kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রাহ্মণবাড়িয়া আ. লীগ

মন্ত্রী ছায়েদুলকে উপদেষ্টা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



মন্ত্রী ছায়েদুলকে উপদেষ্টা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ থেকে মত্স্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে জেলা  কমিটির সঙ্গে ছায়েদুল হকের প্রভাবাধীন নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরোধের জের ধরে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ এ কে এম এমদাদুল বারী, মো. হেলাল উদ্দিন, নায়ার কবীর, মো. শাহ আলম, তাজ মো. ইয়াছিন, আবু তাহের, মুজিবুর রহমান বাবুল, আবুল কালাম ভূঞা, মাহবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু, মঈনউদ্দিন মঈন, গোলাম মহিউদ্দিন খান খোকন, মাহবুবুল আলম খোকন, শাহ আলম সরকার প্রমুখ।

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্রে জানা যায়, বিগত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নাসিরনগর উপজেলার একটি ইউনিয়নে এক ‘রাজাকারপুত্রকে’ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী করেন ছায়েদুল হক। নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফি উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকারও ছায়েদুল হক মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এ বিষয়ে ওই তিনজনকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় জেলা আওয়ামী লীগ। কিন্তু ওই নোটিশের জবাব দেননি ছায়েদুল হক। ফলে গত শুক্রবার জেলা আওয়ামী লীগের সভায় উপস্থিত নেতারা দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ছায়েদুল হককে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দিতে একমত পোষণ করেন। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, জেলার এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অব্যাহতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

সূত্র মতে, জেলা আওয়ামী লীগের সভায় কয়েকজন নেতা মন্ত্রিসভা থেকেও ছায়েদুল হককে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কাছে সুপারিশ পাঠানোর পক্ষে মত দেন। এ ছাড়া দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নাসিরনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ডা. রাফি উদ্দিন আহমেদকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সুপারিশ এবং সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মনিরুজ্জামান সরকারকে সতর্ক করে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিছুদিন আগে এই দুই নেতাকেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। রাফি উদ্দিন আহমেদের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে বহিষ্কার করার এবং মনিরুজ্জামানের জবাব মোটামুটি সন্তোষজনক হওয়ায় তাঁকে সতর্ক করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা কমিটি।

জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুসারে দল থেকে কাউকে বহিষ্কার বা অব্যাহতির বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। তাই আমরা ছায়েদুল হককে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দিতে কেন্দ্রের কাছে সুপারিশ পাঠাব। কেন্দ্রীয় কমিটি আমাদের সুপারিশের আলোকে সিদ্ধান্ত দেবে। ’

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সর্বশেষ বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিদ্রোহী ও তাদের সহযোগীদের বহিষ্কার না করার সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিলে উবায়দুল মোকতাদির আরো বলেন, ‘এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত এখনো আমরা হাতে পাইনি। এ রকম সিদ্ধান্ত হলে তো আমরা খুশিই হব। যাঁরা নানা কারণে ভুল করেছেন তাঁরা দলে ফিরতে পারবেন। ’

মন্ত্রিসভা থেকে ছায়েদুল হককে অপসারণের সুপারিশ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উবায়দুল মোকতাদির বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। পরবর্তী সময়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সভার অন্য সিদ্ধান্তগুলোর বিষয়ে তথ্য জানানো হবে। ’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মন্ত্রী ছায়েদুল হককে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ওনার ব্যাপারে আরো কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যেটি দলের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার। ’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মন্ত্রী বিভিন্ন সময় দলের শৃঙ্খলা ভেঙেছেন। নাসিরনগরে এখন আওয়ামী লীগ নেই। তিনি সেখানে একনায়কতন্ত্র কায়েম করে রেখেছেন। এসব বিষয়ে ওনাকে শোকজ করা হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। ’

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বিষয়ে ছায়েদুল হকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। গতকাল শনিবার বিভিন্ন সময়ে একাধিকবার কল করলেও তাঁর মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। মন্ত্রীর পিএস মো. মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ টি এম মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ’


মন্তব্য