kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতিসংঘে ভাষণে বিশ্ব সম্প্রদায়কে প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাসী জঙ্গিদের অর্থ অস্ত্র নৈতিক সমর্থন দেবেন না

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



সন্ত্রাসী জঙ্গিদের অর্থ অস্ত্র নৈতিক সমর্থন দেবেন না

সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে বিশ্বাসী উল্লেখ করে তাতে বিশ্ববাসীর সমর্থন চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদীদের অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্রের জোগান বন্ধ এবং তাদের প্রতি নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থন না দিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

নিউ ইয়র্ক সময় বুধবার সন্ধ্যায় (বাংলাদেশ সময় গতকাল ভোর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে বাংলায় দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এসব আহ্বান জানান।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনি রাশেদ চৌধুরীর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, তাকে ফিরিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র আশ্বাস দিয়েছে।  

জাতিসংঘ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বলেন, ‘গত বছর আমি বলেছিলাম, বর্তমান সময়ের দুটি প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস চরমপন্থা। আমরা দেখতে পাচ্ছি যে এই চ্যালেঞ্জগুলো এখন কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আবদ্ধ না থেকে বিশ্বের সকল স্থানেই ছড়িয়ে পড়ছে। কোনো দেশই আপাতদৃষ্টিতে নিরাপদ নয়, কোনো ব্যক্তিই এদের লক্ষ্যবস্তুর বাইরে নয়। আমেরিকা থেকে ইউরোপ, আফ্রিকা থেকে এশিয়ায় অগণিত নিরীহ মানুষ সন্ত্রাসবাদের শিকার হচ্ছে। ’

বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই। এদের সর্বোতভাবে সমূলে উৎপাটন করার সংকল্পে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের মূল কারণগুলো আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। একই সঙ্গে এদের পরামর্শদাতা, মূল পরিকল্পনাকারী, মদদদাতা, পৃষ্ঠপোষক, অর্থ ও অস্ত্র সরবরাহকারী এবং প্রশিক্ষকদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ’

এক যুগ আগে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়া শেখ হাসিনা সন্ত্রাস ও সহিংস জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তাঁর সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টি বিশ্বনেতাদের কাছে আবারও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যেসব সন্ত্রাসী গ্রুপের উদ্ভব হয়েছে, তাদের নিষ্ক্রিয় করা, তাদের নিয়মিত অর্থ সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা এবং বাংলাদেশের ভূখণ্ড থেকে আঞ্চলিক সন্ত্রাসীদের কার্যক্রম নির্মূল করার ক্ষেত্রে আমাদের সরকার সফল হয়েছে। ’

অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে সাম্প্রতিক গুলশান হামলার বিষয়টি তুলে সরকারপ্রধান বলেন, ‘এই ভয়ংকর ঘটনা বাংলাদেশের জনগণের মনে এক গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে আমরা এই নতুন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। ’ দেশীয় জঙ্গিদের ওই হামলার পর জনগণকে সচেতন করতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আত্মবিশ্বাসী যে জনগণের দৃঢ়তা ও সহযোগিতায় আমরা বাংলাদেশের মাটি থেকে সন্ত্রাসীদের সমূলে উচ্ছেদ করতে পারব। ’

বিশ্ব সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একই সঙ্গে আমি সন্ত্রাসী এবং উগ্রবাদীদের অর্থ ও অস্ত্রশস্ত্রের জোগান বন্ধ এবং তাদের প্রতি নৈতিক ও বৈষয়িক সমর্থন না দেওয়ার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানাচ্ছি। ’

সংঘাত বন্ধ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সব দেশকে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “বিশ্ব বর্তমানে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যখন এসব অভিশাপ থেকে মুক্তি খুব একটা দূরে নয়। অনেক সৃজনশীল এবং প্রায়োগিক সমাধান এখন আমাদের নাগালের মধ্যে। প্রযুক্তি, নব্য চিন্তাধারা ও বৈশ্বিক নাগরিকদের বিস্ময়কর ক্ষমতা আমাদের একটি ‘নতুন সাহসী বিশ্ব’ সম্পর্কে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করছে। তবে এখনো আমাদের এই বিশ্ব উত্তেজনা ও ভীতিকর পরিস্থিতি থেকে মুক্ত নয়। বেশ কিছু স্থানে সহিংস সংঘাতের উন্মত্ততা অব্যাহত রয়েছে। অকারণে অগণিত মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। ”

এ প্রসঙ্গে আবেগঘন কণ্ঠে শেখ হাসিনা গত বছর সিরিয়ার শিশু আয়লান কুর্দির সাগরে ডুবে মারা যাওয়া এবং সম্প্রতি আরেক শিশু ওমরানের আহত হওয়ার কথা বলেন। বিশ্ববাসীর প্রতি প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘কী অপরাধ ছিল সাগরে ডুবে যাওয়া সিরিয়ার তিন বছর বয়সী নিষ্পাপ শিশু আয়লান কুর্দির? কী দোষ করেছিল পাঁচ বছরের শিশু ওমরান, যে আলেপ্পো শহরে নিজ বাড়িতে বসে বিমান হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে? একজন মা হিসেবে আমার পক্ষে এসব নিষ্ঠুরতা সহ্য করা কঠিন। বিশ্ব বিবেককে কি এসব ঘটনা নাড়া দেবে না?’

১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে অভিবাসী ও শরণার্থীবিষয়ক সম্মেলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, এই সম্মেলনের ফলাফল বর্তমান সময়ে অভিবাসনের ধারণা এবং বাস্তবতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে সাহায্য করবে। ’ শান্তির পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঢাকায় ‘শান্তি প্রতিষ্ঠা কেন্দ্র’ স্থাপনের সিদ্ধান্ত সহিংসতার কবল থেকে বেরিয়ে আসা দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ করে দেবে। ”

মধ্যপ্রাচ্য শান্তিপ্রক্রিয়া পুনরায় চালু ও ভ্রাতৃপ্রতিম ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি বৈরিতা নিরসনে সাম্প্রতিক প্রচেষ্টাগুলোকে সঠিক দিকে পরিচালিত করার ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নির্বিচারে হত্যার ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতা ও বিচার নিশ্চিত করতে জাতীয় বিচারিক প্রক্রিয়ার ভূমিকাকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধের চলমান বিচারের কথাও বলেন।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় গণহত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য স্থানীয় অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা বিগত কয়েক দশকের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। ’

গত বছর গৃহীত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধাপ্রাপ্তি নিশ্চিতের ওপর জোর দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘২০১৫ সালে আমরা একটি উচ্চাভিলাষী উন্নয়ন এজেন্ডা এসডিজি গ্রহণ করেছি। এই এজেন্ডার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে পশ্চাৎপদ দেশগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ও অর্থবহ অবলম্বনে রূপান্তরিত করা প্রয়োজন। এ জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। ’

তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত উন্নয়ন প্রতিশ্রুতিগুলোর সঠিক বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই স্বল্পোন্নত দেশগুলোর পক্ষে তাদের বর্তমান অবস্থান থেকে উত্তরণ সম্ভব। উদ্ভাবন এবং সম্ভাব্য সম্পদ সরবরাহ ব্যবস্থা জোরদার করতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য প্রস্তাবিত প্রযুক্তি ব্যাংককে দ্রুত কার্যকর করতে হবে। ’

এসডিজির বেশির ভাগ বিষয় বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালায় সম্পৃক্ত করার কথা জানিয়ে নিজের দেশের অগ্রযাত্রার একটি বিবরণও বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশের অনেক উন্নয়ন অর্জনকে হুমকির মুখোমুখি করছে জানিয়ে ঐতিহাসিক প্যারিস জলবায়ু চুক্তিটি অনুসমর্থনের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব বান কি মুনের ভূমিকার প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি সব সময়ই একজন বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নের অর্জনগুলোকে বাকি বিশ্বের জন্য ‘রোল মডেল’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ”

অভিন্ন নদীর পানির সমবণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ : অভিন্ন নদীর পানির সমবণ্টনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে পানিকে উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনায় নিতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পানিবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের এক প্যানেল সভায় (এইচএলপিডাব্লিউ) প্রধানমন্ত্রী এ বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘পানিবিষয়ক বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন নদীর পানির সমবণ্টনের পাশাপাশি নদী ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত পদক্ষেপ এবং পানিনির্ভর প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। ’ নিরাপদ খাবার পানি ও পয়োব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ বৈশ্বিক স্বীকৃতি পেয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশে এখন মোট জনসংখ্যার ৯৮ শতাংশই নিরাপদ পানি পান করছে এবং ৬৫ শতাংশ মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশনের সুবিধা পাচ্ছে।

টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে পানির আন্তসম্পর্কের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী এ ক্ষেত্রে ‘কিছু বাধা’ রয়েছে বলে জানান। এসব বাধা দূর করতে এখনই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

এসডিজি বাস্তবায়নে জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে কাজে লাগাতে হবে : জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাউকেই পেছনে ফেলে রাখা যাবে না—এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে জেন্ডার সংবেদনশীলতাকে গুরুত্বের সঙ্গে কাজে লাগাতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘প্রত্যেক নারী এবং মেয়েকে গণনা করার ধারণা নারীর ক্ষমতায়ন ও জেন্ডার সমতা বিষয়ে আমার নিজস্ব চিন্তাধারাকে প্রতিফলিত করে। কাউকে পেছনে ফেলে না রাখায় অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার কারণে এসডিজি বাস্তবায়নে আমাদের অবশ্যই জেন্ডার সংবেদনশীল পদ্ধতিকে লালন করতে হবে। ’

অস্ট্রেলীয় সরকার, ইউএন উইমেন, বিল অ্যান্ড মেরিন্ড গেটস্ ফাউন্ডেশন ও জাতিসংঘ ফেডারেশন/ডাটা ২ এক্স-এর উদ্যোগে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘মেকিং এভরি উইমেন অ্যান্ড গার্ল কাউন্ট’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক নারী দারিদ্র্যসীমার নিচে বা সম্পদহীনতার জন্য তাঁদের জীবন-মান দ্রুত পড়তে থাকায় বাংলাদেশে তাঁর সরকারের জেন্ডার-সংক্রান্ত এমডিজি কার্যক্রম ব্যাপকভাবে স্বীকৃত।

ব্যবসায়িক অঙ্গীকার রক্ষায় বিশ্বের স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান : দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ, ন্যায্যমূল্য ও উন্নয়ন অর্থায়নের সুযোগদানের ক্ষেত্রে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষায় বিশ্বের স্টেকহোল্ডারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘ডিসেন্ট ওয়ার্ক আন্ড ইনক্লুসিভ গ্রোথ’ বিষয়ক সোশ্যাল ডায়লগ-সংক্রান্ত গ্লোবাল ডিলের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেশে ও দেশের বাইরে সব ক্ষেত্রে অভিন্ন দায়িত্বশীলতা হিসেবে ব্যবসাকে যদি গণ্য করা হয় তাহলে আমরা আরো লাভবান হব। ’ সুইডিশ প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন লো ফেভেন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ ও ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ গ্রহণ : নারীর ক্ষমতায়নে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘প্লানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ এবং ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতিসংঘ প্লাজায় তাঁকে দেওয়া এক উচ্চপর্যায়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার গ্রহণের পর তিনি তা বাংলাদেশের মানুষকে উৎসর্গ করেন।

‘প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন’ পুরস্কারটি দেওয়া হয় ইউএন উইমেনের পক্ষ থেকে। আর ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড’ দেয় গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফোরাম। রিপাবলিক অব মাল্টার প্রেসিডেন্ট মারি লুইস কোলেরো প্রেকা এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের স্ত্রী বান সুন-টিকও এ বছর শেখ হাসিনার সঙ্গে এ পুরস্কার পেয়েছেন।

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ পুরস্কার আমাদের নারীদের জন্য এক স্বীকৃতি, যারা আমাদের পুরুষদের পাশে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে চলেছে। এই পুরস্কার আমি বাংলাদেশের মানুষকে উৎসর্গ করছি, যারা আমার পরিবর্তনের দর্শনকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। ’

বাংলাদেশি শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের সহায়তা কামনা : বাংলাদেশের শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নে সুইজারল্যান্ডের সহায়তা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অধিবেশনের সাইডলাইনে সুইজারল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট জোহান স্লেইডার আম্মানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। দুই নেতা বৈঠকে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। পরে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ইউরোপিয়ান কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ : বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানানোর জন্য জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন গতকাল সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে শেখ হাসিনা দেশে মধ্যবর্তী নির্বাচনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, ‘মধ্যবর্তী নির্বাচনের খবর কি যমুনা নদীর স্রোতে ভেসে এসেছে? এমন কি সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে যে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে?’

দেশে এখন সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক পরিবেশ বলবৎ থাকার কথা পুনরুল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমান গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যাতে কোনো মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন কাউন্সিলের মধ্যে কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন আওয়ামী লীগ একটি বড় রাজনৈতিক দল। তৃণমূল থেকে প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা এবং জেলায় দলের কাউন্সিল সম্পন্ন হয়েছে। এখন কেন্দ্রীয় কাউন্সিল (দলের) অনুষ্ঠিত হবে এবং এই কাউন্সিলররা নেতৃত্বের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ’

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলন পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব ইহসানুল করিম। অনুষ্ঠানে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী নেতারাসহ প্রধানমন্ত্রীর সফর সঙ্গীরাও উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য