমন্ত্রণালয় সভায় সাতটি কম্পানির শেয়ার আপাতত অফলোড না করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এগুলো হলো পদ্মা অয়েল কম্পানি লিমিটেড, রুরাল পাওয়ার কম্পানি লিমিটেড, জিইএম কম্পানি, বাংলাদেশ ব্লেড ফ্যাক্টরি, চিনিকলগুলো, ফাইসন্স বাংলাদেশ লিমিটেড ও বঙ্গবন্ধু সেতু।


মন্তব্য