kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চীনা প্রেসিডেন্টের সফরেই টানেল নির্মাণ উদ্বোধন

ঋণচুক্তির জন্য আসছেন এক্সিম ব্যাংক প্রতিনিধিরা

পার্থ সারথি দাস    

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



চীনা প্রেসিডেন্টের সফরেই টানেল নির্মাণ উদ্বোধন

আগামী মাসের মাঝামাঝি চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বাংলাদেশ সফরকালে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হবে। তবে তার আগে ঋণের জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) চুক্তি হবে।

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এ ঋণচুক্তি করতে প্রস্তুতি চলছে। বাংলাদেশ সেতু বিভাগ এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করতে বাংলাদেশ সেতু বিভাগও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে।

আগামী ১৪ ও ১৫ অক্টোবর চীনের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফরের কথা রয়েছে। আশা করা হচ্ছে, একই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্ণফুলী টানেলের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করবেন।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, কর্ণফুলী টানেল প্রকল্পে ব্যয় হবে প্রায় সাড়ে আট হাজার কোটি টাকা। বন্দরনগর চট্টগ্রামে তিন দশমিক চার কিলোমিটার সুড়ঙ্গ নির্মাণ করে কর্ণফুলী নদীর দুই তীর যোগ করা হবে। উন্নয়ন প্রকল্প ছক (ডিপিপি) অনুমোদিত হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ এগিয়ে রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ঋণচুক্তির জন্য চীনের এক্সিম ব্যাংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশে আসবে চলতি মাসের মধ্যে। ঋণচুক্তির খসড়া নিয়ে উভয় দেশের পক্ষ থেকে মতামত নিয়ে তা চূড়ান্ত করা হবে।

চট্টগ্রামকে চীনের সাংহাইয়ের মতো ‘এক নগরী দুই শহরের’ মতো গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে প্রকল্পটি। গত ২৪ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়েছে। প্রকল্পে ব্যয় হবে আট হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে চার হাজার ৭৯৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা জোগান দেওয়ার কথা রয়েছে চীন সরকারের। বাকি অর্থ বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।

এই টানেল নির্মাণে চীনের রাজধানী পেইচিংয়ে গত বছরের ৩০ জুন বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল। ২০১৮ সালের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে। টানেলটি নির্মাণ করবে চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কম্পানি (সিসিসিসি)। টানেলটি হবে বাংলাদেশে এশীয় মহাসড়কের অংশ।  

প্রকল্প পরিচালক ইফতেখার কবীর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি হয়েছে। গত সপ্তাহে খসড়া ঋণচুক্তি নিয়ে আন্তমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে ইআরডিতে। আমরা নির্মাণকাজ উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। তবে কিভাবে উদ্বোধন হবে তা এখনো নিশ্চিত হয়নি। ’

জানা গেছে, টানেল নির্মাণে কিলোমিটারপ্রতি ব্যয় হবে দুই হাজার ৪৯০ কোটি ১৮ লাখ টাকা। টানেল নির্মাণে দুই দফায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। কঠিন শর্তের ঋণ বায়ার্স ক্রেডিটের আওতায় টানেল নির্মাণ করা হবে। বায়ার্স ক্রেডিট দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের পক্ষ থেকে সুদের হার ২ শতাংশের প্রস্তাব করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দশমিক দুই শতাংশ কমিটমেন্ট ফি ও দশমিক দুই শতাংশ ম্যানেজমেন্ট ফি এককালীন পরিশোধ করতে হবে। আর গ্যারান্টি ও অন্যান্য ফি মিলে ৪ শতাংশের ওপরে সুদ বাংলাদেশকে পরিশোধের প্রস্তাব রয়েছে। ঋণ পরিশোধের মেয়াদ প্রস্তাব করা হয়েছে ২০ বছর। তার মধ্যে পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ড রাখার প্রস্তাব রয়েছে। ঋণচুক্তির আগেই এসব বিষয় চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

টানেল নির্মাণে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে উন্নয়ন প্রকল্প ছক চূড়ান্ত করার সময় ব্যয় ধরা হয়েছিল পাঁচ হাজার ৬০০ কোটি ৪০ লাখ টাকা। পরে দুই দফায় ব্যয় বাড়ানো হয়। ব্যয় বাড়ানোয় বড় অংশ সরকারি তহবিল থেকে বহন করতে হবে। এযাবৎ সরকারি ব্যয় বাড়ানো হয়েছে দুই হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।

চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় কাফকো-পতেঙ্গা পয়েন্টে টানেলটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নদীর পশ্চিম পাশে সি বিচের নেভাল গেট পয়েন্ট থেকে নদীর ১৫০ ফুট নিচ দিয়ে অন্য পাশে গিয়ে উঠবে। দক্ষিণ পার থেকে সংযোগ সড়ক দিয়ে টানেলটি বাঁশখালীতে সড়কে গিয়ে মিলবে। পূর্ব প্রান্তে পাঁচ কিলোমিটার ও পশ্চিম প্রান্তে ৭৪০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম শহরের সঙ্গে জেলার দক্ষিণাংশের দূরত্ব কমাবে এই টানেল। টানেল নির্মাণে ২০১৩ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই করেছিল সিসিসিসি ও হংকংয়ের ওভিই অরূপ অ্যান্ড পার্টনারস।


মন্তব্য