kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চার দূষণে ধুঁকবে সুন্দরবন

আরিফুজ্জামান তুহিন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চার দূষণে ধুঁকবে সুন্দরবন

বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে বায়ু, পানিসহ চারটি সুনির্দিষ্ট দূষণ ঘটবে। এতে মারাত্মক হুমকিতে পড়বে সুন্দরবন।

এ ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে অবিলম্বে এ কেন্দ্রের নির্মাণকাজ বন্ধের সুপারিশ করেছে ইউনেসকো। পাশাপাশি সুন্দরবনের ক্ষতি হবে না—এমন কোনো জায়গায় অবিলম্বে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে। ইউনেসকোর সুপারিশের সঙ্গে সংগতি রেখে সরকার যথাযথ উদ্যোগ না নিলে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করবে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি। সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারকে দেওয়া ৩০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদনে এসব কথা বলেছে ইউনেসকো। প্রতিবেদনের একটি কপি কালের কণ্ঠের হাতে এসেছে।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেসকো ১৯৯৭ সালে সুন্দরবনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। প্রতিবেদনের বিষয়ে মতামত জানাতে আগামী ১১ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দিয়েছে সংস্থাটি।

রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি দূষণ ঘটবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ১৩২০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হলে ভয়াবহ মাত্রায় বায়ু ও পানিদূষণ হবে; যার সরাসরি প্রভাব পড়বে বনের ওপর। নৌ চলাচল বৃদ্ধির কারণেও নানা দূষণ ঘটবে। নদীর নাব্যতা ঠিক রাখতে গিয়ে নদী খননের জন্য তোলা মাটির স্তূপও বনের ক্ষতি করবে। আর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে ভবিষ্যতে ওই অঞ্চলে শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের হিড়িক পড়ে যাবে। ফলে সুন্দরবনের প্রাণ-প্রতিবেশের হুমকির মুখে পড়বে। আর এসব ঠেকানো না গেলে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হবে। প্রতিবেদনে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ) বা পরিবেশের চূড়ান্ত ছাড়পত্রকেও অসম্পূর্ণ ও ত্রুটিপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসব বিবেচনায় সরকারকে অবিলম্বে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ধরনের কাজ বন্ধ রাখার তাগিদ দিয়েছে ইউনেসকো। এমনকি নদীর নাব্যতা ঠিক রাখার জন্য পশুর নদে যে খননকাজ শুরু হয়েছে, তা-ও বন্ধ রাখার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি। তারা বলেছে, সুপারিশ অনুযায়ী কাজ না করলে ২০১৭ সালে ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের ৪১তম অধিবেশনে সুন্দরবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত করার কথা বিবেচনা করা হবে।  

ইউনেসকোর সুপারিশ অনুযায়ী সরকার কি রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ বন্ধ রাখবে—এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমরা কোনো কাজ বন্ধ করছি না। তবে ইউনেসকোর উদ্বেগ দূর করার ব্যবস্থা নিয়েছি। তাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যেই আমরা আমাদের মতামত জানাব। ’

এর আগেও রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। সর্বশেষ সংস্থাটির প্রতিনিধিরা গত ২২ মার্চ সাত দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন। প্রতিনিধিদলে ছিলেন আন্তর্জাতিক সংস্থা আইইউসিএনের (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অব নেচার) প্রতিনিধি নওমি ডোয়াক,  মিজুকি মুরাই এবং ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের ফ্যানি ডৌভেরে। তাঁরা সুন্দরবন ঘুরে দেখেন এবং সরকারের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সফর শেষে ২৮ মার্চ বাংলাদেশ ছাড়েন তাঁরা। তারপর গত আগস্টে ইউনেসকোর পক্ষ থেকে ৩০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনটি সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে।

ইউনেসকোর প্রতিবেদনে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটিকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ‘বিশেষজ্ঞ দলের অভিমত ছাড়া ও পরিবেশের কথা বিবেচনায় না এনে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। ’ প্রতিবেদনে সাউথ এশিয়ান হিউম্যান রাইটসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ইআইএ প্রতিবেদন পাওয়ার দুই বছর আগেই রামপালে জমি অধিগ্রহণ করে সরকার। ফলে পরিবেশের অনুমতি বা  ইআইএ গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্ন উঠেছে। ’

প্রতিবেদনে ইআইএ সম্পর্কে বলা হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে ৫৯টি শর্তে দেওয়া ইআইএ ছিল মূলত কেন্দ্র নির্মাণ পর্যায়ের, তাও তাতে পুরো চিত্র উঠে আসেনি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পর এ কেন্দ্র থেকে নির্গত পরিবেশদূষণকারী বিষয়গুলো কিভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে সে সম্পর্কে ইআইএ প্রতিবেদনে বিস্তারিত বলা হয়নি। ইআইএ তৈরিতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডও মানা হয়নি। ইআইএ প্রতিবেদনটি অনুমানভিত্তিক, যা বাস্তবসম্মত নয়। তাতে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকালীন এবং কেন্দ্র নির্মাণের পর তা থেকে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে তাও নিরসন করতে পারেনি ইআইএ প্রতিবেদন।

বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে উদ্বেগ জানিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড বা ভেল। তবে প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কেন্দ্র নির্মাণ করবে তা চেষ্টা করেও জানতে পারেনি ইউনেসকোর প্রতিনিধিদল।

বায়ুদূষণ : বিদ্যুৎকেন্দ্রের কয়লা পোড়ানোর কারণে তৈরি হবে সালফার ডাই-অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সসাইড, নাইট্রাস অক্সাইড ও পারদ (মার্কারি)। সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রাস অক্সাইডের মিশ্রণে এসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করবে। এর ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। বিশেষত মাটি ও পানিতে এসিড বা অম্লের পরিমাণ বেড়ে যাবে, যার ফলে জলজ প্রাণী ও উদ্ভিদের মৃত্যু হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কেন্দ্রটি থেকে প্রতিবছর গড়ে ১০ লাখ টনের বেশি ছাই উৎপাদিত হবে। কয়লা পোড়া ছাই অতিমাত্রায় বিপজ্জনক, এতে রয়েছে আর্সেনিক, লিড (সিসা), পারদ, নিকেল, ভ্যানাডিয়াম, বেরিলিয়াম, বেরিয়াম, ক্যাডমিয়াম, ক্রোমিয়াম, সিলেনিয়াম ও রেডিয়াম। এসব দূষণকারী পদার্থ মানবদেহ ও পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পারদ মানুষের মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, এর কারণে বুদ্ধিমত্তা হ্রাস পায়। এটি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বাধাগ্রস্ত করে ও হৃদযন্ত্রের নানা জটিলতা সৃষ্টি করে। বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি দিয়ে বের হওয়া ধোঁয়া থেকে পারদ গিয়ে মিশবে পানিতে, যা মাছের দেহে ঢুকবে। ফলে এসব এলাকার মাছের ওপর নির্ভরশীল মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীও আক্রান্ত হবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পারদের দূষণ নিয়ন্ত্রণে যে প্রযুক্তি ব্যবহার করার নিয়ম রয়েছে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র সে প্রযুক্তি ব্যবহার করছে না। বর্তমানে কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে পারদের দূষণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে আনা সম্ভব।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রামপালে ২৭৫ মিটার বা ৯০০ ফুট উঁচু চিমনি ব্যবহার করা হবে। এ রকম উঁচু চিমনি কেন্দ্রের আশপাশের দূষণ রোধ করবে ঠিকই, তবে কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারবে না। বরং তা কেন্দ্র থেকে বহু দূরের স্থানে দূষণ ও এসিড বৃষ্টি ঘটাবে। কারণ উঁচু চিমনি বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরকে ছিদ্র করে দেবে এবং দূষিত বায়ু বহু দূরে গিয়ে তা ক্রমশ নিচে নেমে আসবে। সে ক্ষেত্রে বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬৫ কিলোমিটার দূরে সুন্দরবনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশ ঝুঁকিতে পড়বে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের বাতাস উত্তর থেকে উত্তর-পশ্চিমে প্রবাহিত হয়। ওই চিমনির ধোঁয়া জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশে গিয়ে পড়বে।

পানিদূষণ : প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের জন্য পানি নেওয়া হবে পশুর নদ থেকে। পরে শীতলীকরণ ব্যবস্থার (কুলিং ওয়াটার) মাধ্যমে ওই পানি ফের পশুর নদে ফেলা হবে। প্রতিবেদনে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত পানি সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটা সারা পৃথিবীতেই প্রচলিত যে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহারের পর পানি দূষিত হয়ে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরকারী দল জানতে পেরেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই বিভিন্ন ধরনের নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হবে। কিন্তু পরিবেশ ও পানির ক্ষতি না করে সুরক্ষিতভাবে ছাই মজুদ রাখা দুরূহ কাজ। মজুদকৃত ছাই কোনোভাবেই পানিতে গিয়ে মিশবে না, সরকারের এ ধরনের আশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এনভায়রনমেন্টাল প্রটেকশন এজেন্সি (ইপিএ) কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই সুরক্ষিতভাবে মজুদ রাখার বিষয়ে একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে। তাতে বলা হয়, নরম জমিতে কয়লার ছাই সংরক্ষণাগার করা যাবে না। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ছাই মজুদ রাখার স্থান থেকে পানি ছড়িয়ে পড়ে বিশেষত জলাভূমি অঞ্চলের মারাত্মক পানিদূষণ ঘটিয়েছে।

ইউনেসকো বলছে, রামপাল কেন্দ্রটি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যপ্রবণ এলাকায় নির্মাণ করা হচ্ছে। গত ২৫ বছরে এ অঞ্চলে ১৫টি ঘূর্ণিঝড় আঘাত করেছে। জোয়ারের সময়ও এলাকাটি প্লাবিত হয়। কেন্দ্রের ছাই বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে নদীতে গিয়ে মিশতে পারে, যা সুন্দরবনের প্রাণবৈচিত্র্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি করবে।

গড়ে উঠবে নতুন কল-কারখানা, বাড়বে দূষণ : রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের খবর শোনার পর থেকেই বাগেরহাটের বিভিন্ন এলাকায় শিল্প মালিকরা জমি কিনছেন। এমনকি অনেকে সুন্দরবনের ভেতরেও কারখানা করার জন্য জমি কিনেছে। শুধু মংলার জয়মণি এলাকায়ই ২০টিরও বেশি শিল্প-কারখানার সাইনবোর্ড দেখা যায়। সফরকারী দলটি এ বিষয়ে তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, রামপাল কেন্দ্র হলে ওই অঞ্চলে নতুন করে আরো শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। এতে সুন্দরবনের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

নৌ চলাচলে দূষণ, খননের মাটিতে বিপন্ন হবে সুন্দরবন :  প্রতিবেদনে বলা হয়, রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বিদেশ থেকে কয়লা আমদানি করা হবে। কেন্দ্র নির্মাণের বিভিন্ন সরঞ্জাম ও কয়লা ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশের পাশ দিয়ে নৌপথে রামপালে নেওয়া হবে। কেন্দ্রের ছাইও একই পথে নেওয়া হবে। এর ফলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশটি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।

নৌ চলাচল ঠিক রাখতে পশুর নদে ৩৫ কিলোমিটার অংশে ড্রেজিং কতে হবে প্রতিবছর। খননের পর অন্তত তিন কোটি ২০ লাখ ১০ হাজার ঘনফুট মাটি বনের ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ অংশে স্তূপ করে রাখা হবে, যা সুন্দরবনের ভয়াবহ ক্ষতির কারণ হবে।

ইউনেসকোর প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ গতকাল শুক্রবার টেলিফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এটা প্রমাণিত হলো যে এত দিন আমরা যেসব তথ্য-উপাত্ত ও যুক্তি দিয়েছিলাম তার ন্যায্যতা রয়েছে। ইউনেসকোর প্রতিবেদন ও আমাদের বক্তব্যর ভিত্তি হলো বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত। সরকার যদি বৈজ্ঞানিক তথ্যের ওপর আস্থা রাখে তাহলে এ কেন্দ্র বাতিল করবে। ’ তিনি আরো বলেন, যদি ইউনেসকোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকা থেকে সুন্দরবন বাদ পড়ে তবে সারা পৃথিবীর দরবারে বাংলাদেশ কলঙ্কিত হবে, এটি দেশের জন্য খুবই খারাপ হবে। সরকারের উচিত, দ্রুত এ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ বন্ধ করা।

উল্লেখ্য, ইউনেসকো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কমিটি গত বছর জুলাইয়ে তাদের ৩৯তম অধিবেশনেও রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সুন্দরবনের ক্ষতি করবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, সে সম্পর্কে তথ্য জানতে চেয়েছিল ইউনেসকো। ইউনেসকোর আগে জাতিসংঘের আরেক সংস্থা রামসার সেক্রেটারিয়েটের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিরোধিতা করে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন করে যাচ্ছে।


মন্তব্য