kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তাসকিন-সানির বোলিং বৈধ

ক্রীড়া প্রতিবেদক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



তাসকিন-সানির বোলিং বৈধ

ড্রেসিংরুমের ভেতরের দিকে ছিলেন তিনি। বাইরে থেকে তামিম ইকবালের চিৎকার, ‘এই তাসকিন, বেরিয়ে আয়।

সুখবর!’ যা বোঝার বুঝে যান তাসকিন আহমেদ। বেরিয়ে আসতে আসতেই জাতীয় দলের সতীর্থরা ঝাঁপিয়ে পড়েন অভিনন্দন নিয়ে। ড্রেসিংরুমেই স্লোগানের মতো আওয়াজ ওঠে, ‘তাসকিন, তাসকিন। ’

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের স্কোয়াডে নেই আরাফাত সানি। কাল বিকেলের ওই সময়টায় ঘুমিয়ে তিনি। ছোট বোন ডেকে তোলেন। সুখবর দেন ভাইকে। বুক থেকে যেন পাথর নেমে যায় তাঁর।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে পাষাণভার হয়ে ছিল তাসকিন-আরাফাতের অবৈধ অ্যাকশনের দায়ে নিষিদ্ধ হওয়া। গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাঁদের অ্যাকশন। ধর্মশালায় নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলায় ম্যাচ অফিশিয়ালরা লাল কালিতে টুকে রাখে দুজনের নাম।

 চেন্নাইয়ে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাঁরা। কিন্তু ১৯ মার্চ প্রকাশিত সে পরীক্ষার ফল পক্ষে যায়নি। আইসিসি নিষিদ্ধ করে দেয় তাসকিন-আরাফাতকে।

মাস ছয়েক পর চলতি মাসের ৮ তারিখ অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে গিয়ে পরীক্ষা দিয়ে আসেন তাঁরা। এরপর অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবাই। বিশেষত তাসকিনের ব্যাপারে। যে কারণে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণার সময় এই ডানহাতি পেসারের জন্য একটি জায়গা পর্যন্ত খালি রাখা হয়। কাল বিকেলে অবশেষে আইসিসি থেকে আসে সুসংবাদ। পরীক্ষায় উতরে গেছেন তাসকিন; সঙ্গে বাঁ হাতি স্পিনার আরাফাতও। আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা ‘নিষিদ্ধ’ তকমা তাই উঠে গেল এই দুই বোলারের।

ওই শব্দটি নিয়ে ভীষণ বিব্রতকর অবস্থায় ছিলেন তাসকিন। কাল খুশির উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়ে জানান তা, ‘সবাই জানে, আমি নিষিদ্ধ বোলার। যেখানে যাই, সব বয়সের সবাই আমাকে প্রশ্ন করে। নিজেকে তখন অপরাধী মনে হতো। এখন আমার সঙ্গে আর নিষিদ্ধ শব্দ থাকছে না। তা ভীষণ আনন্দের। ’ সে আনন্দের মাত্রা কতটা, বোঝাতে গিয়ে যোগ করেন, ‘কিছুদিন আগে ঈদ গেল। আমার কাছে এই নিষেধাজ্ঞার খবর উঠে যাওয়াটা মনে হচ্ছে আরেক ঈদের মতো। ’

তাসকিনের নিষিদ্ধ হওয়াটা মোটেই মানতে পারেনি বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন বেঙ্গালুরুর সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজার ভেঙে পড়ার কথা সহসা ভুলে যাওয়ার নয়। ভিনদেশি সাংবাদিকরা পর্যন্ত অবাক হয়ে যান, একজন সতীর্থের জন্য অধিনায়কের অতটা ভালোবাসা দেখে। সর্বশেষ ছয় মাস নিষিদ্ধ থাকার পুরো সময়ে সতীর্থদের অমন ভালোবাসা পেয়েছেন তাসকিন। কাল তাই শৃঙ্খলমুক্তির দিনে ধন্যবাদ দিলেন তাঁদেরসহ অনেককে, ‘মাশরাফি ভাই, সাকিব ভাই, মুশফিক ভাই, তামিম ভাইসহ সবাইকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আমার দুঃসময়ে তাঁরা পাশে ছিলেন। আমাকে সাহস জোগান। ধন্যবাদ বিসিবিকে। সব সময় পাশে থাকার জন্য। এ ছাড়া কোচ মাহবুব আলী জাকি ভাইকেও ধন্যবাদ। ’ তাঁর ভালো লাগার আরেক জায়গার কথাও জানান তাসকিন, ‘আমি আর সানি ভাই দুজন যাই অস্ট্রেলিয়া। এখন দুজনের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় আমি আরো বেশি খুশি। ’

তাসকিনকে নিয়ে উদ্বেগ ছিল বেশি। বয়স কম, জাতীয় দলে আরো অনেক দিন খেলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে। ওই পেসারের বোলিং অ্যাকশনের শুদ্ধতা নিয়ে যতটা উদ্বিগ্ন ছিলেন সবাই, আরাফাতের ক্ষেত্রে তা নয়। তাঁর বোলিং অ্যাকশনও তো বৈধ ঘোষণা করল আইসিসি। আরাফাত তাই স্নায়ুর চাপ কাটিয়ে উত্ফুল্ল, ‘স্কুলে পরীক্ষা দেওয়ার পর তো তবু বুঝতে পারতাম পাস করব কি না। কিন্তু এখানে বোঝার উপায় ছিল না। একটু টেনশন তাই হচ্ছিল। আইসিসি অ্যাকশন বৈধ বলার খুব স্বস্তি পেয়েছি। ’ কাল সন্ধ্যায় টেলিফোনে কথা যখন বলছিলেন, তখন জাতীয় ক্রিকেট লিগে খেলার জন্য তিনি বগুড়ার পথে। জাতীয় দলে ফেরার জন্য করণীয়গুলো নিজেই যেন নিজেকে মনে করিয়ে দেন এই বাঁ হাতি স্পিনার, ‘আগে আমাকে ঘরোয়া লিগে ভালো পারফর্ম করতে হবে। তা পারলে নির্বাচকরা নিশ্চয়ই আবার জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করবেন। ’

কিন্তু অ্যাকশন বদলে যাওয়ার পর আগের কার্যকারিতা থাকবে কি না, এ নিয়ে কিছু সংশয়ও তো রয়েছে। যদিও আরাফাত সেটিকে বড় করে দেখতে নারাজ। বরং পূর্বসূরি এক বাঁ হাতি স্পিনারের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন তিনি, ‘রাজ্জাক ভাইয়েরও বোলিং অ্যাকশন অবৈধ বলা হয়েছিল। উনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করার পর আগের চেয়ে অনেক ভালো বোলিং করেছেন। আমার আগের অ্যাকশনে যেমন টার্ন ও বাউন্স তেমন পেতাম না। এবার শুধরে নেওয়ার পর তা পাব বলে আশা করছি। তাতে সব মিলিয়ে আমার কার্যকারিতা আগের চেয়ে বেশি হওয়ার কথা। ’

আইসিসি থেকে অ্যাকশনের শুদ্ধতার স্বীকৃতি পাওয়ার পর তাসিকন ও আরাফাতের চ্যালেঞ্জ সেটিই। আগের কার্যকারিতা যেন না কমে!


মন্তব্য