kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাশ্মীরে এবার পাক সেনাদের হামলার দাবি ভারতের

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



কাশ্মীরে এবার পাক সেনাদের হামলার দাবি ভারতের

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের উরিতে বন্দুকধারীদের হামলায় ১৮ সেনা নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে আবার অশান্ত হয়ে উঠেছে পাকিস্তানের সঙ্গের ওই সীমান্ত। ভারতের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, গতকাল মঙ্গলবার নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর উরি সেক্টরে ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।

জবাবে ভারতীয় সেনারাও পাল্টা গুলি চালায়। তবে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ভারতের এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এ ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

ভারতের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল রাজেশ কালিয়া বলেন, গতকাল সকালে নিয়ন্ত্রণরেখার কাছে উরি সেক্টরে ভারতীয় সেনা ছাউনি লক্ষ্য করে আচমকা গুলি চালাতে শুরু করে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী। জানা গেছে, ছোট আগ্নেয়াস্ত্র থেকে ২০ রাউন্ড গুলি চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। শত্রু মোকাবিলার জবাব দিতে অবশ্য দেরি করেনি ভারতীয় সেনারা। আক্রমণের পাল্টা জবাব হিসেবে গুলি চালান ভারতীয় জওয়ানরাও। ২০ মিনিট ধরে ওই গোলাগুলি চলে। পাকিস্তানের এ হামলাকে ২০০৩ সালে দুই দেশের মধ্যকার অস্ত্রবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন ওই মুখপাত্র।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর জ্যেষ্ঠ দুই কর্মকর্তা ওই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কোনো সদস্য কাশ্মীর সীমান্তে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ওপর গুলি চালাননি।

এদিকে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানকে কোণঠাসা করার নীতি নিয়েছে দিল্লি। ২৬/১১ মুম্বাই হামলার পরেও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইসলামাবাদকে একঘরে করার নীতি নিয়েছিল ভারত।

পাকিস্তানের যোগসাজশের প্রমাণ জাতিসংঘে দেবে দিল্লি : উরির সেনা ছাউনিতে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকার প্রমাণ জাতিসংঘে পেশ করবে দিল্লি। এ মাসের শেষের দিকে সাধারণ অধিবেশনে এ ব্যাপারে সব নথি তুলে ধরবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। উরিকাণ্ডের জেরে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে আন্তর্জাতিক মহলে ইসলামাবাদকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জঙ্গি হামলার চক্রান্তে পাকিস্তানি সেনা এবং আইএসআইয়ের মদদ দেওয়ার যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করার কাজ শুরু করেছে কেন্দ্র।

সদ্য সমাপ্ত ন্যাম সম্মেলনে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য একটি গোষ্ঠী তৈরির যে প্র্রস্তাব পেশ করেছিল দিল্লি, তাতে সর্বসম্মতি জানিয়েছে ১২০ সদস্য রাষ্ট্র। সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধের যে দাবি বারবার ভারত জানিয়ে এসেছে, জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে এর প্রতি সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করবেন সুষমা স্বরাজ।

কাশ্মীরে রক্তপাত বন্ধে ব্যবস্থা নিতে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি নওয়াজের আহ্বান : কাশ্মীরে রক্তপাত বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণে ভারতের প্রতি আহ্বান জানানোর অনুরোধসংবলিত একটি চিঠি জাতিসংঘে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্যদের কাছে এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাশ্মীর-সংক্রান্ত প্রস্তাব বাস্তবায়নের আহ্বানও জানানো হয়েছে এতে।

নওয়াজের চিঠিতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কাশ্মীর সংকটকে এ অঞ্চলের উত্তেজনা এবং অস্থিতিশীলতার অব্যাহত উৎস হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া চিঠিতে কাশ্মীর সংকটকে আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

কাশ্মীর সংকট নিরসনে নিজেদের দায়িত্ব পালনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রতি আহ্বানও জানান পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও চীন।

সার্ক সম্মেলনে মোদির অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা : উরি হামলার প্রেক্ষাপটে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সার্ক সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। দেশটির বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কাশ্মীরের সেনাঘাঁটিতে সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে নভেম্বরে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় সার্ক সম্মেলনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

উরিতে ওই হামলার দায় গতকাল পর্যন্ত কোনো সংগঠনের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়নি। তবে হামলার জন্য পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদকেই সন্দেহ করছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। জঙ্গি এ সংগঠন পাকিস্তানের সৃষ্টি এবং পাকিস্তানে থেকেই কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে বলে ভারত দাবি করে আসছে। সূত্র : সিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার।


মন্তব্য