kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আইনমন্ত্রী বললেন

নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের খবর সত্য নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের খবর সত্য নয়

বঙ্গবন্ধুর খুনি নূর চৌধুরীর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বাতিল করে তাঁকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে যে খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে তা সত্য নয় বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পত্রিকাগুলোতে এ রকম খবর পাওয়ার পর আমাকে নিউ ইয়র্ক থেকে মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফোন করেছিলেন।

এরপর এ খবরের  সত্যতা জানতে কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। সেখানকার হাইকমিশনার জানান, এ সংবাদটি সর্বৈব অসত্য। তিনি তাঁর জায়গা থেকে কনফার্ম করেছেন, এটার কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। ’ গতকাল শনিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।

রাজনৈতিক আশ্রয় চেয়ে নূর চৌধুরীর করা আবেদন বাতিল করে কানাডার আদালত তাঁকে সে দেশ থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন—বাংলাদেশের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে এমন খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরেক খুনি রাশেদ চৌধুরীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গেও গতকাল কথা বলেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, কানাডায় বাংলাদেশের হাইকমিশনার ওই দেশের সাংবাদিকদের পাশাপাশি নূর চৌধুরীর আইনজীবীর সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ডেস্কেও হাইকমিশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করে ওই সংবাদের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।

নূর চৌধুরী ও রাশেদ চৌধুরী বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নূর চৌধুরী কানাডায়, রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন। আমরা আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁদের ফেরত আনার ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাঁরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, যাঁরা দণ্ডপ্রাপ্ত, তাঁদের ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত সে চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। এটিই হচ্ছে বেস লাইন। এ ব্যাপারে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ’

নূর চৌধুরী সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘যখনই কানাডীয় সরকারের সঙ্গে আমাদের সরকারের কোনো আলাপ-আলোচনা হবে, তখনই এ বিষয়ে কথা হবে। এবারও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কানাডা সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন। আমি যতটুকু জানি আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তার মানে হচ্ছে, আমরা তাঁকে (নূর চৌধুরী) ফিরিয়ে আনার যে প্রচেষ্টা চালাচ্ছি, সেটা একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া চলবে। ’

আনিসুল হক বলেন, নূর চৌধুরীকে ফেরত আনার ব্যাপারে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা কানাডীয় সংবিধান। তাতে বলা আছে, যেসব দেশে মৃত্যুদণ্ডাদেশ আছে সেখানে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে এমন আসামিকে ফেরত পাঠানো যাবে না। এই একটা পয়েন্টের ওপরই কিন্তু নূর চৌধুরী সেখানে এখনো টিকে আছেন। এর সুরাহা হলেই তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো যাবে কি যাবে না তার সিদ্ধান্ত হবে।

রাশেদ চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে আনিসুল হক বলেন, ‘কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বাংলাদেশে এসেছিলেন। ওই সময় এ ব্যাপারটা তাঁর কাছে উত্থাপন করেছিলাম। কেরি সাহেব বললেন, তিনি দেশে ফিরে এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। ’

দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতেই রিজার্ভ চুরির তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব : বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত এবং এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের বিষয়েও গতকাল সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন কয়েক দিন পরে প্রকাশিত হলে বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন থাকবে বলে আমরা মনে করেছি। এ কারণেই প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব হচ্ছে। ’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি। এ জন্য সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছি। চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পেতে ফিলিপাইনে একটি মামলা চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আগে ওই মামলা নিষ্পত্তি হলে আমাদের সুবিধা হবে। এই অর্থ ফেরত পেতে কোনো ব্যাঘাত ঘটুক, এমন কিছু আমরা হতে দিতে চাই না। ’

 


মন্তব্য