kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতিসংঘের ক্ষমতা নিয়ে মহাসচিব

গুটিকয়েক রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি বিশ্ব

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



গুটিকয়েক রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি বিশ্ব

বিদায়বেলায় জাতিসংঘের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরে মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন, জাতিসংঘের  ক্ষমতা গুটিকয়েক রাষ্ট্রের হাতে কুক্ষিগত থাকায় সারা বিশ্ব ওই কয়েকটি রাষ্ট্রের হাতে জিম্মি। গত মঙ্গলবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া সব শেষ ভাষণে নিরাপত্তা পরিষদের সর্বময় ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

একই সঙ্গে তিনি জোরালোভাবে সামনে এনেছেন জাতিসংঘের সংস্কারের প্রশ্নটি।

এ ছাড়া অধিবেশনে বার্ষিক রিপোর্ট উপস্থাপন করতে গিয়ে মুন রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের উদ্দেশে বলেন, ‘সবার প্রতি আমার বার্তা স্পষ্ট। জনগণের সেবা করুন। গণতন্ত্রকে ধ্বংস করবেন না, দেশের সম্পদ লুণ্ঠন করবেন না, সমালোচকদের বন্দি করবেন না। তাদের নির্যাতন করবেন না। ’

তিনি সদস্য দেশগুলোর জাতীয় নেতাদের উদ্দেশে আরো বলেন, ‘সদস্য দেশগুলোর ক্ষমতাসীন নেতাদের বোঝা উচিত তাঁরা যে গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন এটি ওই সব দেশের মানুষের আস্থার প্রতিফলন। এই পদ তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়। ’

বক্তব্যের সারাংশে মুন বলেন, ‘একটি উপযুক্ত বিশ্ব নির্মাণে এখনো অনেক দেরি। তবে এই লক্ষ্য অর্জনের পথে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। দশ বছরে আমি বুঝেছি একত্রে কাজ করলে, ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে আমরা সেখানে পৌঁছতে পারব। ’

জাতিসংঘের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে মুন বলেন, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বিশ্বের সব দেশের সম্মতিই ভিত্তি হওয়া উচিত। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বচ্ছ ও কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করতে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। পরবর্তী মহাসচিবকে এ ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০১৫ সালের জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বিতর্কের অন্যতম মূল এজেন্ডা নির্ধারিত হয়েছিল খোদ ওই সংস্থাটির সংস্কারের প্রশ্ন। ২০১৬ সালের সাধারণ অধিবেশনেও সেই সংস্কার প্রশ্নকেই আবারও জোরালো করলেন বিদায়ী মহাসচিব বান কি মুন। তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘের কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে এর বড় ধরনের সংস্কার অপরিহার্য। ’

জাতিসংঘ পরিচালনার নীতি অনুযায়ী নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের হাতেই এর সব ক্ষমতা কুক্ষিগত। যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাধারণ পরিষদের কোনো ক্ষমতা নেই। নিরাপত্তা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য রাষ্ট্রের রায়ই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি রয়েছে নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া আর ফ্রান্সের ভেটো প্রদানের ক্ষমতা। চাইলেই এর একটি রাষ্ট্র যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিতে পারে।

নিরাপত্তা পরিষদের এই সর্বময় ক্ষমতাকে ইঙ্গিত করে বান কি মুন বলেন, ‘আমি প্রায়ই দেখেছি, বিশ্বের বহু বহু দেশের সমর্থিত কোনো প্রস্তাব সাধারণ সম্মতির নামে গুটিকয় রাষ্ট্র বাতিল করতে পারে। ’ ভেটো ক্ষমতার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো একটি রাষ্ট্রই অনেক দেশের সমর্থিত একটি প্রস্তাব বাতিল করে দিতে পারে। ’ গুটিকয় রাষ্ট্রের সাধারণ সম্মতিকে কোনোভাবেই সর্বসম্মতি ধরে নেওয়া যায় না মন্তব্য করেন মুন। তিনি বলেন, ‘যে বিশ্ব সংস্থাকে নিয়ে আমাদের এত আশা-আকাঙ্ক্ষা, তা ঠিক কেমন করে পরিচালিত হবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে বিশ্বের সব মানুষের। ’

জাতিসংঘে বিভিন্ন সময় আসা প্রস্তাবের বিষয়ে মুন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি দেখছি প্রায়ই ঐকমত্যের নামে কয়েকটি কিংবা একটি দেশের কারণে ব্যাপকভাবে সমর্থিত প্রস্তাবগুলোও বাতিল হয়ে যায়। এখন প্রশ্ন আসে এটি কি সঠিক? একটি দেশ কিংবা কয়েকটি দেশ মিলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখবে। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে বিশ্বকে জিম্মি করে রাখবে?’

বিশ্ব সংস্থাটির সংস্কারে পরবর্তী মহাসচিবকে আরো বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়ে মুন বলেন, ‘জনগণের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধ থাকা উচিত’। সূত্র : ডেইলি নেশন।


মন্তব্য