kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব

পরিস্থিতিই টেনে আনতে পারে জোবাইদাকে

এনাম আবেদীন   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



পরিস্থিতিই টেনে আনতে পারে জোবাইদাকে

ক্ষমতার বাইরে থাকার হতাশা ও সাংগঠনিক বিপর্যয়েই এ প্রেক্ষাপট

তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান বিএনপির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি কি না, এ মুহূর্তে প্রশ্নটি দলের নেতাকর্মীদের করা হলে প্রায় সবাই এক বাক্যে বলবে, এ অসম্ভব। তাদের যুক্তি হলো, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এতে কিছুতেই রাজি হবেন না।

কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করলে, বিশেষ করে বিএনপিকে টিকিয়ে রাখার প্রশ্নে বিকল্প বা নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হলে খালেদা জিয়া কাকে বেছে নেবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে আবার সবাই এক বাক্যে সাবেক নৌবাহিনীপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের মেয়ে জোবাইদার নামই বলছে। কারণ খালেদা ও তারেকের বাইরে তাঁকে নিয়েই বিএনপি এবং এর বাইরে নানা গুঞ্জন ও আলোচনা এখন ডালপালা মেলতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, শিক্ষিত ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান জোবাইদা স্বচ্ছ ভাবমূর্তির অধিকারী। তিনি হাল ধরলে বিএনপি টিকে থাকবে, সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে সমন্বয় ও সদ্ভাবও তৈরি হবে, যা বর্তমানে দলটিতে একেবারেই নেই। পরস্পর রেষারেষিতে বিএনপি এখন একটি ‘ঝগড়া-ফ্যাসাদের’ দলে পরিণত হয়েছে।  

ডা. জোবাইদাকে নিয়ে আলোচনার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার পর সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার হতাশা, সাংগঠনিক বিপর্যয় এবং দেশি-বিদেশি সমীকরণ থেকেই এমন আলোচনার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলমান বেশ কয়েকটি মামলার অস্বাভাবিক গতি। সরকার ওই দুই নেতাকে  সাজা দিয়ে জিয়া পরিবার তথা বিএনপিকে ধ্বংস করতে চায় বলে মনে করেন দলটির নেতারা। এমন পরিস্থিতি এলে বিএনপির হাল কে ধরবেন, সে আলোচনায় উঠে আসছে ডা. জোবাইদার নাম। কারণ চেয়ারপারসন দলের কোনো সিনিয়র নেতাকেই বিশ্বাস করতে পারছেন না। নেতাকর্মীদের মতে, এ পরিস্থিতিতে ‘মন্দের ভালো’ হিসেবে শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্য ডা. জোবাইদাকেই বেছে নেবেন তিনি।

শত নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ মনে করেন, বিএনপিকে নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি, বিশেষ করে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চলমান মামলার কারণেই ডা. জোবাইদার নাম আলোচনায় আসছে। অনেকের আশঙ্কা, তাঁদের সাজা হতে পারে। আর সেই পরিস্থিতিতে জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকার আর কে আছে? সুতরাং জোবাইদার সম্ভাবনা আছে।

তা ছাড়া ডা. জোবাইদা তরুণ, উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী। দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতাও আছে। পাশাপাশি বিদেশিরা কী চায়, তাও বিবেচনায় নিয়ে কেউ কেউ তাঁকেই এগিয়ে রাখছে। পরিস্থিতি অনিবার্য করে তুললে দেশের স্বার্থে তিনিই বিএনপির হাল ধরবেন, যোগ করেন বিএনপিপন্থী সুধীসমাজের এই প্রতিনিধি।

যদিও দলটির বেশির ভাগ নেতাই বিশ্বাস করেন, শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া বা কারাগারে নেওয়া সহজ হবে না। কালের কণ্ঠ’র সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা জানিয়েছেন, ঢাকাস্থ কূটনীতিকরাও তাঁদের আশ্বস্ত করেছেন, খালেদা জিয়াকে সাজা দেওয়া সহজ হবে না। আর কারাগারে নিলেও তাঁর জনপ্রিয়তা আরো বাড়বে। ফলে সরকার ওই ঝুঁকি নাও নিতে পারে বলে মনে করেন তাঁরা।

বিএনপির প্রথম ও মধ্যম সারির অন্তত ছয়জন নেতার সঙ্গে গত এক সপ্তাহে আলোচনা হয় কালের কণ্ঠ’র প্রতিনিধির। দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব বিষয়ে তাঁদের প্রায় সবাই মনে করেন, খালেদা ও তারেক কেউই জোবায়দাকে মেনে নেবেন না। তবে বাধ্য হলে তাঁরা অনেক কিছুই করতে রাজি হন। এ প্রসঙ্গে মধ্যম সারির অন্তত তিন নেতা হাওয়া ভবন বন্ধ করা, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে সাক্ষাৎ তথা বিএনপির ভারতমুখী হওয়ার উদাহরণ দেন।

ক্ষমতায় থাকতে বিএনপির ভেতর-বাইরের অনেকেই হাওয়া ভবন বন্ধ করার পরামর্শ দিলেও খালেদা তাতে সম্মত হননি। উপরন্তু যাঁরা এ পরামর্শ দিয়েছিলেন তাঁদের ওপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন তিনি। অথচ এক-এগারোর পর চাপে পড়ে হাওয়া ভবন ঠিকই বন্ধ করেন খালেদা। একইভাবে ২০০৯ সালে সফররত ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করলেও পরে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের সঙ্গে হোটেল সোনারগাঁওয়ে গিয়ে সাক্ষাৎ করেন তিনি। শুধু তাই নয়; অনেক দিনের ভারতবিরোধী রাজনীতি বাদ দিয়ে গত কয়েক বছর ভারতমুখী নীতি অনুসরণ করছেন তিনি। বলা হচ্ছে—স্বেচ্ছায় নয়, বাধ্য হয়েই খালেদা এসব করেছেন। এমনকি পরিস্থিতির কারণে তিনি মির্জা ফখরুলকে পূর্ণ মহাসচিব করেছেন বলেও অনেকের ধারণা। বাধ্য হলে জোবায়দাকেও তিনি দলের দায়িত্ব দেবেন বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা।

বর্তমানে ব্যাংককে অবস্থানরত স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের মতে, তিনি (জোবায়দা) রাজনীতিতে আসবেন কি না বলা মুশকিল। কারণ তিনি বেশ লো-প্রোফাইলে থাকেন। তিনি রাজনীতিতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও শুনিনি। তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক সময় শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ারও আগ্রহ ছিল না। তা সত্ত্বেও শেষ পর্যন্ত তাঁরা দেশের বড় দুটি দলের হাল ধরেছেন।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতে, দেশের মানুষ জোবায়দার কথা বলেন আবেগ থেকে। বিএনপির বর্তমান নেতাদের রাজনীতিতে বাধা দেওয়া বা তাঁদের আটকে রাখার সব চেষ্টাই সরকার করছে। ফলে বিএনপির ভবিষ্যৎ নিয়ে জনগণ ভাবছে। আর এ ভাবনা থেকেই ডা. জোবায়দাকে নিয়ে নানা বিশ্লেষণ হচ্ছে। এ বিশ্লেষণ হয়তো কাজে নাও লাগতে পারে। তবে দলের সর্বস্তরে যে তিনি গ্রহণযোগ্য হবেন এতে কোনো সন্দেহ নেই।

কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান মনে করেন, এখনকার রাজনৈতিক বাস্তবতায় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির জন্য অনিবার্য। ভবিষ্যতে ডা. জোবায়দা বা অন্য কেউ আসবেন কি না সেটি সময় বলে দেবে। তবে জোবায়দার সুনাম, গুণাবলি তথা গ্রহণযোগ্যতা শুধু বিএনপি নয়; এ দলের বাইরেও আলোচিত বিষয়। ভারতের কংগ্রেসে ইন্ধিরা গান্ধীর পরে এক সময় সঞ্জয় গান্ধীকে উত্তরাধিকার বলে ধরা হতো। কিন্তু সময়ের বাস্তবতায় শেষ পর্যন্ত রাজীব গান্ধীকে দলের হাল ধরতে হয়েছে।

১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর নানা ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে ১৯৮৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া। সেই থেকে টানা ৩৪ বছর দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি এ পর্যন্ত তিনবার রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম একটানা (২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে আজ পর্যন্ত) প্রায় ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে আছে দলটি। ফলে বর্তমান নেতৃত্বের প্রজ্ঞা ও সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বলা হচ্ছে, বর্তমান কাঠামো দিয়ে বিএনপির আবার ক্ষমতায় আসা সম্ভব নাও হতে পারে।

এর আগে ১৯৯১ সালের ২০ মার্চ খালেদা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত আট বছর ১১ মাস ২৪ দিন ক্ষমতার বাইরে ছিল দলটি। ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতা হারালেও পরের নির্বাচনে ২০০১ সালে বিএনপি আবারও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যায়।

গঠনতন্ত্র অনুযায়ী খালেদা জিয়ার পরে তারেক রহমানই বিএনপির দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। গত ১৯ মার্চ জাতীয় কাউন্সিলের পরে ঘোষিত কমিটির তালিকাক্রমে তারেকের নাম আরো ওপরের দিকে নিয়ে তাঁকে দ্বিতীয় প্রধান নেতা করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে খালেদা সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, তাঁর অবর্তমানে ছেলেই দলের হাল ধরবেন। কিন্তু তারেককে দেশে ফিরে এসে রাজনীতি করতে হলে আগে বিএনপিকে ক্ষমতায় আসতে হবে। ফলে ক্ষমতায় আসার পূর্বশত বা সম্ভাব্য ফ্যাক্টরগুলোর পাশাপাশি দেশি-বিদেশি  নানা সমীকরণ এখন বিএনপির সামনে। এ ক্ষেত্রে ‘এক্সটারনাল ও ইন্টারন্যাল’ এই দুই ধরনের ফ্যাক্টর গুরুত্বপূর্ণ। দলটির নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি শুভাকাঙ্ক্ষী বৃদ্ধিজীবীরাও মনে করেন, অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে তীব্র গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারকে চাপে ফেলে নির্দলীয় নিরপেক্ষ নির্বাচন আদায় করতে পারলে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব। কিন্তু ৫ জানুয়ারিকে কেন্দ্র করে সর্বশেষ দুই দফা ব্যর্থ আন্দোলনের পর সে বাস্তবতা আর নেই বলে দলটির বেশির ভাগ নেতাকর্মী বিশ্বাস করে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর মনোভাবকে তাঁরা ‘এক্সটারনাল ফ্যাক্টর’ বলে মনে করেন। তাঁদের মতে, তৃতীয় বিশ্বের অনেক দেশে জনগণ এখন আর নিয়ামক শক্তি নয়। তারা ভোট দেয় মাত্র; কিন্তু কোনো দলের জন্য ঝুঁকি নেয় না। বরং বৈদেশিক বা শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর চাওয়া-পাওয়ার ওপরে ক্ষমতায় থাকা না থাকা বহুলাংশে নির্ভর করে। এ জন্য আলোচনা হলো—বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের মনোভাব আসলে কী? পাশাপাশি খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে তারা নির্ভরযোগ্য মনে করে কি না, এ আলোচনাও এখন হচ্ছে বিএনপি ও তার বাইরে। আর এমন আলোচনায় আজকাল জোবায়দার নামই বেশি উঠে আসছে বলে জানা যায়।

এর প্রধান কারণ হলো নেতা হিসেবে খালেদা জিয়ার গ্রহণযোগ্যতা থাকলেও তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি এখন কিছুটা দুর্বল হতে শুরু করেছে। অনেক নেতাই তাঁর নির্দেশ মানতে চাইছেন না। আবার প্রকাশ্যে সহযোগিতার ভাব দেখালেও কার্যত অনেকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। কমিটি গঠনসহ নানা ক্ষেত্রে বিএনপিকে ভাঙিয়ে তাঁরা অর্থ উপার্জনে নেমেছেন। পরিস্থিতি এমন যে বিএনপি কবে ক্ষমতায় যাবে ঠিক নেই, সংগঠন বা কমিটি বিক্রি করে এখন যা পাওয়া যায়, তা-ই লাভ! অথচ খালেদা তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাই হারিয়ে ফেলছেন। এ কারণে দলে বিভাজনও এখন চরমে। ফলে ব্যাপক জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও বিএনপি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে। এ খবর ঢাকার কূটনীতিকদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পৌঁছেছে। ফলে খালেদার নেতৃত্বাধীন বিএনপির ওপর বিদেশিদের আস্থা কমতে শুরু করেছে।

এদিকে তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে তারেকের জনপ্রিয়তা থাকলেও বেশির ভাগ সিনিয়র নেতার সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সিনিয়র নেতারা মনে করেন, তারেক দলের হাল ধরলে তাঁদের পক্ষে আর বিএনপির রাজনীতি করা সম্ভব নয়। ফলে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তার ভাব নিয়েও শুধু পরবর্তী নির্বাচনের জন্য তাঁরা টিকে আছেন। কিন্তু আলাপচারিতায় ওই নেতারাই আবার বলছেন, জোবায়দা হাল ধরলে তাঁরা তাঁর পাশে থাকবেন। তাঁদের আশা, সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে জোবায়দা আর যা-ই হোক, সিনিয়র নেতাদের অসম্মান করবেন না। স্থায়ী কমিটির দুটি শূন্য পদের একটি জোবায়দার জন্যই রাখা হয়েছে বলে ওই নেতাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করেন।

সূত্র মতে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সঙ্গে ডা. জোবায়দা পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে এবার হজব্রত পালনের ঘটনাকে তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। জোবায়দার সঙ্গে তাঁর বোন শাহীনা জামান বিন্দু ও মা ইকবাল বান্দ বানু সৌদি আরবে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ছিলেন।

এদিকে বিএনপির বাইরে দেশে ‘ক্ষমতার বিকল্প কেন্দ্র’ বলে পরিচিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী ও সুধীসমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে এক ধরনের নেতিবাচক মনোভাব আছে।

তা ছাড়া ভারতসহ আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নানা চাওয়া-পাওয়ার হিসাব জড়িত। এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রধান শরিক জামায়াতকে নিয়ে দু-একটি দেশের আপত্তি আছে। পাশাপাশি তাদের ওই চাওয়া-পাওয়ার সঙ্গে তারেক রহমানের অবস্থান এখনো পুরোপুরি মেলেনি।

যদিও আওয়ামীবিরোধী শক্তি হিসেবে বিদেশিরা বিএনপিকেই চাইছে, এমন আলোচনা ঢাকার কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে আজকাল রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ শোনা যায়। কারণ গত কয়েক বছরে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও তৃতীয় কোনো ধারা গড়ে তোলা যায়নি। তবে কার নেতৃত্বে বিএনপি ঘুরে দাঁড়াবে—এটাই এখন বিতর্কের কেন্দ্রে। কারণ বিএনপির ওই নেতৃত্বের সক্ষমতা, প্রজ্ঞা ও সিদ্ধান্তের ওপর দেশের নির্বাচনপূর্ব রাজনৈতিক মেরুকরণের বিষয়টি অনেকাংশে নির্ভর করছে। নির্ভর করছে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া তথা টিকে থাকার বিষয়টিও। পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় যেতে না পারলে বিএনপি আরো দুর্বল হয়ে পড়বে। এমনকি ভেঙেও যেতে পারে বলে আশঙ্কা আছে। যে কারণে স্বচ্ছ, সক্ষম ও গতিশীল নেতৃত্ব এখন বিএনপির অস্তিত্বের জন্যই জরুরি।


মন্তব্য