kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের প্রস্তুতি আ. লীগে

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের প্রস্তুতি আ. লীগে

নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। গত জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে দলটির সংসদীয় দলের সর্বশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছেন।

দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে সুবিধার জন্য নিয়মিত সংগ্রহ করা হচ্ছে একাধিক সরকারি সংস্থার প্রতিবেদন। দলের বাইরে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে জরিপ চালানোর কথাও ভাবছেন সরকারের নীতিনির্ধারকরা। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। ওই নেতাদের মতে, এ বছরের শেষ দিক থেকে নির্বাচনের ইস্যুই হবে রাজনীতির মূল আলোচ্য বিষয়।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘২০১৮ সালে নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আমরা প্রস্তুত হচ্ছি। আমাদের বিশ্বাস, বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নেবে। সবার অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জয়লাভের জন্য আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করছি। ’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সর্বশেষ বৈঠকে নেত্রী (শেখ হাসিনা) সংসদ সদস্যদের নিয়মিত এলাকায় যেতে বলেছেন। কারণ কোনো সংসদ সদস্যের যদি নিজ নির্বাচনী এলাকার জনগণের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় তাহলে সেটি শুধু ভোটের আগে এলাকায় গিয়ে ঘোচানো যায় না। ’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হোক আর না হোক আমাদের জোরালো প্রস্তুতি আবশ্যিক। নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হলে ভোটে জিততে হবে। আর বিএনপি না এলে তাদের জ্বালাও-পোড়াও ঠেকাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঠে থাকতে হবে। এ দুই বিষয় মাথায় রেখেই আওয়ামী  লীগ সভাপতি এখন থেকেই সংসদ সদস্যদের এলাকায় অবস্থান সংহত করতে বলেছেন। ’

ওই নেতা আরো বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াতের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা দেখেছি, যেসব সংসদ সদস্য এলাকায় তেমন সময় দেন না তাঁদের এলাকাগুলোতে বিএনপি-জামায়াত জোরালোভাবে কর্মসূচি পালন করছে। যেসব এলাকায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ আছে সেখানে সরকারবিরোধী তেমন কোনো কর্মসূচি পালন হয়নি। আমরা চাই না কোনো সংসদ সদস্যের এলাকায় যোগাযোগ না থাকার সুযোগে বিরোধীরা কোনো বিশেষ পরিস্থিতি সৃষ্টি করুক। নির্বাচনের আগেই আমরা দেশব্যাপী নিজেদের অবস্থান সংহত করতে চাই। ’

বিএনপির মধ্যবর্তী নির্বাচন দাবি প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম গত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হবে, তা সংবিধান অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর ওপর নির্ভর করে। ’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে বলুন নির্বাচনে অংশ নিতে। তারা নির্বাচনে অংশ নিক। সেখানেই প্রমাণ হবে কার জনপ্রিয়তা আছে কি নেই। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। ’

সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, ‘২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর বেশি সময় বাকি নেই। সে জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দলীয় সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় তৎপরতা বাড়ানোর জন্য বলেছেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরতে বলেছেন। সে অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা তাঁদের তৎপরতা বাড়িয়েছেন। ’

খাদ্য মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবদুল ওদুদ দারা বলেন, ‘আমি বরাবরই নিজের নির্বাচনী এলাকায় যথেষ্ট সময় দিই। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সর্বশেষ বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের এক ধরনের নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন নিজ নিজ এলাকায় যোগাযোগ বাড়াতে। নেত্রীর এমন নির্দেশনার পরে আমাদের কাজে গতি বেড়েছে এটা সত্য। নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণে নেত্রীর নির্দেশনা এখন আমরা সভা-সমাবেশের মাধ্যমে দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছি। ’

ক্ষমতাসীন দলের একাধিক সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থাকে দিয়ে জনপ্রিয়তা যাচাইসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য জরিপ চালানোর কথা ভাবছেন দল ও সরকারের নীতিনির্ধারকরা। এ কাজের তত্ত্বাবধান করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

সূত্র মতে, নির্বাচনে জনপ্রিয় ও যোগ্য প্রার্থী মনোনয়নের লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিটি সংসদীয় আসনে কমপক্ষে পাঁচজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম পাঠাতে সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এসব সংস্থার প্রতিবেদন প্রার্থী মনোনয়নে ভূমিকা রাখবে।

 


মন্তব্য