kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঈদের সময় দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত

যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদন ১২ দিনে মোট দুর্ঘটনা ২১০টি

নিজস্ব প্রতিবেদক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



ঈদের সময় দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত

 ঈদুল আজহার সময় ২১০টি সড়ক, রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত ও এক হাজার ১৭৬ জন আহত হয়েছে। শুধু সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ২৪৮ জন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এ তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ তথ্য তুলে ধরেন।

সংগঠনটির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী ৭২টি মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় ১১২ জন নিহত হয়। ২৭টি বাসচাপার ঘটনায় ২৯ জন নিহত হয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ২০টি ঘটনায় ৩৪ জন নিহত হয়। আটটি ট্রাকচাপার ঘটনায় আটজন নিহত হয়।

যাত্রী কল্যাণ সমিতি জানায়, তিন বছর ধরে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে তারা। গত ঈদুল ফিতরের ছুটি স্বস্তিদায়ক ছিল। কিন্তু ঈদুল আজহার সময় যাতায়াতে ভোগান্তি ছিল। সড়ক দুর্ঘটনাও বেশি ছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী ঈদযাত্রার প্রথম দিন ৭ সেপ্টেম্বর থেকে গত ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২ দিনে ১৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৮ জন নিহত ও ১০৫৬ জন আহত হয়। আটটি নৌ দুর্ঘটনায় ১০ জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়। রেলে কাটা পড়ে সাতজন নিহত এবং চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ৫০ জন আহত হয়। এ সময় তিনটি রেল দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ সেপ্টেম্বর ১৬টি দুর্ঘটনায় ২১ জন নিহত ও ২৪ জন আহত হয়; ৮ সেপ্টেম্বর ১২টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়; ৯ সেপ্টেম্বর ১৪টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৮৫ জন আহত হয়; ১০ সেপ্টেম্বর ১৫টি দুর্ঘটনায় ২৮ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়; ১১ সেপ্টেম্বর ২০টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ১৭৬ জন আহত হয়; ১২ সেপ্টেম্বর ১৩টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হয়; ১৩ সেপ্টেম্বর ১০টি দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত ও ২১ জন আহত হয়; ১৪ সেপ্টেম্বর ২৭টি দুর্ঘটনায় ২৯ জন নিহত ও ১৬৪ জন আহত হয়; ১৫ সেপ্টেম্বর ১৩টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ৮৭ জন আহত হয়; ১৬ সেপ্টেম্বর ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ১৮৩ জন আহত হয়; ১৭ সেপ্টেম্বর ২৯টি দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত ও ১০৪ জন আহত হয় এবং ১৮ সেপ্টেম্বর ১৮টি দুর্ঘটনায় ২৪ জন নিহত ও ৯২ জন আহত হয়। মোট ২১০টি দুর্ঘটনায় ২৬৫ জন নিহত ও এক হাজার ১৭৬ জন আহত হয়।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি মনে করে, অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনক ওভারটেকিংসহ ২০টি কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। মহাসড়কে দ্রুত ও ধীরগতির গাড়ির জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা, দুর্ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা প্রভৃতি সুপারিশ করেছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দুদকের সাবেক চেয়ারম্যান ও কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা কাজী মাসুদ আহম্মেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি রুস্তম আলী খান, বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ইমার্জেন্সি মেডিক্যালের সভাপতি ও বারডেম হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবির, বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, নিরাপদ সড়ক চাই-এর যুগ্ম মহাসচিব গণি মিয়া বাবুল, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্যসচিব আমিনুল রসূল বাবুল, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেলের সদস্য মো. সামসুদ্দীন চৌধূরী, এম মিলাদ উদ্দিন মুন্না প্রমুখ।


মন্তব্য