kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রকাশিত সংবাদে টিকে গ্রুপের ব্যাখ্যা

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



প্রকাশিত সংবাদে টিকে গ্রুপের ব্যাখ্যা

২১ সেপ্টেম্বর ২০১৬ইং তারিখে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ‘ফরমালিনের কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির’ একটি সংবাদ আমাদের নজরে এসেছে। সেই সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বক্তব্য নিম্নরূপ :

টিকে গ্রুপ দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অত্যন্ত সুনাম ও সুখ্যাতির সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।

টিকে গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান সুপার বোর্ড মিলস লিমিটেড ফরমালিন তৈরি করে না এবং ওই পণ্য বা এর কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির প্রশ্নও আসে না। উল্লিখিত প্যারাফরমালডিহাইড পার্টিকেল বোর্ড উৎপাদনের অন্যতম কাঁচামাল, যা সরকারের সব আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী আমদানি ও ব্যবহৃত হয়েছে। সংবাদে উল্লিখিত তদন্ত সম্পর্কে আমরা অবগত। কিন্তু তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে দৈনিক পত্রিকায় যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তাতে প্রকৃত ঘটনার প্রতিফলন হয়নি।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৬২৭ টন প্যারাফরমালডিহাইড খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। কিন্তু তদন্ত প্রতিবেদনে ১৯ জুন, ২০১৪ তারিখে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ১৮০ টন প্যারাফরমালডিহাইড এবং জানুয়ারি, ২০১৫ থেকে আগস্ট, ২০১৫ পর্যন্ত সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেডকে হস্তান্তরকৃত ৫০৫ টন প্যারাফরমালডিহাইড বিবেচনায় না নিয়ে সরাসরি খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

১৯ জুন, ২০১৪ইং তারিখ সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের স্মারক নং-এফএসওসিডি/অগ্নি/ঙ-১০৪/১৪/১০৮৯২(২) তারিখ ১৭-০৯-২০১৪ এবং ইনস্যুরেন্স সার্ভেয়ারের রিপোর্ট নং-জেএন/এফ-০৭/১৮৫/২০১৫ তারিখ ৩০-০৪-২০১৫ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষকে সরবরাহ করা হয়। ওই সার্ভেয়ার রিপোর্টে ১৮০ টন প্যারাফরমালডিহাইড যে অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হয়েছে তা উল্লেখ আছে, যা মূল্য সংযোজন কর ও বিধিমালা ১৯৯১-এর ধারা ৪০ অনুযায়ী সব ধরনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এতদ সত্ত্বেও তদন্তে বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়নি বলে প্রতীয়মান হয়।

এ ছাড়া আমাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সুপার ফরমিকা অ্যান্ড লেমিনেশন লিমিটেডকে ৫০৫ টন প্যারাফরমালডিহাইড সরকারের সব নিয়ম-কানুন, আইন ও বিধি এবং প্রয়োজনীয় রাজস্ব প্রদানকরত হস্তান্তর করা হয়, যা মূসক-১১ দ্বারা প্রতিস্থাপিত। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর ওই বিষয়টিও বিবেচনায় আনেনি।

শুল্ক আইনের বিধান মতে, কোনো শুল্কযোগ্য পণ্য অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত হলে তার ওপর কোনো ধরনের শুল্ক-করাদি প্রদেয় হয় না। আরো উল্লেখ্য, আমাদের আমদানিকৃত প্যারাফরমালডিহাইড প্রয়োজনীয় শুল্ক-করাদি পরিশোধ করেই ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের প্রতিষ্ঠান কখনো ফরমালিন উৎপাদন ও বাজারজাত কিংবা বিক্রি করেনি। এমনকি কাঁচামাল হিসেবে আমদানিকৃত প্যারাফরমালডিহাইড কখনো খোলাবাজারেও বিক্রি করেনি।

উল্লিখিত অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত ১৮০ টন এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে হস্তান্তরিত ৫০৫ টন প্যারাফরমালডিহাইড বিবেচনায় নিলে ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত আমদানিকৃত ও ব্যবহৃত প্যারাফরমালডিহাইডের মধ্যে কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত হবে না।

এমতাবস্থায় আমরা বলতে চাই, একটি তদন্তাধীন বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার আগেই বিষয়টি কোনো সংবাদপত্রে এবং জনসমক্ষে উন্মোচন করা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।

—কর্তৃপক্ষ

টিকে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ


মন্তব্য